ঢাকা ০৯:২০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी

বিশ্বকাপ ক্রিকেটে পাকিস্তানের অংশগ্রহনের সিদ্ধান্ত সরকারের কোটে

ক্রীড়া ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৭:৩৩:৩৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৬
  • / ৬১ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

আয়োজক ভারতে নিরাপত্তার কারণে বাংলাদেশ টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপ বয়কট করেছে। বাংলাদেশর ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কায় স্থানান্তরের আবেদনে সাড়া না দিয়ে আইসিসি বাংলাদেশকে ভারতে খেল‍াতে উল্টো শর্ত দিয়ে দেয়। আইসিসি জানিয়ে দেয় বাংলাদেশকে ভারতের মাটিতেই খেলতে হবে। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডও আইসিসি‘র এমন অযোক্তিক সিদ্ধান্ত মেনে নেয়নি। ভারতে গিয়ে খেলায় অস্বীকৃতি জানায়। এর ফলে আইসিসি বিকল্প দল হিসেবে স্কটল্যান্ডকে বিশ্বকাপে খেলানোর সুযোগ করে দেয়। আইসিসি’র এমন সিদ্বান্তে ক্রিকেট দুনিয়ায় ক্রমাগত সমালোচনার ঝড় বইছে।

বিষয়টি ভালো চোখে নেয়নি পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডর চেয়ারম্যান মোহসিন নাকভি ইতিমধ্যে  আ্‌সিসি‘র এমন সিদ্ধা্ন্তের কড়া সমালোচনা করেছেন। যদিও পাকিস্তান এরই মধ্যে বিশ্বকাপ দলও ঘোষনা করেছে। কিন্তু এরপরেও তাদের টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলার ভাগ্যটা এখনো অনিশ্চয়তায় দুলছে।

এক জ্যেষ্ঠ সরকারি সূত্র জানায়, ‘চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত প্রধানমন্ত্রীর হাতেই, তবে প্রাথমিক ইঙ্গিত বলছে, সরকার পাকিস্তানকে টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ নেয়ার অনুমতি নাও দিতে পারে। এটি শুধু ক্রিকেটের বিষয় নয়, এটি নীতির প্রশ্ন। বাংলাদেশকে তার ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে, আর আইসিসির সৎমায়ের মতো আচরণ পাকিস্তানকে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করেছে।’

সূত্রটি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনে একক কোনো দেশের ইচ্ছার কাছে শাসনব্যবস্থা জিম্মি থাকতে পারে না, ‘আন্তর্জাতিক খেলাধুলায় দ্বৈত মানদণ্ড চলতে পারে না। একদিকে ভারত ইচ্ছেমতো ভেন্যু বেছে নেয়ার স্বাধীনতা পায়, অন্যদিকে বাংলাদেশ নিরাপত্তা উদ্বেগ দেখিয়েও ভেন্যু পরিবর্তনের সুযোগ পায় না। আইসিসি যদি সত্যিই ক্রিকেটকে বৈশ্বিক খেলা হিসেবে এগিয়ে নিতে চায়, তাহলে এই বাছাইভিত্তিক নীতি বন্ধ করতে হবে।’

এদিকে বিষয়টি নিয়ে আজ সোমবার পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ ও পিসিবি চেয়ারম্যান মোহসিন নাকভির বৈঠক হয়েছে। সেখানে চলমান সমস্যার আদ্যপান্ত জেনে নিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী। বৈঠকের বিষয়টি পিসিবি চেয়ারম্যান নাকভি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক্সে (টুইটার) দেওয়া এক পোষ্টে নিশ্চিত করেছেন। একদিন আগে দল ঘোষনা করলেও পিসিবি প্রধান বিশ্বকাপ বয়কটের ইঙ্গিত দিয়ে রেখেছিলেন।তবে বিশ্বকাপে পাকিস্তানের অংশগ্রহণের সিদ্ধান্তটা দেশটির প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের হাতে ছেড়ে দেন তিনি।

