ঢাকা ০৫:২৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৩ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी

বিরোধী দলের নেতাদের বাসায় যেয়ে নতুন ধারার রাজনীতি শুরু করলেন তারেক রহমান

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ১২:৩৪:১৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / ৪০ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

রাজনীতির ময়দানে পরস্পর বিরোধী সমালোচনা ছিলো প্রতিদ্বন্দি প্রার্থীদের মুখে মুখে। সভা-সমাবেশে পরস্পরকে কতোটা ঘায়েল করা যায় এবং কতোটা প্রতিশ্রুতি দেয়া যায় গত কয়েকদিনের নির্বাচনের মাঠে এ ছিলো প্রার্থীদের রুটিন ওয়ার্ক। ১২ ফেব্রুয়ারি অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সারাদেশে রক্তপাতহীন একটি নির্বাচন অনুষ্টিত হয়েছে। সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে ক্ষমতায় বসার অপেক্ষায় জাতীয়বাদি দল বিএনপি। বিরোধীদল থাকছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলাম। কিন্তু সুষ্ঠ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবার পরে প্রার্থীদের অনেকেই ফলাফল মেনে নিতে পারছেন না। যা নিয়ে বর্তমান সময়ে চলছে নানা উত্তেজনা।

বিএনপি’র অনেক প্রার্থীই স্ব স্ব স্থানে পুন:নির্বাচন এবং পুনরায় ভোট গণনার দাবি তুলেছে। জামায়াতে ইসলামী এবং এনসিপি’র পক্ষ থেকেও ভোট ইঞ্জিয়ারিংয়ের অভিযোগ উঠেছে। পাশাপাশি জামায়াত জোট থেকে আন্দোলনের নানা পরিকল্পনা গুঞ্জন সোস্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে।

এসবকে অতিক্রম করে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়া বিএনপির চেয়ারম্যান প্রথমে দেশী-বিদেশী মিডিয়ার মুখোমুখি হন। এরপর নিজদলের রাজনীতিবিদদের সাথে এবং পরবর্তী সময়ে  প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাত করেন। বিশেষ করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমিরের এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের বাসায় গিয়ে সাক্ষাত করেন।

বাংলাদেশের রাজনীতিতে তারেক রহমানের এমন উদ্যোগ বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন ধারার সূচনা হয়েছে। এর আগে বাংলাদেশের রাজনীতি এক দলের নেতা আরেক দলের নেতার ছায়াটাও দেখতে পারতো না।

তারেক রহমান বদলে দিলেন রাজনীতি এই কালচার। তার এমন আগ্রহে জামায়াত ইসলাম এবং এনসিপির নেতার সুন্দর বাংলাদেশ গড়ার একটি সম্ভাবনা দেখছেন।
রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা ৭টা ১২ মিনিটে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে বসুন্ধরার বাসায় গেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সেখানে জামায়াতের নেতারা ‍উপস্থিত ছিলেন। তারেক রহমানের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি মহাসচিব মীর্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান।

জামায়াত আমিরের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো: তাহের ও সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান এডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের। সাক্ষাৎটি অত্যন্ত হৃদ্যতাপূর্ণ ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়।

এরপর জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও ঢাকা-১১ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য নাহিদ ইসলামের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। রাত সাড়ে ৮টায় তিনি বেইলি রোডস্থ নাহিদ ইসলামের বাসভবনে  তাকেপৌছালে তারেক রহমানকে স্বাগত জানান নাহিদ।

এ সময় উপস্থিত ছিল বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, যুগ্ম মহাসচিব হাবিবুর নবী খান সোহেল, হুমায়ুন কবির, বিএনপি চেয়ারম্যানের প্রেস সচিব সালেহ শিবলীসহ আরো অনেকে।

অপরদিকে এনসিপি নেতাদের মধ্যে দলের সদস্য সচিব আখতার হোসেন ও উত্তরাঞ্চলীয় মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমসহ অন্যান্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সরকার গঠনের পথে বিএনপি। আগামী ১৭ ফেব্রুয়ারি সকালে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের ও বিকেলে মন্ত্রিসভার সদস্য শপথ হওয়ার কথা রয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

