ঢাকা ০২:৩৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০২ এপ্রিল ২০২৬, ১৮ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी

কোন পথে হাঁটছে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ০৯:৫২:৫৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ এপ্রিল ২০২৬
  • / ৪৪ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বিগত সরকারের সময় শিক্ষা ব্যবস্থার উপর নানা ধরনের পরীক্ষা চালানো হয়। একেক শিক্ষামন্ত্রীর একেক ধরনের পরীক্ষামূলক অভিযানের পর দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার বারোটা বেজে ওঠে। এসএসসি এবং এইচ এসসিতে ব্যাপক হারে পাশের সংখ্যা দেখানো হয়। এই ছিলো যেন ভিন্ন এক প্রতিযোগিতা। কোন শিক্ষামন্ত্রী কতো বেশি পাশের হার দেখাতে পারবেন সেটাই ছিলো যেন মূখ্য। সেখানে আবার দেখা যায় জিপিএ ফাইভের ছড়াছড়ি। অথচ এসব শিক্ষার্থীরা পরবর্তীতে ভালো কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে না পারার হতাশায় ভুগতে দেখা যায়। আবার অন্তর্বর্তী সরকারের সময় দেখা গেছে অটোপাশ।

এবার দ্বায়িত্বে আছে নতুন সরকার। নতুন শিক্ষামন্ত্রী, এহসানুল হক মিলন। বিএনপি’র বিগত আমলে এই শিক্ষামন্ত্রীর আবার বেশ গুনগানও রয়েছে। শিক্ষার্থীদের মধ্যে ইতিমধ্যে ভীতি ধরে গেছে। আগামীর পরীক্ষাগুলোতে ছেড়ে দেয়া হবে না।

ইতিমধ্যে শিক্ষামন্ত্রী থেকে কড়া নির্দেশনাও দেয়া হয়েছে। প্রশ্নপত্র ফাাঁসে থাকবে ‘জিরো টলারেন্স’। এই নীতির আওতায় শুধু পরীক্ষার্থীরাই নয়, কোনো ধরনের অনিয়ম প্রমাণিত হলে দায়িত্বরত কর্মকর্তাদেরও চাকরিচ্যুতির মতো কঠোর হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
একই সঙ্গে ডিজিটাল ট্র্যাকিং, সিসিটিভি নজরদারি এবং প্রশ্নপত্রের ত্রিস্তরীয় নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে এবারের পাবলিক পরীক্ষা গুলো। এখানে কোন ধরনের ছাড় দিবে না সরকার।

শিক্ষামন্ত্রীও স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, এবার খাতায় কোনো ধরনের ‘গ্রেস মার্ক’ বা অনুকম্পার সুযোগ থাকবে না; শিক্ষার্থীরা যা লিখবে, তার ভিত্তিতেই প্রকৃত নম্বর প্রদান করা হবে। মেধার এই লড়াইকে স্বচ্ছ করতে প্রতিটি পরীক্ষা কেন্দ্রকে আনা হচ্ছে সিসিটিভি ক্যামেরার কঠোর নজরবন্দিতে। শুধু ক্যামেরা স্থাপনই নয়, ধারণকৃত ফুটেজ প্রতি সাত দিন অন্তর সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মেধার প্রকৃত মূল্যায়নে ডিজিটাল ট্র্যাকিং, সিসিটিভি নজরদারি এবং বিশেষ ‘ফয়েল প্যাক’ ও ‘ওয়ান টাইম’ সিকিউরিটি খামের মাধ্যমে প্রশ্নপত্রের ত্রিস্তরীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হচ্ছে। পরীক্ষায় কোনো ধরনের অনিয়ম প্রমাণিত হলে দায়ী কর্মকর্তাদের তাৎক্ষণিক চাকরিচ্যুতির মতো নজিরবিহীন কঠোর হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া, প্রশ্নপত্র সুরক্ষায় এবার প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করা হচ্ছে। বিজি প্রেস থেকে প্রশ্নগুলো প্রথমে বিশেষ ‘ফয়েল প্যাকে’ এবং পরবর্তীতে একটি ‘ওয়ান টাইম’ সিকিউরিটি খামে ভরা হচ্ছে। এই খামটি এমনভাবে তৈরি যে, একবার খোলা হলে তা আর পুনরায় লাগানো সম্ভব নয়। ট্রেজারি থেকে প্রশ্ন কেন্দ্রে নেওয়ার সময় একজন ট্যাগ অফিসার সার্বক্ষণিক উপস্থিত থাকবেন এবং পরীক্ষা শুরুর মাত্র ১৫ থেকে ২০ মিনিট আগে সবার উপস্থিতিতে খাম খোলা হবে। ফলে প্রশ্ন ফাঁসের চিরাচরিত ছিদ্রপথগুলো এবার পুরোপুরি বন্ধ হতে যাচ্ছে।

