ঢাকা ০৫:৪৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी

গণতন্ত্রের বিজয়ে দেশ আজ স্বাধীন : তারেক রহমান

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ০৪:৫২:২৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / ৪২ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

দীর্ঘ ষোল বছর ধরে দেশে গনতন্ত্র অনুপস্থিত ছিলো। ভোট প্রদানের অধিকার ছিলো না, কথা বলার অধিকার কেড়ে নেয়া হয়েছিলো। অবশেষে সেই অত্যাচারিত অধ্যায় শেষে দেশে একটি সুষ্ঠ ও উৎসব মুখর নির্বাচন অনুুষ্ঠিত হয়েছে। সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে বিএনপি সরকার গঠনের সুযোগ পেয়েছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জনগন বিএনপির প্রতি আচ্ছা রেখে সরকার গঠনের সুযোগ করে দেয়ায় সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান তারেক রহমান। বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন,এ বিজয় গণতন্ত্রের, এ বিজয় বাংলাদেশের, এ বিজয় দেশের গণতন্ত্রকামী মানুষের। আজ থেকে আমরা স্বাধীন।

শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। তিনি বলেন, আমি দেশের সব জনগণকে জানাই আন্তরিক অভিনন্দন। সব প্রতিবন্ধকতা মোকাবিলা করে আমরা দেশের গণতন্ত্রের পথ সুগম করেছি। ফ্যাসিবাদের রেখে যাওয়া ভঙ্গুর অর্থনীতি, অকার্যকর সাংবিধানিক এবং বিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠান ও দুর্বল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি— এমন একটি পরিস্থিতির মধ্যদিয়ে আমরা যাত্রা শুরু করতে যাচ্ছি।

তারেক রহমান বলেন, আপনাদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে দেড় দশকেরও বেশি সময় পর দেশে পুনরায় জনগণের সরাসরি ভোটে জবাবদিহিমূলক সংসদ ও সরকার প্রতিষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। আর কোনো অপশক্তি যাতে দেশে ফ্যাসিবাদ কায়েম করতে না পারে সেজন্য আমাদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে এবং থাকবো। জামায়াত ইসলাম, এনসিপি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, জমিয়তে ইসলাম, গণঅধিকার পরিষদসহ ৫১টি রাজনৈতিক দল এ নির্বাচনে অংশ নিয়েছি। প্রতিটা রাজনৈতিক দলকে আন্তরিক অভিনন্দন জানাই।

গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র এবং রাজীনীততে রাজনৈতিক দলগুলো মূলত গণতন্ত্রের বাতিঘর। সরকার এবং বিরোধীদল যে যার অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করলে দেশে অবশ্যই গণতন্ত্র প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পাবে বলে আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি।

বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, দেশ গঠনে প্রতিটা গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলের প্রতি আহ্বান, দেশ গঠনে আপনাদের চিন্তা-ভাবনা আমাদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের পথ ও মত ভিন্ন থাকতে পারে, কিন্তু দেশের স্বার্থে আমরা সবাই এক। আমি বিশ্বাস করি, জাতীয় ঐক্য আমাদের শক্তি, বিভাজন আমাদের দুর্বলতা।
দলের ঘোষিত ৩১ দফা ও নোট অব ডিসেন্ট দিয়ে ঐকমত্য হওয়া জুলাই সনদ পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে বলে জানিয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

তিনি বলেন, আমার বক্তব্য স্পষ্ট, যেকোনো মূল্যে শান্তিপূর্ণ অবস্থান বজায় রাখতে হবে। কোনো ধরনের অন্যায় বরদাশত করা হবে না।
তারেক রহমান বলেন, দল-মত, ধর্ম-বর্ণ কিংবা ভিন্নমত যাই হোক, কোনো অজুহাতেই দুর্বলের ওপর সবলের আক্রমণ মেনে নেওয়া হবে না। ন্যায়পরায়ণতাই হবে আদর্শ। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা না গেলে আমাদের সব প্রচেষ্টা বৃথা যেতে বাধ্য।

তারেক রহমান বলেন, নির্বাচনে একে অপরের বিরুদ্ধে কিংবা একদল আরেক দলের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে গিয়ে ভোটের মাঠে হয়তো কোথাও কোথাও নিজেদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়ে থাকতে পারে। তবে এ ধরনের বিরোধ যেন প্রতিশোধ প্রতিহিংসায় রূপ না নেয় সে ব্যাপারে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানাই।

ঠিকানার প্রধান সম্পাদক খালেদ মুহিউদ্দীনের এক প্রশ্নের জবাবে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেন, জনগণকে কনভেন্স করাই হচ্ছে আমাদের ইঞ্জিনিয়ারিং। জনগণকে কনভেন্স করাটাই আমাদের ইঞ্জিনিয়ারিং ছিল। এটাতে আমরা সফল।

তিনি বলেন, আইন সবার জন্য সমান। আমরা সরকার পরিচালনা দায়িত্বে আসলে আইন যাতে আইনের মতো চলে, সেটাই আমরা চাইবো। সবাই সবার মতো করে ব্যবসা বাণিজ্য করতে পারবেন। কোনো একটা বিশেষ মহলকে সুযোগ দিতে চাই না।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

