নির্বাচন কমিশনার পড়াতে যাচ্ছেন শপথ! নতুনদের বরণে প্রস্তুত সংসদভবনের দক্ষিণ প্লাজা
- আপডেট সময় : ০১:৪৭:৫৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
- / ৪১ বার পড়া হয়েছে
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয়েছে গত ১২ ফেব্রুয়ারি। সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে জাতীয়তাবাদি দল বিএনপি। বিরোধী দলের হিসাবে থাকছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। আইন উপদেষ্টা ড.আসিফ নজরুল জানিয়েছেন মঙ্গলবার ১৭ ফেব্রুয়ারি সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় শপদ গ্রহন অনুষ্ঠান। মঙ্গলবার সকাল ১০টায় জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। একই স্থানে বিকেল ৪টায় শপথ নেবে নতুন সরকারের মন্ত্রিসভা। জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির ইচ্ছাতেই সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় শপদের আয়োজন।
তবে নতুন এই সংসদ সদস্যদের শপথ পড়ানো নিয়ে চলছে রাজ্যের গুঞ্জন। ছাত্র-জনতার আন্দোলনে শেখ হাসিনার পতনের পর দেশের সকল গুরুত্বপূর্ণ শুন্য হয়ে পড়ে। এই আন্দোলনে হাসিনাসহ তার মন্ত্রী পরিষদের সবাই দেশ থেকে পালিয়ে যায়। স্পিকার পদত্যাগ করেন এবং ডেপুটি স্পিকার অপরাধি হয়ে জেল ভোগ করছেন। ফলে নতুন সংসদদের শপথ পড়ানো নিয়ে একটি শুণ্যতা তৈরি হয়। আর এ নিয়ে চলছে রাজ্যের আলোচনা।
রোববার অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টাও নির্দিষ্ট করে জানাতে পারেনি নি মঙ্গলবার নতুন সংসদ নেতাদের কে শপথ পড়াবেন। তবে ধারণা থেকে তিনি মিডিয়া কর্মীদের জানিয়েছেন, খুব সম্ভবত প্রধান নির্বাচন কমিশনার এই শপথ পড়াবেন। বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শপথের পরেই তাদের সংসদীয় দলের প্রধানকে নির্বাচিত করবেন। এছাড়া বিকেল চারটায় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় মন্ত্রিসভার শপথ হবে। আমার জানামতে এটা রাষ্ট্রপতি করবেন।
এই শপথ অনুষ্ঠানে দেশি-বিদেশী প্রায় একহাজার অতিথিদের আমন্ত্রিত করা হবে বলে একটি তথ্যে জানা যায। সে তালিকায় সার্কভুক্ত দেশগুলোকে দাওয়াত দেওয়া হয়েছে। সেখানের মন্ত্রীদের দাওয়াত দেওয়া হয়েছে।
এদিকে রাজনীতির আকাশে গুঞ্জন চলছে নতুন মন্ত্রীপরিষদের তালিকা নিয়ে। আলোচনায় যতটুকু জানা যায় তাতে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান হতে যাচ্ছেন আগামীর প্রধানমন্ত্রী। এমন কি তার মন্ত্রীপরিষদটা হতে যাচ্ছে প্রবীণ ও নবীনের মিচেলে। বিভিন্ন সূত্রে জানা যায় এই তালিকায় রয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ, মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, আবদুল মঈন খান, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু ও ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেনকে দেখা যেতে পারে। এ ছাড়া টেকনোক্র্যাট কোটায় স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান ও সেলিমা রহমানকে রাখা হতে পারে। ভাইস চেয়ারম্যানদের মধ্যে আবদুল আউয়াল মিন্টু, সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ নতুন সরকারের মন্ত্রিসভায় স্থান পেতে পারেন।
নবীনদের মধ্যে অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান আসাদ ও ব্যারিস্টার কায়সার কামালসহ আরও বেশকিছু নতুন মুখ মন্ত্রিসভায় স্থান পেতে পারেন। এ ছাড়া টেকনোক্র্যাট কোটায় দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল, বিএনপির মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক মওদুদ আলমগীর পাভেলের মন্ত্রিসভায় থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
অন্যদিকে, বিএনপির যুগপৎ আন্দোলনের সঙ্গীদের মধ্যে গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি ও গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরের মন্ত্রিসভায় স্থান পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি বলে জানা গেছে। এর বাইরে বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি)র চেয়ারম্যান আন্দালিব রহমান পার্থ, এনডিএম থেকে পদত্যাগ করে বিএনপিতে যোগ দেওয়া ববি হাজ্জাজ, বাংলাদেশ এলডিপি বিলুপ্ত করে বিএনপিতে আসা শাহাদাত হোসেন সেলিম, নির্বাচনের আগে বিএনপিতে যোগ দেওয়া সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এম এস কিবরিয়ার ছেলে ড. রেজা কিবরিয়াকে নতুন মন্ত্রিসভায় দেখা যেতে পারে।
মন্ত্রিসভার বাইরেও প্রধানমন্ত্রীর একাধিক উপদেষ্টা, বিশেষ সহকারীসহ সেক্টরভিত্তিক বিভিন্ন পদে অনেকে পদ পাবেন নতুন সরকারে। যদিও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, নতুন মন্ত্রিসভা কেমন হতে যাচ্ছে তা জানতে আরও কিছু সময় অপেক্ষা করতে হবে।
