সংসদ সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠিত, এবার দেশ গড়ার পালা
- আপডেট সময় : ০৩:৪৮:৩৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
- / ৪৬ বার পড়া হয়েছে
স্বাধীনতার ৫৪ বছর পেরিয়ে বাংলাদেশ পা রাখছে ৫৫ বছরে। নানা পটভূমি পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে দেশ পরিচালনায় বাংলাদেশে তেরটি জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ১২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ সালের নির্বাচনটি ছিলো ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। ২১২টি আসনে জয়যুক্ত হয়ে সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে বিএনপি জোট। অন্যদিকে বাংলাদেশ জামায়েতে ইসলামী দলসহ ১১ দলীয় জোট ১১টি আসনে জয়ী হয়েছে। স্বতন্ত্র ৭ ও হাতপাখা প্রতীকে একজন জয়ী হয়েছেন।
আজ মঙ্গলবার ২৯৭ আসনের বিজয়ী প্রতিনিধিরা সংসদ সদস্য হিসাবে শপথ গ্রহন করেন। জাতীয় সংসদ ভবনের শপথকক্ষে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন শপথ বাক্য পাঠ করান। সকাল ১০টা ২৮ মিনিটের দিকে স্ত্রী জুবাইদা রহমান এবং কন্যা জাইমা রহমানকে সঙ্গে নিয়ে শপথকক্ষে প্রবেশ করেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এরপর সকাল ১০টা ৩৫ মিনিটের দিকে শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান শুরু হয়। এরপর বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামসহ ১১ দলীয় জোট শপথ গ্রহন করে।
যদিও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামের বিজয়ী প্রতিনিধিদের শপথে অংশগ্রহন করা নিয়ে সংশয় ছিলো। কিন্তু শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ জামাতে ইসলামীসহ ১১ দলীয় জোটের বিজয়ীরা শপথ গ্রহন করেন। একই সাথে তারা সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহন করেন। তবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেয়নি।

সংবিধান সংস্কার নিয়ে শুরু থেকেই বিএনপির পক্ষ থেকে নোট অব ডিসেন্ট ছিলো। সেই প্রেক্ষিতেই তাদের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে প্রত্যেকটি বিষয় সাংবিধান রুপ নিয়ে অক্ষরে অক্ষরে পালনের।
এ বিষেয়ে বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন আহমেদ জানান, দলীয় প্রধান তারেক রহমানের নির্দেশ অনুযায়ী তিনি সব নির্বাচিত সংসদ সদস্যকে সংবিধান সংস্কার পরিষদের ফরমে স্বাক্ষর না করার অনুরোধ জানিয়েছেন। কারণ তারা (নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা) সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হননি। যেহেতু সংবিধান সংস্কার পরিষদের বিষয়টি বর্তমানে সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত নেই। তাই গণভোটের মাধ্যমে প্রথমে এই পরিষদকে সংবিধানের আওতায় নিয়ে আসতে হবে। এছাড়া, এই পরিষদের সদস্যদের শপথ বাক্য কে পাঠ করাবেন, সে বিষয়েও প্রয়োজনীয় নীতিমালা প্রণয়ন করা জরুরি।
এদিকে সংসদ সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠানের গণভোটের বৈধতা নিয়ে চ্যালেঞ্জ ও ফলাফল বাতিল চেয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়েছে। সুতরাং এই বিষয়টি এখন আদালতের সিদ্ধান্তের দিকে চলে যায়।
