অনেক কিছু নিজের নিয়ন্ত্রণের বাহিরে, বিসিবি সভাপতি পদে নির্বাচন প্রসঙ্গে বুলবুল

- আপডেট সময় : ১০:৪৮:১৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৫
- / ৪৮ বার পড়া হয়েছে
ছিলেন ক্রিকেটার,পালন করেছিলেন ক্লাব ক্রিকেটের কোচিং দ্বায়িত্ব। এরপর লম্বা সময়িএশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলে চাকুরি নিয়ে বিভিন্ন দেশে চষে বেড়িয়েছেন ক্রিকেট ডেভেলপমেন্টে কাজ করে। সেই আমিনুল ইসলাম বুলবুলই এখন দেশের ক্রিকেটের বস হয়ে গেলেন কিছুদিন আগে। ফ্যাসিস্ট সরকারের বিদায়ের পর নাজমুল হাসান পাপনের জায়গায় বসানো হয় সাবেক ক্রিকেটার ফারুক আহমেদকে। কিন্তু সময়টা বেশি দিন যায়নি তার। সরকার পরিবর্তন আনলেন ক্রিকেট বসের জায়গায়।
সেই পদেই এখন দ্বায়িত্ব পালেন করছেন অভিযেখ টেস্ট সেঞ্চিুরিয়ান আমিনুল ইসলাম বুলবুল। চলতি বছরের মে মাসে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) নতুন সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন তিনি। দায়িত্ব গ্রহণের পর ক্রিকেটকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন তিনি। তবে খুব বেশি দিন মেয়াদ নেই চলতি পরিচালনা পর্ষদের। সামনেই আসছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) নির্বাচন। যে কারণে আলোচনায় পরবর্তী নির্বাচন চলে আসাই স্বাভাবিক।
নিয়মের মধ্যে ভোট হয়ে থাকলেও বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে বিসিবি সভাপতি পদটি একটি অলঙ্কার স্বরুপ। রাজনৈতিকভাবে এই পদের বন্টন হয়ে আসছে বিগত সময়। আগামীতেও তেমনি হওয়ার ধারনাটা সবার। তাই বিসিবিতে ক্রিকেট সাংগঠনিক দক্ষতার চেয়ে রাজনৈতিক পরিচয়টা অনেক বড় হয়ে থাকছে।
আমিনুল ইসলাম বুলবুলের ক্রিকেট উন্নয়নে যথেষ্ট মেধা থাকলেও পরবর্তী নির্বাচনের তার নির্বাচনে অংশ নেয়া বা না নেয়াটা একান্তুই রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত! এখন প্রশ্ন হচ্ছে নির্বাচনটা হচ্ছে কবে? নিয়ম অনুযায়ী জাতীয় নির্বাচনর আগেই বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের নির্বাচন হওয়ার কথা। বিসিবি নির্বাচনী সময় সূচিতে সে রকমই থাকার কথা।
কিন্তু ক্রিকেটের আকাশে উড়ছে বিসিবি নির্বাচন পিছিয়ে যেতে পারে। জাতীয় নির্বাচনের পর আয়োজন হতে বিসিবি নির্বাচন। আর এটি যদি সত্য হিসেবে ধরে নেয়া যায়,এখানে বিসিবি সভাপতি পদে আমিনুল ইসলাম বুলবুলের দাড়ানোর কোনই সুযোগ নেই।
তবে সঠিক সময় নির্বাচন হলে অর্থাৎ জাতীয় নির্বাচনের আগেই যদি বিসিবি নির্বাচন হয় সে ক্ষেত্রে নির্বাচনে দাড়ানোর একটি সুযোগ রয়েছে বুলবুলের। সেখানেও জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের চাওয়ার উপর নির্ভর করছে। কারণ এখানে এনএসসি থেকে মনোনীত হতে হবে বোর্ড পরিচালক হিসেবে। এরপর বোর্ড পরিচালকদের ভোটে সভাপতির নির্বাচিত হতে হবে।
তাইতো বিসিবি সভাপতি পদে বসেই বুলবুল অভিব্যক্তি প্রকাশ করে তার সময়কালকে তুলনা করেছিলেন টি-টুয়েন্টি ম্যাচের সঙ্গে। আর এই সময়টায় তিনি যতোটা সম্ভব দেশের ক্রিকেটকে সাজানোর চেষ্টা করে যাবেন। তাই নির্বাচনে মনোযোগ না দিয়ে ডে ওয়ান থেকে বুলবুল ক্রিকেট উন্নয়নে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল ঘুরে বেড়াচ্ছেন।
আজ বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামেও গিয়েছিলেন তেমনি কাজে। কিন্তু গণমাধ্যমের মুখোমুখি হতেই আবারো বিসিবি সভাপতি হওয়ার প্রসঙ্গটি উঠে আসে মিডিয়ার প্রশ্নে। তার উত্তরে তিনি বলেন, ‘অনেক কিছুই নিজের নিয়ন্ত্রণের বাইরে।’
পরে বুলবুল বলেন, ‘আমার ব্যক্তিগত যে ইচ্ছা… দেখুন আমি এখানে হঠাৎ করে এসেছি এবং একটা দায়িত্ব নিয়ে এসেছি। আমার পার্মানেন্ট সব কিছু ছিল। সব ছেড়ে এসেছি দেশের জন্য। সে কাজ যতদিন করা সম্ভব করলাম। পরবর্তীতে, সেখানে আমার হাত নেই।’
বিসিবির পরিচালনা পর্ষদে দুজন বোর্ড পরিচালক বেছে নেওয়া হয় জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ থেকে। বুলবুল জানান, ‘আমি ও ফাহিম ভাই এনএসসির কাউন্সিলর। এটা অনেক কিছুর ওপর নির্ভর করছে। প্রথমে এনএসসি আমাকে কাউন্সিলর করতে হবে। তারপর একটা বোর্ড আসবে, সেই বোর্ডের পরিচালকরা প্রেসিডেন্ট বানাবে। এটা অনেক দূরের কথা। এখন আমার যে কাজ সেখানেই ফোকাস করছি।’