ঢাকা ০৭:৩৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी

ক্ষেপে গিয়ে সংবাদ সম্মেলন ত্যাগ করলেন পাইলট, সাংবাদিকদের সম্মেলন বর্জন

ক্রীড়া প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ০৫:১৩:৩২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / ৪৭ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

এর আগে বহুবার তিনি মিডিয়া কর্মীদের মুখোমুখি হয়েছিলেন। মিডিয়া কর্মীদের কাছ থেকে  তীর্যকভাবে ছুটে আসা প্রশ্নের উত্তরও দিয়েছিলেন। আবার এই মিডিয়াকর্মীদের কারণেই ২০০৭ বিশ্বকাপের পর দলের নেতৃত্ব হারিয়েছিলেন। তিনি হচ্ছেন খালেদ মাসুদ পাইলট। সময়ের প্রেক্ষাপটে তিনিই এখন ক্রিকেটারদের অভিবাবক সংগঠন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের পরিচালকের আসনে বসেছেন। ক্রিকেট‍ারদের ভালোমন্দ দেখবাল দেখার দায়িত্বে এসেছেন তিনি।

কিন্তু এই দায়িত্বটাও পালন করতে এসে সেই মিডিয়া কর্মীদের মুখোম‍ুখি হতে হলো ফের। মূলত যখন কোন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করা হয় তখন তার আদ্যপান্ত উপস্থাপন করতে হয়। তেমনি এক বিসিবি’র পরিকল্পনার কথা জানাতে গিয়ে আজ ৩ ফেব্রুয়ারী মিডিয়াকর্মীদের মুখোমুখি হতে হয়েছিলো তাকে। কিন্তু সেটা খুব একটা সুখকর হয়নি। সংবাদ সম্মেলনে সংবাদ কর্মীর প্রশ্নের ধরণে ক্ষেই হারিয়ে ফেলেছেন তিনি। রাগান্বিত এবং উত্তেজিত হয়ে তিনি সংবাদ সম্মেলনস্থল ত্যাগ করেছেন। এতে উপস্থিত সংবাদকর্মীদের জন্য বিষয়টি ছিলো খুবই অপমানজনক। তাই তারাও পাইলটের সংবাদ সম্মেলন বয়কটের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

সংবাদ কর্মীর প্রশ্নকে “অনুপযুক্ত” মন্তব্য করে ব্রিফিংস্থল ত্যাগ করেন পাইলট।  এই ঘটনায় পাইলট সাংবাদিকদের নিরাপত্তাজনিত শঙ্কা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।

মূলত কদিন আগে স্টেডিয়ামে সাংবাদিকদের প্রবেশের ক্ষেত্রে বিসিবিতে সংবাদ কর্মীদের ওপর প্রবেশে বিধিনিষেধ তৈরি করেছে বিসিবি। সংস্থাটির মতে, নিরাপত্তা ইস্যুর কারণে সাংবাদিকদের জন্য প্রবেশের সময় এভাবে বেধে দেয়া হয়েছে। অনুমিতভাবেই সংবাদ সম্মেলনের শেষে এ নিয়ে প্রশ্ন আসে। সাংবাদিকদের প্রবেশে ‘নিরাপত্তা ঝুঁকি’ ঠিক কোথায়, সেটা স্পষ্টভাবে বিসিবি কর্তাদের কাছে জানতে চান সাংবাদিকরা। তবে উপস্থিত দুই বিসিবি পরিচালক আব্দুর রাজ্জাক এবং পাইলট কেউই এর সদুত্তর দিতে পারেননি।

এসময় এক সাংবাদিক বিষয়টি জোরালোভাবে উত্থাপন করলে গ্রাউন্ডস কমিটির চেয়ারম্যান পাইলট জানান, সাংবাদিকের প্রশ্ন করার ভঙ্গি ভালো লাগেনি তার, সে কারণে তিনি উত্তর দিতে চান না। ভিউ বাড়ানোর জন্য ওই সাংবাদিক এমন প্রশ্ন করছেন বলে জানান পাইলট।
পাইলট আরও জানান, সাংবাদিকদের স্টেডিয়ামে ঢুকতে দেয়া কিংবা না দেয়ার বিষয়টি তার সংশ্লিষ্ট বিভাগের বিষয় নয়, তাই এই বিষয়ে তিনি কিছু জানাতে পারছেন না। গ্রাউন্ডস কমিটির নতুন যে প্রজেক্টগুলোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে, সেগুলো সাংবাদিকরা সরেজমিনে দেখতে পারবেন কিনা, এমন প্রশ্ন এলে সেটারও কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি সাবেক টাইগার ক্রিকেটার। শুধু তাই নয়, গ্রাউন্ডস কমিটির চেয়ারম্যানকে মাঠ সংক্রান্ত নতুন প্রজেক্টের বাজেট নিয়ে জানতে চাওয়া হলে সেই প্রশ্নও এড়িয়ে যান তিনি।