বৈঠক শেষে এক্স পোস্টে নাকভি লেখেন, “আমি প্রধানমন্ত্রীকে আইসিসি সংক্রান্ত বিষয়গুলো বিস্তারিতভাবে জানিয়েছি। তিনি সব বিকল্প খোলা রেখে বিষয়টি সমাধানের নির্দেশ দিয়েছেন। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে শুক্রবার অথবা আগামী সোমবার।’’

এর আগে ইসলামাবাদে প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের সঙ্গে এক বৈঠকে বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে ব্রিফ করেন নাকভি। প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, “আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের মধ্যকার বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে বিস্তারিতভাবে অবহিত করেন মহসিন নাকভি।’’

মুস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল স্কোয়াড থেকে বাদ দেওয়ার পর নিরাপত্তা শঙ্কায় ভারতে বিশ্বকাপ ম্যাচ না খেলার সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ। তারা ম্যাচগুলো আরেক দেশ শ্রীলঙ্কায় সরিয়ে নেওয়ার অনুরোধ করেছিল আইসিসিকে। যদিও বিশ্ব ক্রিকেট সংস্থা কোনো নিরাপত্তা শঙ্কা খুঁজে না পাওয়ায় বাংলাদেশকে সিদ্ধান্ত পাল্টাতে বলেছিল। নয়তো বিশ্বকাপ থেকে বাদ পড়ার হুমকিও পেয়েছিল বাংলাদেশ, কিন্তু তারা তাদের সিদ্ধান্তে অটল ছিল। শেষ পর্যন্ত তাদেরকে সরিয়ে স্কটল্যান্ডকে বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ করে দিয়েছে ক্রিকেটের শীর্ষ সংস্থা।

এই পুরোটা সময়ে পাকিস্তান বাংলাদেশের পাশে ছিল। সবশেষ বোর্ড প্রধান মহসিন নাকভি জানান, তারাও বিশ্বকাপ বয়কটের চিন্তাভাবনা করছে, সবকিছু নির্ভর করছে সরকারের সিদ্ধান্তের ওপর। পাকিস্তান যদি বিশ্বকাপে অংশ না নেয় তাহলে আইসিসি বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়বে। টাইটেল স্পন্সররা বড় ধরনের লোকসানে পড়বে।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

বিশ্বকাপ ক্রিকেটে পাকিস্তানের অংশগ্রহনের সিদ্ধান্ত সরকারের কোটে

আপডেট সময় : ০৭:৩৩:৩৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৬

আয়োজক ভারতে নিরাপত্তার কারণে বাংলাদেশ টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপ বয়কট করেছে। বাংলাদেশর ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কায় স্থানান্তরের আবেদনে সাড়া না দিয়ে আইসিসি বাংলাদেশকে ভারতে খেল‍াতে উল্টো শর্ত দিয়ে দেয়। আইসিসি জানিয়ে দেয় বাংলাদেশকে ভারতের মাটিতেই খেলতে হবে। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডও আইসিসি‘র এমন অযোক্তিক সিদ্ধান্ত মেনে নেয়নি। ভারতে গিয়ে খেলায় অস্বীকৃতি জানায়। এর ফলে আইসিসি বিকল্প দল হিসেবে স্কটল্যান্ডকে বিশ্বকাপে খেলানোর সুযোগ করে দেয়। আইসিসি’র এমন সিদ্বান্তে ক্রিকেট দুনিয়ায় ক্রমাগত সমালোচনার ঝড় বইছে।

বিষয়টি ভালো চোখে নেয়নি পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডর চেয়ারম্যান মোহসিন নাকভি ইতিমধ্যে  আ্‌সিসি‘র এমন সিদ্ধা্ন্তের কড়া সমালোচনা করেছেন। যদিও পাকিস্তান এরই মধ্যে বিশ্বকাপ দলও ঘোষনা করেছে। কিন্তু এরপরেও তাদের টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলার ভাগ্যটা এখনো অনিশ্চয়তায় দুলছে।

এক জ্যেষ্ঠ সরকারি সূত্র জানায়, ‘চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত প্রধানমন্ত্রীর হাতেই, তবে প্রাথমিক ইঙ্গিত বলছে, সরকার পাকিস্তানকে টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ নেয়ার অনুমতি নাও দিতে পারে। এটি শুধু ক্রিকেটের বিষয় নয়, এটি নীতির প্রশ্ন। বাংলাদেশকে তার ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে, আর আইসিসির সৎমায়ের মতো আচরণ পাকিস্তানকে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করেছে।’