বিরোধী দলের নেতাদের বাসায় যেয়ে নতুন ধারার রাজনীতি শুরু করলেন তারেক রহমান

আপডেট সময় : ১২:৩৪:১৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

রাজনীতির ময়দানে পরস্পর বিরোধী সমালোচনা ছিলো প্রতিদ্বন্দি প্রার্থীদের মুখে মুখে। সভা-সমাবেশে পরস্পরকে কতোটা ঘায়েল করা যায় এবং কতোটা প্রতিশ্রুতি দেয়া যায় গত কয়েকদিনের নির্বাচনের মাঠে এ ছিলো প্রার্থীদের রুটিন ওয়ার্ক। ১২ ফেব্রুয়ারি অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সারাদেশে রক্তপাতহীন একটি নির্বাচন অনুষ্টিত হয়েছে। সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে ক্ষমতায় বসার অপেক্ষায় জাতীয়বাদি দল বিএনপি। বিরোধীদল থাকছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলাম। কিন্তু সুষ্ঠ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবার পরে প্রার্থীদের অনেকেই ফলাফল মেনে নিতে পারছেন না। যা নিয়ে বর্তমান সময়ে চলছে নানা উত্তেজনা।

বিএনপি’র অনেক প্রার্থীই স্ব স্ব স্থানে পুন:নির্বাচন এবং পুনরায় ভোট গণনার দাবি তুলেছে। জামায়াতে ইসলামী এবং এনসিপি’র পক্ষ থেকেও ভোট ইঞ্জিয়ারিংয়ের অভিযোগ উঠেছে। পাশাপাশি জামায়াত জোট থেকে আন্দোলনের নানা পরিকল্পনা গুঞ্জন সোস্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে।

এসবকে অতিক্রম করে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়া বিএনপির চেয়ারম্যান প্রথমে দেশী-বিদেশী মিডিয়ার মুখোমুখি হন। এরপর নিজদলের রাজনীতিবিদদের সাথে এবং পরবর্তী সময়ে  প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাত করেন। বিশেষ করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমিরের এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের বাসায় গিয়ে সাক্ষাত করেন।

বাংলাদেশের রাজনীতিতে তারেক রহমানের এমন উদ্যোগ বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন ধারার সূচনা হয়েছে। এর আগে বাংলাদেশের রাজনীতি এক দলের নেতা আরেক দলের নেতার ছায়াটাও দেখতে পারতো না।

তারেক রহমান বদলে দিলেন রাজনীতি এই কালচার। তার এমন আগ্রহে জামায়াত ইসলাম এবং এনসিপির নেতার সুন্দর বাংলাদেশ গড়ার একটি সম্ভাবনা দেখছেন।
রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা ৭টা ১২ মিনিটে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে বসুন্ধরার বাসায় গেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সেখানে জামায়াতের নেতারা ‍উপস্থিত ছিলেন। তারেক রহমানের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি মহাসচিব মীর্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান।

জামায়াত আমিরের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো: তাহের ও সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান এডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের। সাক্ষাৎটি অত্যন্ত হৃদ্যতাপূর্ণ ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়।

এরপর জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও ঢাকা-১১ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য নাহিদ ইসলামের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। রাত সাড়ে ৮টায় তিনি বেইলি রোডস্থ নাহিদ ইসলামের বাসভবনে  তাকেপৌছালে তারেক রহমানকে স্বাগত জানান নাহিদ।

এ সময় উপস্থিত ছিল বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, যুগ্ম মহাসচিব হাবিবুর নবী খান সোহেল, হুমায়ুন কবির, বিএনপি চেয়ারম্যানের প্রেস সচিব সালেহ শিবলীসহ আরো অনেকে।

অপরদিকে এনসিপি নেতাদের মধ্যে দলের সদস্য সচিব আখতার হোসেন ও উত্তরাঞ্চলীয় মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমসহ অন্যান্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সরকার গঠনের পথে বিএনপি। আগামী ১৭ ফেব্রুয়ারি সকালে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের ও বিকেলে মন্ত্রিসভার সদস্য শপথ হওয়ার কথা রয়েছে।