শেষমেশ ওই এক সাংবাদিকের প্রশ্ন করার ধরণকে অনুপযুক্ত মন্তব্য করে ব্রিফিংস্থল ত্যাগ করেন পাইলট এবং রাজ্জাক। তবে একের পর এক প্রশ্ন এড়িয়ে যাওয়া এবং ‘নিরাপত্তা ইস্যুতে সাংবাদিকদেরকে শঙ্কা’ হিসেবে চিহ্নিত করার বিষয়টি ভালোভাবে নিতে পারেননি সাংবাদিকরা। সে কারণে সংবাদ সম্মেলন বর্জনের সিদ্ধান্ত নেন তারা। সাংবাদিকদের প্রতি বিসিবির এমন আচরণকে অপমানজনক বলেও মন্তব্য করেন অনেকে। এ ঘটনায় বিসিবির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানা যায়নি।

সারা দেশে উইকেট বানাতে যাচ্ছে বিসিবি

সারাদেশের মাঠগুলোতে উইকেট বানানোর বড় পদক্ষেপ নিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। দেশের বিভিন্ন জেলায় একযোগে ১৩৭টি ক্রিকেট উইকেট নির্মাণের কাজ শুরু করেছে বিসিবি।

যারমধ্যে ৮টি স্টেডিয়ামে খেলার উপযোগীকরণ ও উন্নয়ন শুরু করেছে বিসিবি। স্টেডিয়ামগুলো হচ্ছে- খুলনা, বরিশাল, রাজশাহী, বগুড়া, ফতুল্লা, কক্সবাজার, পূর্বাচল ও বিকেএসপি। স্টেডিয়ামগুলোতে ১৩৭টি উইকেট বানানোর পরিকল্পনা গ্রাউন্ডস কমিটির চেয়ারম্যান খালেদ মাসুদ পাইলটের।

আজ (মঙ্গলবার) মিরপুরে গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে পাইলট বলেন, ‘আমি সব কিউরেটরদের সাথে আলাপ করেছি। বগুড়া, রাজশাহী, বরিশাল সবাই সবার জায়গা থেকে বলেছে নিজেরা নিজেদের কাজগুলো করলে এবং আমরা সেন্ট্রালি সাপোর্ট দেবো যা যা লাগে। বাকি বানানোর কাজ তাদের।’

পাইলট আরও বলেন, ‘আপনারা দেখেছেন উইকেট বানাতে বেশি সময় লাগে না। এক একটা জায়গায় যদি ৮ বা ১২টা করে উইকেট বানাই, ৮/১০ দিনের বেশি লাগবে না। আমরা একটা গাইডলাইন দিয়েছি প্রত্যেককে।’

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

ক্ষেপে গিয়ে সংবাদ সম্মেলন ত্যাগ করলেন পাইলট, সাংবাদিকদের সম্মেলন বর্জন

আপডেট সময় : ০৫:১৩:৩২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

এর আগে বহুবার তিনি মিডিয়া কর্মীদের মুখোমুখি হয়েছিলেন। মিডিয়া কর্মীদের কাছ থেকে  তীর্যকভাবে ছুটে আসা প্রশ্নের উত্তরও দিয়েছিলেন। আবার এই মিডিয়াকর্মীদের কারণেই ২০০৭ বিশ্বকাপের পর দলের নেতৃত্ব হারিয়েছিলেন। তিনি হচ্ছেন খালেদ মাসুদ পাইলট। সময়ের প্রেক্ষাপটে তিনিই এখন ক্রিকেটারদের অভিবাবক সংগঠন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের পরিচালকের আসনে বসেছেন। ক্রিকেট‍ারদের ভালোমন্দ দেখবাল দেখার দায়িত্বে এসেছেন তিনি।

কিন্তু এই দায়িত্বটাও পালন করতে এসে সেই মিডিয়া কর্মীদের মুখোম‍ুখি হতে হলো ফের। মূলত যখন কোন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করা হয় তখন তার আদ্যপান্ত উপস্থাপন করতে হয়। তেমনি এক বিসিবি’র পরিকল্পনার কথা জানাতে গিয়ে আজ ৩ ফেব্রুয়ারী মিডিয়াকর্মীদের মুখোমুখি হতে হয়েছিলো তাকে। কিন্তু সেটা খুব একটা সুখকর হয়নি। সংবাদ সম্মেলনে সংবাদ কর্মীর প্রশ্নের ধরণে ক্ষেই হারিয়ে ফেলেছেন তিনি। রাগান্বিত এবং উত্তেজিত হয়ে তিনি সংবাদ সম্মেলনস্থল ত্যাগ করেছেন। এতে উপস্থিত সংবাদকর্মীদের জন্য বিষয়টি ছিলো খুবই অপমানজনক। তাই তারাও পাইলটের সংবাদ সম্মেলন বয়কটের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

সংবাদ কর্মীর প্রশ্নকে “অনুপযুক্ত” মন্তব্য করে ব্রিফিংস্থল ত্যাগ করেন পাইলট।  এই ঘটনায় পাইলট সাংবাদিকদের নিরাপত্তাজনিত শঙ্কা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।