সূত্রটি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনে একক কোনো দেশের ইচ্ছার কাছে শাসনব্যবস্থা জিম্মি থাকতে পারে না, ‘আন্তর্জাতিক খেলাধুলায় দ্বৈত মানদণ্ড চলতে পারে না। একদিকে ভারত ইচ্ছেমতো ভেন্যু বেছে নেয়ার স্বাধীনতা পায়, অন্যদিকে বাংলাদেশ নিরাপত্তা উদ্বেগ দেখিয়েও ভেন্যু পরিবর্তনের সুযোগ পায় না। আইসিসি যদি সত্যিই ক্রিকেটকে বৈশ্বিক খেলা হিসেবে এগিয়ে নিতে চায়, তাহলে এই বাছাইভিত্তিক নীতি বন্ধ করতে হবে।’

এদিকে বিষয়টি নিয়ে আজ সোমবার পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ ও পিসিবি চেয়ারম্যান মোহসিন নাকভির বৈঠক হয়েছে। সেখানে চলমান সমস্যার আদ্যপান্ত জেনে নিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী। বৈঠকের বিষয়টি পিসিবি চেয়ারম্যান নাকভি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক্সে (টুইটার) দেওয়া এক পোষ্টে নিশ্চিত করেছেন। একদিন আগে দল ঘোষনা করলেও পিসিবি প্রধান বিশ্বকাপ বয়কটের ইঙ্গিত দিয়ে রেখেছিলেন।তবে বিশ্বকাপে পাকিস্তানের অংশগ্রহণের সিদ্ধান্তটা দেশটির প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের হাতে ছেড়ে দেন তিনি।

বৈঠক শেষে এক্স পোস্টে নাকভি লেখেন, “আমি প্রধানমন্ত্রীকে আইসিসি সংক্রান্ত বিষয়গুলো বিস্তারিতভাবে জানিয়েছি। তিনি সব বিকল্প খোলা রেখে বিষয়টি সমাধানের নির্দেশ দিয়েছেন। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে শুক্রবার অথবা আগামী সোমবার।’’

এর আগে ইসলামাবাদে প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের সঙ্গে এক বৈঠকে বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে ব্রিফ করেন নাকভি। প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, “আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের মধ্যকার বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে বিস্তারিতভাবে অবহিত করেন মহসিন নাকভি।’’

মুস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল স্কোয়াড থেকে বাদ দেওয়ার পর নিরাপত্তা শঙ্কায় ভারতে বিশ্বকাপ ম্যাচ না খেলার সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ। তারা ম্যাচগুলো আরেক দেশ শ্রীলঙ্কায় সরিয়ে নেওয়ার অনুরোধ করেছিল আইসিসিকে। যদিও বিশ্ব ক্রিকেট সংস্থা কোনো নিরাপত্তা শঙ্কা খুঁজে না পাওয়ায় বাংলাদেশকে সিদ্ধান্ত পাল্টাতে বলেছিল। নয়তো বিশ্বকাপ থেকে বাদ পড়ার হুমকিও পেয়েছিল বাংলাদেশ, কিন্তু তারা তাদের সিদ্ধান্তে অটল ছিল। শেষ পর্যন্ত তাদেরকে সরিয়ে স্কটল্যান্ডকে বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ করে দিয়েছে ক্রিকেটের শীর্ষ সংস্থা।

এই পুরোটা সময়ে পাকিস্তান বাংলাদেশের পাশে ছিল। সবশেষ বোর্ড প্রধান মহসিন নাকভি জানান, তারাও বিশ্বকাপ বয়কটের চিন্তাভাবনা করছে, সবকিছু নির্ভর করছে সরকারের সিদ্ধান্তের ওপর। পাকিস্তান যদি বিশ্বকাপে অংশ না নেয় তাহলে আইসিসি বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়বে। টাইটেল স্পন্সররা বড় ধরনের লোকসানে পড়বে।