ঢাকা ০২:১১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬, ২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी

বাংলাদেশের কাছে জেএফ-১৭ থান্ডার যুদ্ধবিমান বিক্রি করতে চায় পাকিস্তান

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৯:৫৮:২৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ জানুয়ারী ২০২৬
  • / ৫৯ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বাংলাদেশের কাছে চীন ও পাকিস্তানের যৌথভাবে তৈরি করা জেএফ-১৭ থান্ডার যুদ্ধবিমান বিক্রির বিষয়ে সম্ভাব্য একটি চুক্তি নিয়ে পাকিস্তান ও বাংলাদেশের বিমান বাহিনীর দুই প্রধানের আলোচনা হয়েছে। অস্ত্র রপ্তানির পরিধি বৃদ্ধি এবং বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করার লক্ষ্যে ইসলামাবাদ এই উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বলে বুধবার ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, পাকিস্তান অস্ত্র রপ্তানি বাড়ানো এবং বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার করার অংশ হিসেবেই এ উদ্যোগ নিয়েছে।
এই আলোচনা এমন এক সময়ে সামনে এসেছে, যখন পাকিস্তান গত বছরের মে মাসে ভারতের সঙ্গে সংঘর্ষে নিজেদের বিমানবাহিনীর সাফল্যকে আন্তর্জাতিক যুদ্ধাস্ত্রের বাজারে কাজে লাগাতে চাইছে। রয়টার্স বলছে, এটি ছিল প্রায় তিন দশকের মধ্যে পারমাণবিক অস্ত্রধারী ভারত ও পাকিস্তানের সবচেয়ে ভয়াবহ সামরিক সংঘর্ষ।

পাকিস্তানের আইএসপিআরের এক বিবৃতিতে বলা হয়, দেশটির বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল জহির আহমেদ বাবর সিধু এবং বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর প্রধান হাসান মাহমুদ খাঁন চীনের সঙ্গে যৌথভাবে উন্নয়ন করা বহুমুখী যুদ্ধবিমান জেএফ-১৭ থান্ডার ক্রয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন ইসলামাবাদে।
মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে পাকিস্তানের আইএসপিআর বলেছে, বাংলাদেশকে ‘সুপার মুশশাক’ প্রশিক্ষণ বিমান দ্রুত সরবরাহের আশ্বাস দিয়েছে পাকিস্তান। পাশাপাশি পূর্ণাঙ্গ প্রশিক্ষণ ও দীর্ঘমেয়াদি সহায়তার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে ইসলামাবাদ।

উষ্ণ হচ্ছে সম্পর্ক
রয়টার্স বলছে, এই আলোচনা দুই দেশের সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ হওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে। ২০২৪ সালের আগস্টে ব্যাপক বিক্ষোভের মুখে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতে পালিয়ে যাওয়ার পর থেকেই ঢাকা ও ইসলামাবাদের মধ্যে যোগাযোগ বেড়েছে। এরমধ্যে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কেও টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে।
পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই সফর দুই দেশের ‘শক্তিশালী ঐতিহাসিক সম্পর্ক’ তুলে ধরেছে এবং প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও গভীর করার যৌথ অঙ্গীকারের প্রতিফলন ঘটিয়েছে।
শেখ হাসিনার ক্ষমতা হারানোর পর, ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের পর প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে সরাসরি বাণিজ্য আলোচনা আবার শুরু হয়েছে। একইসঙ্গে দুই দেশের সামরিক কর্মকর্তাদের মধ্যে একাধিক বৈঠক হয়েছে বলে জানিয়েছে রয়টার্স।

নির্বাচন ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
নোবেলজয়ী মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে বাংলাদেশে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই নির্বাচনের পর পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক থাকা একটি ইসলামপন্থী দল রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

অস্ত্র রপ্তানিতে জোর পাকিস্তানের
জেএফ-১৭ যুদ্ধবিমান এই মুহূর্তে পাকিস্তানের অস্ত্র উন্নয়ন কর্মসূচির মূল ভিত্তি। রয়টার্স জানায়, আজারবাইজানের সঙ্গে চুক্তি এবং লিবিয়ান ন্যাশনাল আর্মির সঙ্গে চার বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র চুক্তিতেও এই বিমান রয়েছে। মঙ্গলবার পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ বলেন, অস্ত্র রপ্তানি দেশটির অর্থনীতির জন্য বড় সুযোগ হয়ে উঠতে পারে।
তিনি পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম জিও নিউজকে বলেন, ‘আমাদের বিমানগুলো পরীক্ষিত। আমরা এত বেশি অর্ডার পাচ্ছি যে ছয় মাসের মধ্যে পাকিস্তানের আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের প্রয়োজন নাও হতে পারে।’

