ঢাকা ০৫:৪৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৬ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी

তরুণ-প্রবীনে মিশ্রিত তারেক রহমানের মন্ত্রীসভা

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ১১:০৭:০৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / ৪২ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

সকল জল্পনা-কল্পনার পর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলো গত ১২ ফেব্রুয়ারী। দুই তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি ১৭ ফেব্রুয়ারী শপথ গ্রহনের মধ্য দিয়ে সরকার গঠন করেছে। তারেক রহমানের নেতৃত্বে মন্ত্রণালয়ও বন্টন হয়ে গেছে। সংসদ সদস্যদের শপথ পড়িয়েছেন নির্বাচন কমিশনার। দেশের এগারতম প্রধানমন্ত্রী হন তারেক রহমানকে শপথ পাঠ করিয়েছেন রাষ্ট্রপতি চুপ্পু। ভাগ্যবান এই রাষ্ট্রপতি শেখ হাসিনাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ পাঠ করানোর পর দেশের পটভূমি পরিবর্তনের পর অন্তর্বর্তী সরকার প্রধানকে শপথ পাঠ করান। এবার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানকে শপথ পাঠ করিয়েছেন তিনি।

দেশ পরিচালনার দ্বায়িত্ব পেলো জিয়া পরিবারের দ্বিতীয় প্রজম্ম। সতের বছর নির্বাসনে থাকার পর দেশে ফিরেই একমাসের নির্বাচনী প্রচারণায় নির্বাচিত হয়ে দেশ পরিচালনার দ্বায়িত্ব পেয়ে গেলেন তারেক রহমান। অর্থাৎ নির্বাসন থেকে ফিরেই ক্ষমতার আসনে।

দীর্ঘদিন দেশের বাহিরে থাকায় তার দেশ পরিচালনার ক্ষমতা নিয়ে নানা জল্পনা-কল্পনা চলছে। একে তো দেশের আর্থ-সামাজিক,আইন-শৃঙ্খলাসহ  সর্বস্তরে প্রায় ভঙ্গুর দশা। সেখান থেকে রাতা-রাতি বদলে দেয়াটা যে কঠিন কাজ তা বলার অপেক্ষা রাখে না। তবে যাদের নিয়ে তারেক রহমান রাষ্ট্র পরিচালনার ভার নিয়েছেন তাদেরও সামনে কঠিন চ্যালেঞ্জ হিসেবে দাড়িয়ে আছে সক্ষমতার পরিচয় দেওয়ার।

‘সবার আগে বাংলাদেশ’ গড়ার অঙ্গিকারে তারেক রহমান প্রবীন এবং তরুণদের নিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনার যাত্রা শুরু করেছেন। তার নেতৃত্বে ৫০জন সদস্যের মন্ত্রিপরিষদ ঘোষনা করেছে বিএনপি। নতুন সরকারের যারা মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী পেয়েছেন তাদের মধ্যে ৪১জনই প্রথমবারের মতো গুরুত্বপূর্ণ দ্বায়িত্ব পেয়েছেন। এমন কি তারেক রহমান নিজেও প্রথমবার মন্ত্রীসভার সদস্য হয়েছেন।

অতীতে মন্ত্রণালয় চালানোর অভিজ্ঞতা রয়েছে, দলটির এমন নয়জন নেতাকে এবার পূর্ণমন্ত্রী করা হয়েছে। বুধবার সকালেও মন্ত্রীদের দপ্তর বণ্টনের প্রজ্ঞাপন জারি হয়নি। তবে বিএনপির ভেরিফায়েড ফেসবুক পাতায় নেতাদের ছবি ও নামসহ দপ্তরের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া কয়েকটি মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটেও নতুন মন্ত্রীদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

 বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর পেয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব। ইতোমধ্যে মন্ত্রণালয়টির ওয়েবসাইটে মন্ত্রী হিসেবে তার নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন আহমদকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীকে অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী, সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ আসাদুজ্জামানকে আইনমন্ত্রী, খন্দকার আব্দুল মোকতাদিরকে বাণিজ্যমন্ত্রী এবং জহির উদ্দিন স্বপনকে তথ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

নতুন মন্ত্রিসভায় বড় চমক ছিলন খলিলুর রহমান। তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ছিলেন।