কেন্দ্রে প্রবেশের আগে প্রতিটি শিক্ষার্থীকে নিবিড় ‘নিরাপত্তা চেক’ পার হতে হবে। পরীক্ষার্থীদের দেহ তল্লাশি করে ভেতরে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে; নারী পরীক্ষার্থীদের তল্লাশির জন্য নারী শিক্ষকের উপস্থিতি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এছাড়া, কেন্দ্রসচিব ব্যতীত অন্য কোনো শিক্ষক বা কর্মকর্তা পরীক্ষা কেন্দ্রে মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে পারবেন না।

এমন কি প্রশ্ন ফাঁসের গুজব ছড়িয়ে যারা সাধারণ শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করবে, তাদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক জেল-জরিমানাসহ কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোতে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর বিশেষ শাখা সার্বক্ষণিক নজরদারি করবে।

পরীক্ষায় কড়াকাড়ি করা শিক্ষামন্ত্রী এহসানুল হক মিলনের চিরাচরিত নিয়ম।কিন্তু শিক্ষা্ প্রতিষ্ঠানগুলোতে হঠাৎ নতুন সিদ্ধান্ত নিয়ে চলছে নানা আতঙ্ক এবং গুঞ্জন।বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সারাদেশে স্কুলগুলোতে অনলাইন ও অফলাইন দুভাবেই ক্লাস নেওয়ার পরিকল্পনা করছে সরকার। পাশাপাশি সপ্তাহে ছয় দিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠদান কার্যক্রম পরিচালনা করা হতে পারে। যেখানে তিনদিন অনলাইন ও তিনদিন ক্লাস হবে অফলাইনে। সরকারের এই সিদ্ধান্ত নিয়ে সচেতনদের মধ্যে এক ধরণের আতঙ্ক বিরাজ করছে। এতে করে স্কুল পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের আবারো মোবাইল রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। এই মোবাইল ব্যবহার নিয়ে অভিবাবকদের মধ্য থেকে ব্যাপক অভিযোগ। সন্তানরা সারাক্ষন মোবাইল নিয়ে পড়ে থাকে। এখন সরকার থেকেই যেন শিক্ষার্থীদের এই ব্যবস্থাকে আরো সহজ করে দিয়েছে। এতে পড়া লেখার পোয়া বারোটা বাজার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ছয় দিনের ক্লাস নেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানান শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। এবং এটি চূড়ান্ত।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

কোন পথে হাঁটছে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা

আপডেট সময় : ০৯:৫২:৫৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ এপ্রিল ২০২৬

বিগত সরকারের সময় শিক্ষা ব্যবস্থার উপর নানা ধরনের পরীক্ষা চালানো হয়। একেক শিক্ষামন্ত্রীর একেক ধরনের পরীক্ষামূলক অভিযানের পর দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার বারোটা বেজে ওঠে। এসএসসি এবং এইচ এসসিতে ব্যাপক হারে পাশের সংখ্যা দেখানো হয়। এই ছিলো যেন ভিন্ন এক প্রতিযোগিতা। কোন শিক্ষামন্ত্রী কতো বেশি পাশের হার দেখাতে পারবেন সেটাই ছিলো যেন মূখ্য। সেখানে আবার দেখা যায় জিপিএ ফাইভের ছড়াছড়ি। অথচ এসব শিক্ষার্থীরা পরবর্তীতে ভালো কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে না পারার হতাশায় ভুগতে দেখা যায়। আবার অন্তর্বর্তী সরকারের সময় দেখা গেছে অটোপাশ।

এবার দ্বায়িত্বে আছে নতুন সরকার। নতুন শিক্ষামন্ত্রী, এহসানুল হক মিলন। বিএনপি’র বিগত আমলে এই শিক্ষামন্ত্রীর আবার বেশ গুনগানও রয়েছে। শিক্ষার্থীদের মধ্যে ইতিমধ্যে ভীতি ধরে গেছে। আগামীর পরীক্ষাগুলোতে ছেড়ে দেয়া হবে না।

ইতিমধ্যে শিক্ষামন্ত্রী থেকে কড়া নির্দেশনাও দেয়া হয়েছে। প্রশ্নপত্র ফাাঁসে থাকবে ‘জিরো টলারেন্স’। এই নীতির আওতায় শুধু পরীক্ষার্থীরাই নয়, কোনো ধরনের অনিয়ম প্রমাণিত হলে দায়িত্বরত কর্মকর্তাদেরও চাকরিচ্যুতির মতো কঠোর হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
একই সঙ্গে ডিজিটাল ট্র্যাকিং, সিসিটিভি নজরদারি এবং প্রশ্নপত্রের ত্রিস্তরীয় নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে এবারের পাবলিক পরীক্ষা গুলো। এখানে কোন ধরনের ছাড় দিবে না সরকার।