তার আগে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠানে মালদ্বীপের প্রেসিডেন্টসহ প্রায় এক হাজার দেশি-বিদেশী অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন। যুক্তরাজ্য, তুরস্ক, পাকিস্তান, নেপাল ও শ্রীলঙ্কা, যুক্তরাজ্যের ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় বিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি সীমা মালহোত্রা, তুরস্কের আন্ডার সেক্রেটারি বেরিস একিনচি, পাকিস্তানের পরিকল্পনা মন্ত্রী আহসান ইকবাল, নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বালা নন্দা শর্মা, ও শ্রীলঙ্কার স্বাস্থ্যমন্ত্রী নালিন্দা জয়াতিসা নিজ নিজ দেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন।

শপথ পাঠ করার পর সবার উপস্থিতিতে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে সংসদ নেতা হিসেবে ঘোষণা করা হয়। সংসদ নেতা হয়েই তিনি বিএনপি’র সংসদ সদস্যদের উদ্দেশ্যে দুটি শর্ত দেন। ১. ট্যাক্সি ফ্রি গাড়ি কেনা যাবে না। ২. সরকারি প্লট নেয়া যাবে না।
এই দিকে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন পঞ্চাশের অধিক মন্ত্রী পরিষদও চূড়ান্ত করা হয়। সেখানে পূর্ণমন্ত্রী হিসেবে ডাক পেয়েছেন ২৫ জন ও প্রতিমন্ত্রী হিসাবে ডাক পেয়েছেন ২৪জন। এছাড়া ট্যাকনোক্রেট মন্ত্রী হিসেবে থাকছে তিন জনের নাম।
যারা ডাক পেয়েছেন তারা হচ্ছেন :
পূর্ণ মন্ত্রী : মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ, ইকবাল হাসান মাহমুদ, হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, আবু জাফর মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন, আব্দুল আওয়াল মিন্টু, কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ, মিজানুর রহমান মিনু, নিতাই রায় চৌধুরী ও খন্দকার আব্দুল মোকতাদির। আরিফুল হক চৌধুরী, জহির উদ্দিন স্বপন, আফরোজা খানম রিতা, মো. শহিদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, আসাদুল হাবিব বুলু, মো. আসাদুজ্জামান, জাকারিয়া তাহের, দীপেন দেওয়ান, আ ন ম এহসানুল হক মিলন, ফকির মাহবুব আনাম স্বপন, সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল ও শেখ রবিউল আলম।
টেকনোক্র্যাট : মোহাম্মদ আমিন উর রশীদ এবং ড. খলিলুর রহমান ও আমিনুল হক
প্রতিমন্ত্রী : এম রশিদুল জামান মিল্লাত, অনিন্দ্য ইসলাম অমি, মো. শরিফুল আলম, শ্যামা ওবায়েদ, সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, ফরহাদ হোসেন আজাদ, আমিনুল হক, মীর হেলাল উদ্দীন, হাবিবুর রশিদ, মো. রাজিব আহসান, মো. আব্দুল বারী, মীর শাহে আলম, জুনায়েদ সাকি,ইশরাক হোসেন, ফারজানা শারমিন,শেখ ফরিদুল ইসলাম, মো. নুরুল হক নুর, ইয়াসের খান চৌধুরী, এম ইকবাল হোসেইন, এম এ মুহিত,আহম্মদ সোহেল মঞ্জুর, ববি হাজ্জাজ ও আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম।
একটি রাষ্ট্র পরিচালনায় এই আইনি প্রকিয়াগুলো শেষে এখন রাষ্ট্র পরিচালনার পালা। সবাই মুখিয়ে আছে সেদিকে। ছাত্র-জনতার আন্দোলনে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পতিত শেখ হাসিনা ভারতে পালিয়ে যাওয়ার পর গত প্রায় ষোলমাস দেশ পরিচালনা করে এসেছিলো ড.ইউনুসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহনের পর থেকে এই দ্বায়িত্ব এখন বর্তমান সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের।
সবার প্রত্যাশা এবার থেকে দেশটি হয় উঠে যেন সকল ধরনের দূর্ণীতিমুক্ত এবং বৈষম্যহীন একটি রাষ্ট্র। যেখানে দল দেখে নয়, জনগনের কথা ভেবেই সামনের দিকে এগিয়ে যাবে।।



















