ঢাকা ০৫:১০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১০ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी

চীন-বাংলাদেশ সম্পর্ককে কোন তৃতীয় পক্ষ প্রভাবিত করতে পারবে না

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৭:৫৬:০৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / ৪৪ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বাইরের কোনো চাপ বা তৃতীয় পক্ষ চীন-বাংলাদেশ সম্পর্ককে প্রভাবিত করতে পারবে না বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন। নতুন সরকার খুব শিগগিরই তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন শুরু করবে বলেও প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন রাষ্ট্রদূত।
রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান ও প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ মন্তব্য করেন তিনি।

ইয়াও ওয়েন বলেন, চীন বাংলাদেশের নতুন সরকারের ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নীতিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সমর্থন জানাচ্ছে এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার অঙ্গীকার করেছে।
তিস্তা প্রকল্প নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তিস্তা প্রকল্প নিয়ে আলোচনা চলমান রয়েছে। এটি শিগগিরই শুরু হবে, এটি আমার অন্যতম প্রত্যাশা।

পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে প্রথম বৈঠক সম্পর্কে চীনা রাষ্ট্রদূত বলেন, বৈঠকটি আন্তরিক ও বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। উভয় পক্ষ চীন-বাংলাদেশ সম্পর্ক, অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও রোহিঙ্গা সংকটসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে গভীর ও বাস্তবসম্মত আলোচনায় অংশ নিয়েছে।

ইয়াও ওয়েন আরও বলেন, সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ১৪তম সংসদ নির্বাচন শান্তিপূর্ণ ও স্বাভাবিকভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এটি বাংলাদেশের গণতন্ত্রের জন্য এক বিজয় এবং দেশের জনগণের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ অর্জন।

তিনি বলেন, চীন বাংলাদেশের জন্য একটি সার্বিক, কৌশলগত ও সহযোগী অংশীদার। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন সরকারের সুষ্ঠু শাসন নিশ্চিত করতে চীন সমর্থন প্রকাশ করেছে। চীন-বাংলাদেশ সম্পর্কের ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পিতা, প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং পরবর্তীতে তা আরও দৃঢ় হয় তার মায়ের প্রধানমন্ত্রিত্বকালে। এই ঐতিহ্যকে আরও এগিয়ে নিতে চীন প্রস্তুত।

রাষ্ট্রদূত বলেন, চীন বাংলাদেশের সংহতি, স্থিতিশীলতা, সার্বভৌমত্ব, স্বাধীনতা এবং ভূখণ্ডীয় অখণ্ডতা রক্ষায় সমর্থন দেয়। বাংলাদেশ ফার্স্ট নীতি অনুসারে চীন বাংলাদেশের আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা গ্রহণে সহযোগিতা করবে।

বৈঠকে তিস্তা নদী সম্পর্কিত প্রকল্পসহ অন্যান্য দীর্ঘমেয়াদি প্রকল্প বাস্তবায়নের অঙ্গীকার করা হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
ইয়াও ওয়েন জানান, বাংলাদেশের আত্মনির্ভরশীল, সুরক্ষিত ও গণতান্ত্রিক উন্নয়নের জন্য চাকরির সুযোগ সৃষ্টি, বিনিয়োগ, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে চীনের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।

বাংলাদেশের ওপর চীনের প্রভাব কমাতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের চাপ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাইরের কোনো চাপ বা তৃতীয় পক্ষ চীন-বাংলাদেশ সম্পর্ককে প্রভাবিত করতে পারবে না। উভয় দেশই দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা আরও শক্তিশালী করতে এবং চলমান প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন অব্যাহত রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

চীন-বাংলাদেশ সম্পর্ককে কোন তৃতীয় পক্ষ প্রভাবিত করতে পারবে না

আপডেট সময় : ০৭:৫৬:০৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

বাইরের কোনো চাপ বা তৃতীয় পক্ষ চীন-বাংলাদেশ সম্পর্ককে প্রভাবিত করতে পারবে না বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন। নতুন সরকার খুব শিগগিরই তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন শুরু করবে বলেও প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন রাষ্ট্রদূত।
রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান ও প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ মন্তব্য করেন তিনি।

ইয়াও ওয়েন বলেন, চীন বাংলাদেশের নতুন সরকারের ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নীতিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সমর্থন জানাচ্ছে এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার অঙ্গীকার করেছে।
তিস্তা প্রকল্প নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তিস্তা প্রকল্প নিয়ে আলোচনা চলমান রয়েছে। এটি শিগগিরই শুরু হবে, এটি আমার অন্যতম প্রত্যাশা।

পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে প্রথম বৈঠক সম্পর্কে চীনা রাষ্ট্রদূত বলেন, বৈঠকটি আন্তরিক ও বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। উভয় পক্ষ চীন-বাংলাদেশ সম্পর্ক, অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও রোহিঙ্গা সংকটসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে গভীর ও বাস্তবসম্মত আলোচনায় অংশ নিয়েছে।

ইয়াও ওয়েন আরও বলেন, সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ১৪তম সংসদ নির্বাচন শান্তিপূর্ণ ও স্বাভাবিকভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এটি বাংলাদেশের গণতন্ত্রের জন্য এক বিজয় এবং দেশের জনগণের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ অর্জন।

তিনি বলেন, চীন বাংলাদেশের জন্য একটি সার্বিক, কৌশলগত ও সহযোগী অংশীদার। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন সরকারের সুষ্ঠু শাসন নিশ্চিত করতে চীন সমর্থন প্রকাশ করেছে। চীন-বাংলাদেশ সম্পর্কের ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পিতা, প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং পরবর্তীতে তা আরও দৃঢ় হয় তার মায়ের প্রধানমন্ত্রিত্বকালে। এই ঐতিহ্যকে আরও এগিয়ে নিতে চীন প্রস্তুত।

রাষ্ট্রদূত বলেন, চীন বাংলাদেশের সংহতি, স্থিতিশীলতা, সার্বভৌমত্ব, স্বাধীনতা এবং ভূখণ্ডীয় অখণ্ডতা রক্ষায় সমর্থন দেয়। বাংলাদেশ ফার্স্ট নীতি অনুসারে চীন বাংলাদেশের আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা গ্রহণে সহযোগিতা করবে।

বৈঠকে তিস্তা নদী সম্পর্কিত প্রকল্পসহ অন্যান্য দীর্ঘমেয়াদি প্রকল্প বাস্তবায়নের অঙ্গীকার করা হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
ইয়াও ওয়েন জানান, বাংলাদেশের আত্মনির্ভরশীল, সুরক্ষিত ও গণতান্ত্রিক উন্নয়নের জন্য চাকরির সুযোগ সৃষ্টি, বিনিয়োগ, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে চীনের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।

বাংলাদেশের ওপর চীনের প্রভাব কমাতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের চাপ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাইরের কোনো চাপ বা তৃতীয় পক্ষ চীন-বাংলাদেশ সম্পর্ককে প্রভাবিত করতে পারবে না। উভয় দেশই দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা আরও শক্তিশালী করতে এবং চলমান প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন অব্যাহত রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।