গণতন্ত্রের বিজয়ে দেশ আজ স্বাধীন : তারেক রহমান

আপডেট সময় : ০৪:৫২:২৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

দীর্ঘ ষোল বছর ধরে দেশে গনতন্ত্র অনুপস্থিত ছিলো। ভোট প্রদানের অধিকার ছিলো না, কথা বলার অধিকার কেড়ে নেয়া হয়েছিলো। অবশেষে সেই অত্যাচারিত অধ্যায় শেষে দেশে একটি সুষ্ঠ ও উৎসব মুখর নির্বাচন অনুুষ্ঠিত হয়েছে। সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে বিএনপি সরকার গঠনের সুযোগ পেয়েছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জনগন বিএনপির প্রতি আচ্ছা রেখে সরকার গঠনের সুযোগ করে দেয়ায় সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান তারেক রহমান। বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন,এ বিজয় গণতন্ত্রের, এ বিজয় বাংলাদেশের, এ বিজয় দেশের গণতন্ত্রকামী মানুষের। আজ থেকে আমরা স্বাধীন।

শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। তিনি বলেন, আমি দেশের সব জনগণকে জানাই আন্তরিক অভিনন্দন। সব প্রতিবন্ধকতা মোকাবিলা করে আমরা দেশের গণতন্ত্রের পথ সুগম করেছি। ফ্যাসিবাদের রেখে যাওয়া ভঙ্গুর অর্থনীতি, অকার্যকর সাংবিধানিক এবং বিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠান ও দুর্বল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি— এমন একটি পরিস্থিতির মধ্যদিয়ে আমরা যাত্রা শুরু করতে যাচ্ছি।

তারেক রহমান বলেন, আপনাদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে দেড় দশকেরও বেশি সময় পর দেশে পুনরায় জনগণের সরাসরি ভোটে জবাবদিহিমূলক সংসদ ও সরকার প্রতিষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। আর কোনো অপশক্তি যাতে দেশে ফ্যাসিবাদ কায়েম করতে না পারে সেজন্য আমাদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে এবং থাকবো। জামায়াত ইসলাম, এনসিপি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, জমিয়তে ইসলাম, গণঅধিকার পরিষদসহ ৫১টি রাজনৈতিক দল এ নির্বাচনে অংশ নিয়েছি। প্রতিটা রাজনৈতিক দলকে আন্তরিক অভিনন্দন জানাই।

গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র এবং রাজীনীততে রাজনৈতিক দলগুলো মূলত গণতন্ত্রের বাতিঘর। সরকার এবং বিরোধীদল যে যার অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করলে দেশে অবশ্যই গণতন্ত্র প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পাবে বলে আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি।

বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, দেশ গঠনে প্রতিটা গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলের প্রতি আহ্বান, দেশ গঠনে আপনাদের চিন্তা-ভাবনা আমাদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের পথ ও মত ভিন্ন থাকতে পারে, কিন্তু দেশের স্বার্থে আমরা সবাই এক। আমি বিশ্বাস করি, জাতীয় ঐক্য আমাদের শক্তি, বিভাজন আমাদের দুর্বলতা।
দলের ঘোষিত ৩১ দফা ও নোট অব ডিসেন্ট দিয়ে ঐকমত্য হওয়া জুলাই সনদ পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে বলে জানিয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

তিনি বলেন, আমার বক্তব্য স্পষ্ট, যেকোনো মূল্যে শান্তিপূর্ণ অবস্থান বজায় রাখতে হবে। কোনো ধরনের অন্যায় বরদাশত করা হবে না।
তারেক রহমান বলেন, দল-মত, ধর্ম-বর্ণ কিংবা ভিন্নমত যাই হোক, কোনো অজুহাতেই দুর্বলের ওপর সবলের আক্রমণ মেনে নেওয়া হবে না। ন্যায়পরায়ণতাই হবে আদর্শ। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা না গেলে আমাদের সব প্রচেষ্টা বৃথা যেতে বাধ্য।

তারেক রহমান বলেন, নির্বাচনে একে অপরের বিরুদ্ধে কিংবা একদল আরেক দলের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে গিয়ে ভোটের মাঠে হয়তো কোথাও কোথাও নিজেদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়ে থাকতে পারে। তবে এ ধরনের বিরোধ যেন প্রতিশোধ প্রতিহিংসায় রূপ না নেয় সে ব্যাপারে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানাই।

ঠিকানার প্রধান সম্পাদক খালেদ মুহিউদ্দীনের এক প্রশ্নের জবাবে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেন, জনগণকে কনভেন্স করাই হচ্ছে আমাদের ইঞ্জিনিয়ারিং। জনগণকে কনভেন্স করাটাই আমাদের ইঞ্জিনিয়ারিং ছিল। এটাতে আমরা সফল।

তিনি বলেন, আইন সবার জন্য সমান। আমরা সরকার পরিচালনা দায়িত্বে আসলে আইন যাতে আইনের মতো চলে, সেটাই আমরা চাইবো। সবাই সবার মতো করে ব্যবসা বাণিজ্য করতে পারবেন। কোনো একটা বিশেষ মহলকে সুযোগ দিতে চাই না।