অতীতে দলের একাধিক নেতা তারেক রহমানের সমালোচনা ও ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে দেখা গেলেও শেষমেশ টেকনোক্র্যাট কোটায় মন্ত্রী করে পররাষ্ট্রের মতো গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। যা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চলছে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা।

এদিকে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতাবলে মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় ১০ জনকে উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন নতুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

মন্ত্রী পদমর্যাদায় মির্জা আব্বাস উদ্দিন আহমেদ, নজরুল ইসলাম খান, রুহুল কবির রিজভী আহমেদ, মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ ও রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীরকে উপদেষ্টা নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে হুমায়ুন কবির, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব:) শামসুল ইসলাম, জাহেদ উর রহমান, মাহাদি আমিন ও রেহান আসিফ আসাদকে।

পূর্ণমন্ত্রী
১. মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর—স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়
২. আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী—অর্থ মন্ত্রণালয় এবং পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়
৩. সালাহউদ্দিন আহমদ—স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়
৪. ইকবাল হাসান মাহমুদ (টুকু)—বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রণালয়
৫. মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ—মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়
৬. এ জেড এম জাহিদ হোসেন—নারী ও শিশুমন্ত্রণালয় এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়
৭. খলিলুর রহমান (টেকনোক্র্যাট)—পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়
৮. আবদুল আউয়াল মিন্টু—পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়
৯. কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ—ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়
১০. মিজানুর রহমান মিনু—ভূমি মন্ত্রণালয়
১১. নিতাই রায় চৌধুরী—সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণাল
১২. খন্দকার আবদুল মুক্তাদির—শিল্প মন্ত্রণালয়; বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়
১৩. আরিফুল হক চৌধুরী—শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়
১৪. জহির উদ্দিন স্বপন—তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়
১৫. মোহাম্মদ আমিন উর রশীদ (টেকনোক্র্যাট)—খাদ্য মন্ত্রণালয়, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় এবং কৃষি মন্ত্রণালয়
১৬. আফরোজা খানম (রিতা)—বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়
১৭. শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি—পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়
১৮. আসাদুল হাবিব দুলু—দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়
১৯. মো. আসাদুজ্জামান— আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়
২০. জাকারিয়া তাহের—গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়
২১. দীপেন দেওয়ান—পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়
২২. আ ন ম এহছানুল হক মিলন—শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়
২৩. সরদার সাখাওয়াত হোসেন (বকুল)—স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়
২৪. ফকির মাহবুব আনাম (স্বপন)—ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়
২৫. শেখ রবিউল আলম—সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়, রেলপথ মন্ত্রণালয় এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়

প্রতিমন্ত্রী
১. এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত—বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়
২. অনিন্দ্য ইসলাম অমিত—বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়
৩. মো. শরিফুল আলম—বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, শিল্প মন্ত্রণালয় এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণাল
৪. শামা ওবায়েদ ইসলাম—পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়
৫. সুলতান সালাউদ্দিন টুকু—কৃষি মন্ত্রণালয়, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় এবং খাদ্য মন্ত্রণালয়
৬. কায়সার কামাল—ভূমি মন্ত্রণালয়
৭. ফরহাদ হোসেন আজাদ—পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়
৮. আমিনুল হক (টেকনোক্র্যাট)—যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়
৯. মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন—পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়
১০. হাবিবুর রশিদ—সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় মন্ত্রণালয়
১১. মো. রাজিব আহসান—সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় মন্ত্রণালয়
১২. মো. আব্দুল বারী—জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়
১৩. মীর শাহে আলম—স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়
১৪. জোনায়েদ সাকি—অর্থ মন্ত্রণালয় এবং পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়
১৫. ইশরাক হোসেন—মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়
১৬. ফারজানা শারমীন—নারী ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়
১৭. শেখ ফরিদুল ইসলাম—পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়
১৮. নুরুল হক; শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়
১৯. ইয়াসের খান চৌধুরী—তথ্য ‍ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়
২০. এম ইকবাল হোসেইন—দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়
২১. এম এ মুহিত—স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়
২২. আহমেদ সোহেল মঞ্জুর—গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়
২৩. ববি হাজ্জাজ—শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়
২৪. আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম—সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়

