ঢাকা ০৭:৩৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी

প্রচারণায় চলছে পরস্পর বিরোধী সমালোচনা আর প্রতিশ্রুতি, ‘হাঁ‘ ভোট ভাবনায় সরকার

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ০৯:২৫:২৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২৬
  • / ৬৭ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

আগামী ১২ ফ্রেব্রুয়ারীতে ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন। একই দিনে গণভোটেরও আয়োজন করা হয়েছে। একদিকে সরকার নেমেছে হাঁ ভোটের পক্ষে জনসমর্থণ আদায়ের, অন্যদিকে পরস্পর বিরোধী সমালোচনা ও দেশ গড়ার নানা প্রতিশ্রুতি দিয়ে টেকনাফ থেকে তেতুলিয়ায় চষে বেড়াচ্ছেন রাজনৈতিক দলগুলোর নেতারা।

বৃহস্পতিবার বিএনপি নির্বাচনী প্রচারণা শুরু হয় সিলেট হযরত শাহাজালালের মাজার জেয়ারতের মধ্যদিয়ে। সিলেট বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের শ্বশুর বাড়ি। বাইশ বছর পর তিনি সেই বাড়িতেও যান। তারেক রহমানকে পেয়ে সিলেটের জনগন দুলাভাই দুলাভাই স্লোগানে মুখরিত করে রাখেন। সিলেট থেকে যাত্রা শুরু করে ইতিমধ্যে সাতটি জেলায় তিনি নির্বাচনী প্রচারণা শেষ করেন।  এসব সমাবেশে ধানের শীষের পাশাপাশি বিএনপির সঙ্গে আসন সমঝোতা হওয়া প্রার্থীদের পক্ষেও ভোট চান তিনি।

একইসঙ্গে এসব নির্বাচনী সমাবেশে আগামী দিনে বিএনপি সরকার গঠন করতে পারলে সারাদেশে খাল খনন, ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, বেকারদের প্রশিক্ষণ দিয়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং ইমাম-মুয়াজ্জিনদের সম্মানী ভাতা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন তারেক রহমান।

এই দিকে ঢাকার মিরপুর থেকে একই দিন নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেছে জামায়াতে ইসলাম। বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টায় মিরপুর আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে পবিত্র কোরআন থেকে তিলাওয়াতের মাধ্যমে সমাবেশটি শুরু হয়। সমাবেশে প্রধান অতিথি জামায়াত আমির শফিকুর রহমান। এছাড়া, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামসহ জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১০ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের নেতারা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

যদিও জামায়াতের ইসলামের বিরুদ্ধে স্বাধীনতা বিরোধীতার স্বচ্ছ গল্প রয়েছে। তবে সে জায়গা থেকে তারা সরে এসেছে বলে দাবি তুলছেন দলটির এ প্রজন্মের নেতারা। জামায়াতে ইসলামের আমির ড.শফিকুর রহমান প্রকাশ্যে জানিয়েছেন, ১৯৪৭ সাল থেকে এ পর্যন্ত যতগুলো অপরাধ তাদের দল বা দলের লোকজন করেছেন, যা সাধারণ মানুষের মনে দাগ পড়েছে তার জন্য ক্ষমাপ্রর্থী তারা।

জামায়াতে ইসলামী দলটি এখন আর পুরোপুরি কোন ইসলামিক দল নয়। খুলনায় একজন হিন্দু প্রার্থী দেয়ার মধ্য দিয়ে সেখান থেকে তারা সরে এসেছে। তাদের কর্মীদের দাবি বর্তমানে জামায়াতে ইসলাম দলটি হচ্ছে একটি লিবারেল দল। দলটির সাথে যুক্ত হয়েছে নতুন দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করা জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। তারাও ভোটের যুদ্ধে জনগণের উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে বেড়াচ্ছেন।

তবে নির্বাচনী প্রচারণার যাত্রায় রাজনৈতিক দলগুলো আলোচনা-সমালোচনায় পূর্বের জায়গা থেকে সরে আসতে পারেনি। কোন কোন নেতা আকার ইঙ্গিতে সমালোচনা করছেন, আবার কোন কোন নেতা অশোভনীয় ভাষায় প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। নির্বাচনী প্রচারণায় ভোট পাওয়ার প্রত্যাশায় জামায়াতে ইসলামের কিছু কর্মী এবং প্রার্থী বলে জড়াচ্ছেন তাদের ভোট দেয়ার মধ্য দিয়ে জান্নাতের টিকিট পাওয়াার সম্পর্ক রয়েছে। যদিও সোস্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া এই সব বক্তব্যকে অপপ্রচার বলে মনে করছেন দলটির মহাসচিব। অন্যদিকে জামায়াতের ব্যানারে ভোট যুদ্ধে নেমে এনসিপির তরুণ নেতারাও বিএনপির বিরুদ্ধে অপপ্রচারে লিপ্ত হচ্ছেন।