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

বাংলাদেশের কাছে জেএফ-১৭ থান্ডার যুদ্ধবিমান বিক্রি করতে চায় পাকিস্তান

আপডেট সময় : ০৯:৫৮:২৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ জানুয়ারী ২০২৬

বাংলাদেশের কাছে চীন ও পাকিস্তানের যৌথভাবে তৈরি করা জেএফ-১৭ থান্ডার যুদ্ধবিমান বিক্রির বিষয়ে সম্ভাব্য একটি চুক্তি নিয়ে পাকিস্তান ও বাংলাদেশের বিমান বাহিনীর দুই প্রধানের আলোচনা হয়েছে। অস্ত্র রপ্তানির পরিধি বৃদ্ধি এবং বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করার লক্ষ্যে ইসলামাবাদ এই উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বলে বুধবার ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, পাকিস্তান অস্ত্র রপ্তানি বাড়ানো এবং বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার করার অংশ হিসেবেই এ উদ্যোগ নিয়েছে।
এই আলোচনা এমন এক সময়ে সামনে এসেছে, যখন পাকিস্তান গত বছরের মে মাসে ভারতের সঙ্গে সংঘর্ষে নিজেদের বিমানবাহিনীর সাফল্যকে আন্তর্জাতিক যুদ্ধাস্ত্রের বাজারে কাজে লাগাতে চাইছে। রয়টার্স বলছে, এটি ছিল প্রায় তিন দশকের মধ্যে পারমাণবিক অস্ত্রধারী ভারত ও পাকিস্তানের সবচেয়ে ভয়াবহ সামরিক সংঘর্ষ।

পাকিস্তানের আইএসপিআরের এক বিবৃতিতে বলা হয়, দেশটির বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল জহির আহমেদ বাবর সিধু এবং বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর প্রধান হাসান মাহমুদ খাঁন চীনের সঙ্গে যৌথভাবে উন্নয়ন করা বহুমুখী যুদ্ধবিমান জেএফ-১৭ থান্ডার ক্রয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন ইসলামাবাদে।
মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে পাকিস্তানের আইএসপিআর বলেছে, বাংলাদেশকে ‘সুপার মুশশাক’ প্রশিক্ষণ বিমান দ্রুত সরবরাহের আশ্বাস দিয়েছে পাকিস্তান। পাশাপাশি পূর্ণাঙ্গ প্রশিক্ষণ ও দীর্ঘমেয়াদি সহায়তার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে ইসলামাবাদ।

উষ্ণ হচ্ছে সম্পর্ক
রয়টার্স বলছে, এই আলোচনা দুই দেশের সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ হওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে। ২০২৪ সালের আগস্টে ব্যাপক বিক্ষোভের মুখে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতে পালিয়ে যাওয়ার পর থেকেই ঢাকা ও ইসলামাবাদের মধ্যে যোগাযোগ বেড়েছে। এরমধ্যে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কেও টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে।
পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই সফর দুই দেশের ‘শক্তিশালী ঐতিহাসিক সম্পর্ক’ তুলে ধরেছে এবং প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও গভীর করার যৌথ অঙ্গীকারের প্রতিফলন ঘটিয়েছে।
শেখ হাসিনার ক্ষমতা হারানোর পর, ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের পর প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে সরাসরি বাণিজ্য আলোচনা আবার শুরু হয়েছে। একইসঙ্গে দুই দেশের সামরিক কর্মকর্তাদের মধ্যে একাধিক বৈঠক হয়েছে বলে জানিয়েছে রয়টার্স।

নির্বাচন ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
নোবেলজয়ী মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে বাংলাদেশে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই নির্বাচনের পর পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক থাকা একটি ইসলামপন্থী দল রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

অস্ত্র রপ্তানিতে জোর পাকিস্তানের
জেএফ-১৭ যুদ্ধবিমান এই মুহূর্তে পাকিস্তানের অস্ত্র উন্নয়ন কর্মসূচির মূল ভিত্তি। রয়টার্স জানায়, আজারবাইজানের সঙ্গে চুক্তি এবং লিবিয়ান ন্যাশনাল আর্মির সঙ্গে চার বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র চুক্তিতেও এই বিমান রয়েছে। মঙ্গলবার পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ বলেন, অস্ত্র রপ্তানি দেশটির অর্থনীতির জন্য বড় সুযোগ হয়ে উঠতে পারে।
তিনি পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম জিও নিউজকে বলেন, ‘আমাদের বিমানগুলো পরীক্ষিত। আমরা এত বেশি অর্ডার পাচ্ছি যে ছয় মাসের মধ্যে পাকিস্তানের আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের প্রয়োজন নাও হতে পারে।’