 

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

তরুণ-প্রবীনে মিশ্রিত তারেক রহমানের মন্ত্রীসভা

আপডেট সময় : ১১:০৭:০৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

সকল জল্পনা-কল্পনার পর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলো গত ১২ ফেব্রুয়ারী। দুই তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি ১৭ ফেব্রুয়ারী শপথ গ্রহনের মধ্য দিয়ে সরকার গঠন করেছে। তারেক রহমানের নেতৃত্বে মন্ত্রণালয়ও বন্টন হয়ে গেছে। সংসদ সদস্যদের শপথ পড়িয়েছেন নির্বাচন কমিশনার। দেশের এগারতম প্রধানমন্ত্রী হন তারেক রহমানকে শপথ পাঠ করিয়েছেন রাষ্ট্রপতি চুপ্পু। ভাগ্যবান এই রাষ্ট্রপতি শেখ হাসিনাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ পাঠ করানোর পর দেশের পটভূমি পরিবর্তনের পর অন্তর্বর্তী সরকার প্রধানকে শপথ পাঠ করান। এবার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানকে শপথ পাঠ করিয়েছেন তিনি।

দেশ পরিচালনার দ্বায়িত্ব পেলো জিয়া পরিবারের দ্বিতীয় প্রজম্ম। সতের বছর নির্বাসনে থাকার পর দেশে ফিরেই একমাসের নির্বাচনী প্রচারণায় নির্বাচিত হয়ে দেশ পরিচালনার দ্বায়িত্ব পেয়ে গেলেন তারেক রহমান। অর্থাৎ নির্বাসন থেকে ফিরেই ক্ষমতার আসনে।

দীর্ঘদিন দেশের বাহিরে থাকায় তার দেশ পরিচালনার ক্ষমতা নিয়ে নানা জল্পনা-কল্পনা চলছে। একে তো দেশের আর্থ-সামাজিক,আইন-শৃঙ্খলাসহ  সর্বস্তরে প্রায় ভঙ্গুর দশা। সেখান থেকে রাতা-রাতি বদলে দেয়াটা যে কঠিন কাজ তা বলার অপেক্ষা রাখে না। তবে যাদের নিয়ে তারেক রহমান রাষ্ট্র পরিচালনার ভার নিয়েছেন তাদেরও সামনে কঠিন চ্যালেঞ্জ হিসেবে দাড়িয়ে আছে সক্ষমতার পরিচয় দেওয়ার।

‘সবার আগে বাংলাদেশ’ গড়ার অঙ্গিকারে তারেক রহমান প্রবীন এবং তরুণদের নিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনার যাত্রা শুরু করেছেন। তার নেতৃত্বে ৫০জন সদস্যের মন্ত্রিপরিষদ ঘোষনা করেছে বিএনপি। নতুন সরকারের যারা মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী পেয়েছেন তাদের মধ্যে ৪১জনই প্রথমবারের মতো গুরুত্বপূর্ণ দ্বায়িত্ব পেয়েছেন। এমন কি তারেক রহমান নিজেও প্রথমবার মন্ত্রীসভার সদস্য হয়েছেন।

অতীতে মন্ত্রণালয় চালানোর অভিজ্ঞতা রয়েছে, দলটির এমন নয়জন নেতাকে এবার পূর্ণমন্ত্রী করা হয়েছে। বুধবার সকালেও মন্ত্রীদের দপ্তর বণ্টনের প্রজ্ঞাপন জারি হয়নি। তবে বিএনপির ভেরিফায়েড ফেসবুক পাতায় নেতাদের ছবি ও নামসহ দপ্তরের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া কয়েকটি মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটেও নতুন মন্ত্রীদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

 বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর পেয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব। ইতোমধ্যে মন্ত্রণালয়টির ওয়েবসাইটে মন্ত্রী হিসেবে তার নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন আহমদকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীকে অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী, সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ আসাদুজ্জামানকে আইনমন্ত্রী, খন্দকার আব্দুল মোকতাদিরকে বাণিজ্যমন্ত্রী এবং জহির উদ্দিন স্বপনকে তথ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

নতুন মন্ত্রিসভায় বড় চমক ছিলন খলিলুর রহমান। তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ছিলেন।

