বাবা ও মায়ের পর সরকার গঠন করতে যাচ্ছেন তারেক রহমান,গড়ছেন নতুন এক ইতিহাস
- আপডেট সময় : ০১:৩০:০২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
- / ৬৬ বার পড়া হয়েছে
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান দুটি এলাকা থেকে নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি ঢাকা-১৭ ও তিনি নিজ এলাকা বগুড়া-৬ আসন থেকে নির্বাচিত করে বিপুল ব্যবধানে বিজয়ী হন।
শুধু তাই নয়, একক সংখ্যা গরিষ্ঠতা পেয়ে বাবা ও মায়ের পর সরকার গঠন করতে যাচ্ছেন তারেক রহমান। সর্বশেষ ফল অনুযায়ী বাংলাদেশ জাতীয়বাদি দল বিএনপি ২০৬টি আসনে জয় লাভ করে সরকার গঠনে এগিয়ে আছে। এখনো অনেকগুলো আসনের ফল ঘোষনা শেষ হয়নি। এরপরেও তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকার গঠনে কোন বাধা থাকছে না।
অন্যদিকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলাম বিজয়ী হয়েছে ৬৭টি আসনে, এনসিপি ৫টি আসন এবং অন্যান্য দল বিজয়ী হয়েছে ১৪টি আসনে।
বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান দুটি আসনে দাড়িয়ে দুটিতেই বিজয়ী হন। বগুড়া-৬ ও ঢাকা-১৭ আসনে তিনি জয় লাভ করেন। বগুড়া পৌরসভার ২১টি ওয়ার্ড ও সদর উপজেলা নিয়ে গঠিত বগুড়া-৬ আসন। এই আসনে ১৫০টি কেন্দ্রের সব কটিতে বিজয়ী হন তারেক রহমান। তিনি মোট পেয়েছেন ২ লাখ ১৬ হাজার ২৮৪ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১–দলীয় জোটের প্রার্থী ও জামায়াতের বগুড়া শহর শাখার আমির আবিদুর রহমান পেয়েছেন ৯৭ হাজার ৬২৬ ভোট। এখানে মোট ভোটার ৪ লাখ ৫৪ হাজার ৪৩ জন। ভোট পড়েছে ৭১ দশমিক ৩ শতাংশ। গতকাল বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে রিটার্নিং কর্মকর্তা ও বগুড়ার জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমান বেসরকারি এ ফলাফল ঘোষণা করেন।
এর আগে এই আসন থেকে (১৯৯৬ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত) নির্বাচন করেছিলেন বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। তিনি সেই সময় বিপুল ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন।
এছাড়া ঢাকা-১৭ আসন থেকেও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। ঢাকা-১৭ আসনে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান ৫৪ হাজার ৮২৫ ভোট পেয়ে বেসরকারীভাবে জয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত প্রার্থী ডাঃ খালিদুজ্জামান ৪৬ হাজার ৮৪০ ভোট পেয়েছেন। তিনি ডাঃ খালিদুজ্জামান থেকে ৭ হাজার ৯৮৫ ভোট বেশি পেয়েছেন।
বিএনপির ক্ষমতার ইতিহাস সর্বশেষ ২০০১ সালের সংসদ নির্বাচনে বিএনপি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে সরকার গঠন করেছিল। ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া রাষ্ট্রপতির কাছে ইস্তফাপত্র প্রদানের মাধ্যমে সেই মেয়াদের সমাপ্তি ঘটে। এর আগে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের গড়া এই দলটিকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া জনপ্রিয়তার শীর্ষে নিয়ে যান। দীর্ঘ ৯ বছর স্বৈরাচার এরশাদবিরোধী আন্দোলনে রাজপথে নেতৃত্ব দিয়ে ১৯৯১ সালের নির্বাচনে জয়ী হয়ে তিনি দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া ১৯৯৬ সালেও স্বল্প সময়ের জন্য সরকার গঠন করেছিল বিএনপি।
তারেক রহমানের অভিষেক ও নেতৃত্ব বিএনপির পক্ষ থেকে আগেই ঘোষণা করা হয়েছিল, দল ক্ষমতায় গেলে বর্তমান চেয়ারম্যান তারেক রহমানই হবেন দেশের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী। এবারই তিনি প্রথমবারের মতো জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেন এবং ঢাকা-১৭ ও বগুড়া-৬—উভয় আসনেই জয়লাভ করেন।
বিগত ১৭ বছরের নির্বাসিত জীবনের অবসান ঘটিয়ে গত বছরের ২৫ নভেম্বর দেশে ফেরেন তারেক রহমান এবং ২৭ নভেম্বর ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হন। বিএনপির ওয়েবসাইট ও মিডিয়া সেলের তথ্য অনুযায়ী, আশির দশকে এরশাদবিরোধী আন্দোলনের সময় থেকেই তিনি রাজনীতিতে সক্রিয় হন। ১৯৮৮ সালে বগুড়ার গাবতলী উপজেলা বিএনপির সদস্য হিসেবে তাঁর আনুষ্ঠানিক রাজনৈতিক যাত্রা শুরু। ১৯৯৩ সালে বগুড়ায় গোপন ব্যালটের মাধ্যমে নেতা নির্বাচনের সংস্কৃতি চালু করে তিনি তৃণমূল রাজনীতিতে সাড়া ফেলেন। ২০০২ সালে দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব এবং ২০০৯ সালে সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন তিনি। ২০১৮ সালে বেগম খালেদা জিয়া কারান্তরীণ হওয়ার পর তিনি দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে যুগপৎ আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন।
উল্লেখ্য, গত ৩০ ডিসেম্বর বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া মৃত্যুবরণ করেন। এরপর ৯ জানুয়ারি দলের স্থায়ী কমিটি তারেক রহমানকে চেয়ারম্যান হিসেবে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেয়।
সংসদীয় সমীকরণ বাংলাদেশে সরকার গঠনের জন্য ৩০০টি সংসদীয় আসনের মধ্যে অন্তত ১৫১টি আসনে জয়ের প্রয়োজন হয়। বেসরকারি ফলাফল অনুযায়ী বিএনপি এককভাবেই সেই সংখ্যা অতিক্রম করেছে। অন্যদিকে, এবারই প্রথমবারের মতো সংসদে প্রধান বিরোধী দল হতে যাচ্ছে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট। এর আগে জামায়াত বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোটের অংশ হিসেবে সরকার ও বিরোধী দলে থাকলেও এবারই প্রথম তারা প্রধান বিরোধী শক্তির মর্যাদা পেতে যাচ্ছে।


















