প্রধানমন্ত্রীর শপথ নিলেন তারেক রহমান, বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান
- আপডেট সময় : ০৫:০৫:৩১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
- / ৪২ বার পড়া হয়েছে
প্রায় সতের বছর নির্বাসনে ছিলেন। ওয়ান এলেভেনের সময় কতিপয় বিপদগামী সামরিক সদস্যদের হাতে চরম ভাবে নির্যাতিত হয়ে জীবনসঙ্কটাপন্ন অবস্থায় পড়ে যান তারেক রহমান। একটি রাজনৈতিক প্রধানের সন্তান হওয়ায় তার বিরুদ্ধে নানা অপবাদ ছড়িয়ে ছিলো। এরপর দেশ ছাড়ার জন্য নানা ধরনের চাপ প্রয়োগে ব্যর্থ হয় ফখরুদ্দিন-মঈনুদ্দিন সরকার। এমন জ্বেদ তাকে শেষ পর্যন্ত পঙ্গুত্ব বানিয়ে দেয়। মেরুদন্ডের হাড়ের উপর এমন অত্যাচার করা হয় সতের বছর আগের টগবগে তরুণটি সোজা হয়ে দাড়াতে পারছিলেন না। বিভিন্ন সময় সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জবানবন্দিতে বেরিয়ে আসছিলো এসব সত্য ঘটনা। বড় সন্তান তারেক রহমানকে পাঠানো হয় ইংল্যান্ডে। দীর্ঘ চিকিৎসার পর সুস্থ্য হন তিনি। ততোদিনে আওয়ামী দূ:শাসনের রোষানলে পড়ে জিয়া পরিবারের অনেক সর্বনাশ হয়ে যায়। ছোট ভাই কোকো মৃত্যু বরণ করেন। দেশের ফেরার মাত্র কয়েকদিন আগে মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকেও হারান আজ মঙ্গলবার দেশের এগারতম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ পাঠ করা তারেক রহমান।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তার দল বিএনপি দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসনে জয়ী হয়ে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়।
মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন নতুন প্রধানমন্ত্রীর শপথবাক্য পাঠ করান। শপথ অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি। এর আগে সকালে জাতীয় সংসদে শপথ নেওয়ার পর সংসদীয় সভায় তারেক রহমানকে সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত করেন বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্যরা।
আওয়ামী লীগের উপর বিধি-নিষেধ থাকায় এবারের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলটি অংশ নিতে পারেনি। ছাত্র-জনতার আন্দোলনে ৫ আগস্ট ২০২৪ সালে দেশ ত্যাগ করেন সাবেক পতিত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছাত্র-জনতার তাড়া খেয়ে ভারতে আশ্রয় নেন তিনি। এর পর দেশটির দ্বায়িত্বভার বহন করেন ড.ইউনুসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। প্রায় পনের মাস নানা ঝট-ঝামেলার মধ্যদিয়ে দেশ পরিচালনা করেন তারা। ভঙ্গুর আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রনের আপ্রান চেষ্টা করে বেশ সফলতা অর্জন করেন ইউনুস সরকার। এই সময় ছাত্রদের পক্ষ থেকে নতুন একটি দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিসি) গঠিত হয়। যারা এই নির্বাচনে জামায়াতের সাথে জোট বেধে ৬টি আসনে জয়-যুক্ত হয়েছে। এমন কি আওয়ামী লীগ এই নির্বাচনে না থাকায় জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ বিরোধী দলের ভূমিকায় থাকছে।

বিরোধী দলীয় নেতা হয়েছেন দলটির নায়েবে আমির শফিকুর রহমান, উপনেতা তাহের, চিফ হুইপ হয়েছেন নাহিদ ইসলাম।
সংসদ সদস্যদের শপথ শেষে মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সংসদীয় দলের সভায় এমন সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানা গেছে। বৈঠকে অংশ নেওয়া গাইবান্ধা জেলার জামায়াতের আমির ও গাইবান্ধা-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. আব্দুল করিম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, শিগগিরই ১১ দলীয় জোটের যৌথ সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানানো হবে।



















