দিল্লির সমাবেশে হাসিনার উস্কানিমূলক বক্তব্য দেশের গণতন্ত্র ও নিরাপত্তার জন্য হুমকি
- আপডেট সময় : ০৮:০৩:৫৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬
- / ১৭১ বার পড়া হয়েছে
মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ভারতের নয়াদিল্লিতে প্রকাশ্যে একটি অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেয়ার সুযোগ দেয়ার ঘটনায় গভীর ক্ষোভ ও বিস্ময় প্রকাশ করেছে সরকার। রোববার (২৫ জানুয়ারি) বিকেলে এ বিষয়ে বিবৃতি দিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
আজ রোববার প্রকাশিত পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, ওই অনুষ্ঠানে তিনি প্রকাশ্যে বাংলাদেশের সরকার উৎখাতের আহ্বান জানান এবং আসন্ন জাতীয় নির্বাচন বানচালের উদ্দেশ্যে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালাতে তার দলের অনুগতদের ও সাধারণ জনগণকে প্রকাশ্য উসকানি দেন।
বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলাদেশ সরকার বারবার অনুরোধ জানানো সত্ত্বেও দ্বিপক্ষীয় প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তরের বিষয়ে ভারত এখনো কোনো ব্যবস্থা নেয়নি; বরং তাকে নিজেদের ভূখণ্ড থেকেই এ ধরনের উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে—এতে বাংলাদেশ ভীষণ ক্ষুব্ধ। এতে আরও বলা হয়, এটি স্পষ্টভাবে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক রূপান্তর এবং শান্তি ও নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, ভারতের রাজধানীতে ওই অনুষ্ঠান আয়োজনের অনুমতি দেওয়া এবং গণহত্যাকারী হাসিনাকে প্রকাশ্যে ঘৃণামূলক বক্তব্য দিতে দেওয়া রাষ্ট্রগুলোর পারস্পরিক সম্পর্কের নীতিমালার—বিশেষ করে সার্বভৌমত্বের প্রতি শ্রদ্ধা, অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা এবং ভালো প্রতিবেশীসুলভ আচরণের নীতির পরিপন্থী।
এটি বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার সম্পর্কে একটি বিপজ্জনক দৃষ্টান্ত স্থাপন করছে এবং ভবিষ্যতে বাংলাদেশের নির্বাচিত রাজনৈতিক ব্যবস্থার পক্ষে পারস্পরিকভাবে লাভজনক দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক গড়ে তোলা, রূপ দেওয়া ও লালন করার সক্ষমতাকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
বিবৃতিতে বলা হয়, আওয়ামী লীগের শীর্ষনেতার নির্লজ্জ উসকানিগুলো আবারও প্রমাণ করেছে, কেন অন্তর্বর্তী সরকার তাদের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করতে বাধ্য হয়েছিল।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, নির্বাচনপূর্ব সময় ও নির্বাচনের দিন সহিংসতা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড সংঘটনের জন্য বাংলাদেশ আওয়ামী লীগকে দায়ী করা হবে এবং তাদের ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে ভারতে পালিয়ে যাওয়া হাসিনাকে বাংলাদেশে সহিংসতা উসকে দেওয়া ও বক্তব্য দেওয়া থেকে বিরত রাখতে অন্তর্বর্তী সরকার একাধিকবার ভারতকে অনুরোধ জানায়। তাকে প্রত্যর্পণের জন্য নয়াদিল্লিকে আনুষ্ঠানিক চিঠিও পাঠিয়েছে ঢাকা।
গত বছরের ডিসেম্বরে এক অনুষ্ঠানে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর বলেছেন, শেখ হাসিনা ঢাকা ফিরে আসবেন কি না, তা তার নিজের সিদ্ধান্ত।