তবে হবু মন্ত্রী পরিষদের জন্য ৪০টি বিলাস বহুল গাড়ি ও বাড়ি প্রস্তুত করা হয়েছে। নতুন প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন হিসেবে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন ‘যমুনা’কে বিবেচনায় রাখা হয়েছে, যা রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার নতুন কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠার অপেক্ষায়। গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় ও সরকারি যানবাহন অধিদপ্তর সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের জন্য ঢাকার বেইলি রোড, গুলশান, ধানমন্ডি এবং মিন্টো রোড এলাকায় প্রায় ৪০টি বাসভবন প্রস্তুত রাখা হয়েছে। গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, আগের সরকারের আমলের মন্ত্রী ও বর্তমান উপদেষ্টারা যেসব বাসভবন ছেড়ে দিয়েছেন, সেগুলো মিলিয়ে ৪০টি বাসভবন এখনই ওঠার মতো অবস্থায় রয়েছে। বর্তমানে ৪০টি বাড়ি প্রস্তুত থাকলেও নতুন সরকারের চাহিদার ওপর ভিত্তি করে এই সংখ্যা আরও বাড়ানো সম্ভব হবে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটি ও দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তারেক রহমানের মন্ত্রিসভা প্রবীণ ও নবীনের সমন্বয়ে গঠিত হবে। এতে বিগত বিএনপি সরকারের (২০০১ থেকে ২০০৬) মন্ত্রিসভার সদস্যরা যেমন স্থান পেতে পারেন, তেমনি একেবারে নবীন, অর্থাৎ প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন– এমন ব্যক্তিদেরও রাখা হবে। পাশাপাশি বিভিন্ন ধর্মাবলম্বীর প্রতিনিধিত্ব থাকবে নতুন মন্ত্রিসভায়। মন্ত্রিসভার আকার কেমন হবে, কাকে কোন মন্ত্রণালয় দেওয়া হবে– সেসব আজ রাতে বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকে আলোচনা হবে।
চতুর্থবারের মতো ক্ষমতায় বসতে যাওয়া বিএনপি জোট ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ২০৯ আসনে জয়ের পর যুগপৎ আন্দোলনের সঙ্গীদের মন্ত্রিসভায় রাখা নিয়ে চলছে নানা আলোচনা। তবে বিএনপি তাদের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী জাতীয় সরকার গঠন করলে সেখানে যুগপৎ আন্দোলনের সব শরিককে রাখবে নাকি শুধু নির্বাচনী জোটে যারা ছিল তারা স্থান পাবে, সেটি এখনো স্পষ্ট নয়।
বিএনপি নেতারা বলছেন, আগামী দিনের মন্ত্রিসভায় দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ, মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, আবদুল মঈন খান, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু ও ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেনকে দেখা যেতে পারে। এ ছাড়া টেকনোক্র্যাট কোটায় স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান ও সেলিমা রহমানকে রাখা হতে পারে। ভাইস চেয়ারম্যানদের মধ্যে আবদুল আউয়াল মিন্টু, সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ নতুন সরকারের মন্ত্রিসভায় স্থান পেতে পারেন।
নবীনদের মধ্যে অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান আসাদ ও ব্যারিস্টার কায়সার কামালসহ আরও বেশকিছু নতুন মুখ মন্ত্রিসভায় স্থান পেতে পারেন। এ ছাড়া টেকনোক্র্যাট কোটায় দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল, বিএনপির মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক মওদুদ আলমগীর পাভেলের মন্ত্রিসভায় থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
অন্যদিকে, বিএনপির যুগপৎ আন্দোলনের সঙ্গীদের মধ্যে গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি ও গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরের মন্ত্রিসভায় স্থান পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি বলে জানা গেছে। এর বাইরে বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি)র চেয়ারম্যান আন্দালিব রহমান পার্থ, এনডিএম থেকে পদত্যাগ করে বিএনপিতে যোগ দেওয়া ববি হাজ্জাজ, বাংলাদেশ এলডিপি বিলুপ্ত করে বিএনপিতে আসা শাহাদাত হোসেন সেলিম, নির্বাচনের আগে বিএনপিতে যোগ দেওয়া সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এম এস কিবরিয়ার ছেলে ড. রেজা কিবরিয়াকে নতুন মন্ত্রিসভায় দেখা যেতে পারে।
মন্ত্রিসভার বাইরেও প্রধানমন্ত্রীর একাধিক উপদেষ্টা, বিশেষ সহকারীসহ সেক্টরভিত্তিক বিভিন্ন পদে অনেকে পদ পাবেন নতুন সরকারে। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, নতুন মন্ত্রিসভা কেমন হতে যাচ্ছে তা জানতে আরও কিছু সময় অপেক্ষা করতে হবে।



