অতীতে দলের একাধিক নেতা তারেক রহমানের সমালোচনা ও ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে দেখা গেলেও শেষমেশ টেকনোক্র্যাট কোটায় মন্ত্রী করে পররাষ্ট্রের মতো গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। যা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চলছে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা।

এদিকে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতাবলে মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় ১০ জনকে উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন নতুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

মন্ত্রী পদমর্যাদায় মির্জা আব্বাস উদ্দিন আহমেদ, নজরুল ইসলাম খান, রুহুল কবির রিজভী আহমেদ, মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ ও রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীরকে উপদেষ্টা নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে হুমায়ুন কবির, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব:) শামসুল ইসলাম, জাহেদ উর রহমান, মাহাদি আমিন ও রেহান আসিফ আসাদকে।

পূর্ণমন্ত্রী
১. মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর—স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়
২. আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী—অর্থ মন্ত্রণালয় এবং পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়
৩. সালাহউদ্দিন আহমদ—স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়
৪. ইকবাল হাসান মাহমুদ (টুকু)—বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রণালয়
৫. মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ—মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়
৬. এ জেড এম জাহিদ হোসেন—নারী ও শিশুমন্ত্রণালয় এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়
৭. খলিলুর রহমান (টেকনোক্র্যাট)—পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়
৮. আবদুল আউয়াল মিন্টু—পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়
৯. কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ—ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়
১০. মিজানুর রহমান মিনু—ভূমি মন্ত্রণালয়
১১. নিতাই রায় চৌধুরী—সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণাল
১২. খন্দকার আবদুল মুক্তাদির—শিল্প মন্ত্রণালয়; বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়
১৩. আরিফুল হক চৌধুরী—শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়
১৪. জহির উদ্দিন স্বপন—তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়
১৫. মোহাম্মদ আমিন উর রশীদ (টেকনোক্র্যাট)—খাদ্য মন্ত্রণালয়, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় এবং কৃষি মন্ত্রণালয়
১৬. আফরোজা খানম (রিতা)—বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়
১৭. শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি—পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়
১৮. আসাদুল হাবিব দুলু—দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়
১৯. মো. আসাদুজ্জামান— আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়
২০. জাকারিয়া তাহের—গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়
২১. দীপেন দেওয়ান—পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়
২২. আ ন ম এহছানুল হক মিলন—শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়
২৩. সরদার সাখাওয়াত হোসেন (বকুল)—স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়
২৪. ফকির মাহবুব আনাম (স্বপন)—ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়
২৫. শেখ রবিউল আলম—সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়, রেলপথ মন্ত্রণালয় এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়

প্রতিমন্ত্রী
১. এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত—বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়
২. অনিন্দ্য ইসলাম অমিত—বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়
৩. মো. শরিফুল আলম—বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, শিল্প মন্ত্রণালয় এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণাল
৪. শামা ওবায়েদ ইসলাম—পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়
৫. সুলতান সালাউদ্দিন টুকু—কৃষি মন্ত্রণালয়, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় এবং খাদ্য মন্ত্রণালয়
৬. কায়সার কামাল—ভূমি মন্ত্রণালয়
৭. ফরহাদ হোসেন আজাদ—পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়
৮. আমিনুল হক (টেকনোক্র্যাট)—যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়
৯. মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন—পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়
১০. হাবিবুর রশিদ—সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় মন্ত্রণালয়
১১. মো. রাজিব আহসান—সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় মন্ত্রণালয়
১২. মো. আব্দুল বারী—জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়
১৩. মীর শাহে আলম—স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়
১৪. জোনায়েদ সাকি—অর্থ মন্ত্রণালয় এবং পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়
১৫. ইশরাক হোসেন—মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়
১৬. ফারজানা শারমীন—নারী ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়
১৭. শেখ ফরিদুল ইসলাম—পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়
১৮. নুরুল হক; শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়
১৯. ইয়াসের খান চৌধুরী—তথ্য ‍ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়
২০. এম ইকবাল হোসেইন—দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়
২১. এম এ মুহিত—স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়
২২. আহমেদ সোহেল মঞ্জুর—গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়
২৩. ববি হাজ্জাজ—শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়
২৪. আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম—সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়