মূলত কদিন আগে স্টেডিয়ামে সাংবাদিকদের প্রবেশের ক্ষেত্রে বিসিবিতে সংবাদ কর্মীদের ওপর প্রবেশে বিধিনিষেধ তৈরি করেছে বিসিবি। সংস্থাটির মতে, নিরাপত্তা ইস্যুর কারণে সাংবাদিকদের জন্য প্রবেশের সময় এভাবে বেধে দেয়া হয়েছে। অনুমিতভাবেই সংবাদ সম্মেলনের শেষে এ নিয়ে প্রশ্ন আসে। সাংবাদিকদের প্রবেশে ‘নিরাপত্তা ঝুঁকি’ ঠিক কোথায়, সেটা স্পষ্টভাবে বিসিবি কর্তাদের কাছে জানতে চান সাংবাদিকরা। তবে উপস্থিত দুই বিসিবি পরিচালক আব্দুর রাজ্জাক এবং পাইলট কেউই এর সদুত্তর দিতে পারেননি।

এসময় এক সাংবাদিক বিষয়টি জোরালোভাবে উত্থাপন করলে গ্রাউন্ডস কমিটির চেয়ারম্যান পাইলট জানান, সাংবাদিকের প্রশ্ন করার ভঙ্গি ভালো লাগেনি তার, সে কারণে তিনি উত্তর দিতে চান না। ভিউ বাড়ানোর জন্য ওই সাংবাদিক এমন প্রশ্ন করছেন বলে জানান পাইলট।
পাইলট আরও জানান, সাংবাদিকদের স্টেডিয়ামে ঢুকতে দেয়া কিংবা না দেয়ার বিষয়টি তার সংশ্লিষ্ট বিভাগের বিষয় নয়, তাই এই বিষয়ে তিনি কিছু জানাতে পারছেন না। গ্রাউন্ডস কমিটির নতুন যে প্রজেক্টগুলোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে, সেগুলো সাংবাদিকরা সরেজমিনে দেখতে পারবেন কিনা, এমন প্রশ্ন এলে সেটারও কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি সাবেক টাইগার ক্রিকেটার। শুধু তাই নয়, গ্রাউন্ডস কমিটির চেয়ারম্যানকে মাঠ সংক্রান্ত নতুন প্রজেক্টের বাজেট নিয়ে জানতে চাওয়া হলে সেই প্রশ্নও এড়িয়ে যান তিনি।

শেষমেশ ওই এক সাংবাদিকের প্রশ্ন করার ধরণকে অনুপযুক্ত মন্তব্য করে ব্রিফিংস্থল ত্যাগ করেন পাইলট এবং রাজ্জাক। তবে একের পর এক প্রশ্ন এড়িয়ে যাওয়া এবং ‘নিরাপত্তা ইস্যুতে সাংবাদিকদেরকে শঙ্কা’ হিসেবে চিহ্নিত করার বিষয়টি ভালোভাবে নিতে পারেননি সাংবাদিকরা। সে কারণে সংবাদ সম্মেলন বর্জনের সিদ্ধান্ত নেন তারা। সাংবাদিকদের প্রতি বিসিবির এমন আচরণকে অপমানজনক বলেও মন্তব্য করেন অনেকে। এ ঘটনায় বিসিবির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানা যায়নি।

সারা দেশে উইকেট বানাতে যাচ্ছে বিসিবি

সারাদেশের মাঠগুলোতে উইকেট বানানোর বড় পদক্ষেপ নিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। দেশের বিভিন্ন জেলায় একযোগে ১৩৭টি ক্রিকেট উইকেট নির্মাণের কাজ শুরু করেছে বিসিবি।

যারমধ্যে ৮টি স্টেডিয়ামে খেলার উপযোগীকরণ ও উন্নয়ন শুরু করেছে বিসিবি। স্টেডিয়ামগুলো হচ্ছে- খুলনা, বরিশাল, রাজশাহী, বগুড়া, ফতুল্লা, কক্সবাজার, পূর্বাচল ও বিকেএসপি। স্টেডিয়ামগুলোতে ১৩৭টি উইকেট বানানোর পরিকল্পনা গ্রাউন্ডস কমিটির চেয়ারম্যান খালেদ মাসুদ পাইলটের।

আজ (মঙ্গলবার) মিরপুরে গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে পাইলট বলেন, ‘আমি সব কিউরেটরদের সাথে আলাপ করেছি। বগুড়া, রাজশাহী, বরিশাল সবাই সবার জায়গা থেকে বলেছে নিজেরা নিজেদের কাজগুলো করলে এবং আমরা সেন্ট্রালি সাপোর্ট দেবো যা যা লাগে। বাকি বানানোর কাজ তাদের।’

পাইলট আরও বলেন, ‘আপনারা দেখেছেন উইকেট বানাতে বেশি সময় লাগে না। এক একটা জায়গায় যদি ৮ বা ১২টা করে উইকেট বানাই, ৮/১০ দিনের বেশি লাগবে না। আমরা একটা গাইডলাইন দিয়েছি প্রত্যেককে।’