শিক্ষামন্ত্রীও স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, এবার খাতায় কোনো ধরনের ‘গ্রেস মার্ক’ বা অনুকম্পার সুযোগ থাকবে না; শিক্ষার্থীরা যা লিখবে, তার ভিত্তিতেই প্রকৃত নম্বর প্রদান করা হবে। মেধার এই লড়াইকে স্বচ্ছ করতে প্রতিটি পরীক্ষা কেন্দ্রকে আনা হচ্ছে সিসিটিভি ক্যামেরার কঠোর নজরবন্দিতে। শুধু ক্যামেরা স্থাপনই নয়, ধারণকৃত ফুটেজ প্রতি সাত দিন অন্তর সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মেধার প্রকৃত মূল্যায়নে ডিজিটাল ট্র্যাকিং, সিসিটিভি নজরদারি এবং বিশেষ ‘ফয়েল প্যাক’ ও ‘ওয়ান টাইম’ সিকিউরিটি খামের মাধ্যমে প্রশ্নপত্রের ত্রিস্তরীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হচ্ছে। পরীক্ষায় কোনো ধরনের অনিয়ম প্রমাণিত হলে দায়ী কর্মকর্তাদের তাৎক্ষণিক চাকরিচ্যুতির মতো নজিরবিহীন কঠোর হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া, প্রশ্নপত্র সুরক্ষায় এবার প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করা হচ্ছে। বিজি প্রেস থেকে প্রশ্নগুলো প্রথমে বিশেষ ‘ফয়েল প্যাকে’ এবং পরবর্তীতে একটি ‘ওয়ান টাইম’ সিকিউরিটি খামে ভরা হচ্ছে। এই খামটি এমনভাবে তৈরি যে, একবার খোলা হলে তা আর পুনরায় লাগানো সম্ভব নয়। ট্রেজারি থেকে প্রশ্ন কেন্দ্রে নেওয়ার সময় একজন ট্যাগ অফিসার সার্বক্ষণিক উপস্থিত থাকবেন এবং পরীক্ষা শুরুর মাত্র ১৫ থেকে ২০ মিনিট আগে সবার উপস্থিতিতে খাম খোলা হবে। ফলে প্রশ্ন ফাঁসের চিরাচরিত ছিদ্রপথগুলো এবার পুরোপুরি বন্ধ হতে যাচ্ছে।

কেন্দ্রে প্রবেশের আগে প্রতিটি শিক্ষার্থীকে নিবিড় ‘নিরাপত্তা চেক’ পার হতে হবে। পরীক্ষার্থীদের দেহ তল্লাশি করে ভেতরে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে; নারী পরীক্ষার্থীদের তল্লাশির জন্য নারী শিক্ষকের উপস্থিতি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এছাড়া, কেন্দ্রসচিব ব্যতীত অন্য কোনো শিক্ষক বা কর্মকর্তা পরীক্ষা কেন্দ্রে মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে পারবেন না।

এমন কি প্রশ্ন ফাঁসের গুজব ছড়িয়ে যারা সাধারণ শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করবে, তাদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক জেল-জরিমানাসহ কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোতে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর বিশেষ শাখা সার্বক্ষণিক নজরদারি করবে।

পরীক্ষায় কড়াকাড়ি করা শিক্ষামন্ত্রী এহসানুল হক মিলনের চিরাচরিত নিয়ম।কিন্তু শিক্ষা্ প্রতিষ্ঠানগুলোতে হঠাৎ নতুন সিদ্ধান্ত নিয়ে চলছে নানা আতঙ্ক এবং গুঞ্জন।বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সারাদেশে স্কুলগুলোতে অনলাইন ও অফলাইন দুভাবেই ক্লাস নেওয়ার পরিকল্পনা করছে সরকার। পাশাপাশি সপ্তাহে ছয় দিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠদান কার্যক্রম পরিচালনা করা হতে পারে। যেখানে তিনদিন অনলাইন ও তিনদিন ক্লাস হবে অফলাইনে। সরকারের এই সিদ্ধান্ত নিয়ে সচেতনদের মধ্যে এক ধরণের আতঙ্ক বিরাজ করছে। এতে করে স্কুল পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের আবারো মোবাইল রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। এই মোবাইল ব্যবহার নিয়ে অভিবাবকদের মধ্য থেকে ব্যাপক অভিযোগ। সন্তানরা সারাক্ষন মোবাইল নিয়ে পড়ে থাকে। এখন সরকার থেকেই যেন শিক্ষার্থীদের এই ব্যবস্থাকে আরো সহজ করে দিয়েছে। এতে পড়া লেখার পোয়া বারোটা বাজার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ছয় দিনের ক্লাস নেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানান শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। এবং এটি চূড়ান্ত।