বৃহৎ এই দলটির বিরুদ্ধে চাঁদিাবাজি থেকে শুরু করে নানা অপকর্মের অপবাদ ছড়াচ্ছেন এনসিপির তরুণ নেতারা। রাজনীতির এই কাদা ছোড়াছুড়ির মধ্যে আবার নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ছে ক্রমাগত বিএনপি’র নেতাদের গুলি করে হত্যার ঘটনাবলী। সব মিলে ১২ ফেব্রুয়ারীর নির্বাচন কতোটা নির্ভেজালযুক্ত হবে এ নিয়ে থেকে যাচ্ছে আশঙ্কা।

তবুও ভোট যুদ্ধে থেমে নেই রাজনৈতিক দলগুলো ছুটে চলা…

রাজনীতির মাঠে বিএনপি 

দেশ গড়তে সঠিক ব্যক্তিকে ভোট প্রদান করুণ : তারেক রহমান

আজ শুক্রবার নির্বাচনী প্রচারণার দ্বিতীয় দিনেও চষে বেড়াচ্ছেন প্রার্থীরা। পাশাপাশি দলীয় প্রধানরাও থেমে নেই। বিএনপি চেয়ারম্যান বৃহস্পতিবার সিলেট থেকে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেন। ঢাকার পথে তিনি সাতটি জেলায় সমাবেশও প্রচারণা করেন। সিলেটে বেলা ১২টা থেকে শুরু হওয়া নির্বাচনী প্রচারণা শেষ হয় ভোর রাত ৪টা ১৬মিনিটে, নারায়নগঞ্জে।

আজ ঢাকার ভাষানটেকে প্রচারণা করেন তারেক রহমান। প্রথম দিনের প্রচারণায় তারেক রহমান অনেক প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, দেশকে নিরাপদ করতে হলে, ভোটের অধিকার ও কথা বলার অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। জনগণের মূল কাজ হচ্ছে সঠিক ব্যক্তিকে নির্বাচন করা।

তিনি বলেন, রাষ্ট্রকে মেরামত করতে হলে আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। এই দেশে মুসলমান, হিন্দু, খ্রিস্টানসহ সব ধর্মের মানুষ শান্তিতে বসবাস করে আসছেন। আগামীতেও আমরা সবাই মিলে শান্তিতে থাকতে চাই। এ জন্য আমাদের ভোটের অধিকার ও কথা বলার অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হবল, মা-বোনদের স্বাবলম্বী করতে হলে এবং কৃষক ভাইদের পাশে দাঁড়াতে হলে ধানের শীষে ভোট দিতে হবে।

আজ দ্বিতীয় দিনে ভাষানটেক, ঢাকা-১৭ আসনের প্রচারণায় তিনি বলেন,  গত ১৫ বছরের দুঃশাসনে দেশ অনেক পিছিয়ে গেছে। আমাদের বাংলাদেশকে পুনর্নির্মাণ করতে হবে। যদি বাংলাদেশকে পুনর্নির্মাণ করতে হয়, তাহলে অবশ্যই আমাদের দেশে গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। কারণ, গণতান্ত্রিকভাবে যদি আপনারা আপনাদের প্রতিনিধি নির্বাচন করতে পারেন, তাহলেই একমাত্র এলাকার সমস্যা নিয়ে তার কাছে যেতে পারবেন।

তারেক রহমান বলেন, শুধু জাতীয় নির্বাচনে নয়, একইসঙ্গে পৌরসভা-উপজেলা-ইউনিয়ন পরিষদ, সব জায়গায় জনপ্রতিনিধি নির্বাচন করতে হবে। অর্থাৎ, সব জায়গায় জবাবদিহিতা থাকতে হবে। আর যারা জনপ্রতিনিধি হবেন, তাদের অবশ্যই জানতে হবে জনগণের সমস্যা কী।

যারা স্বাধীনতা চায়নি, তাদের হাতে ক্ষমতা গেলে দেশ টিকবে না : মির্জা ফখরুল
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আমার বিরুদ্ধে ১১১টা মামলা। এগারো বার জেলে গেছি। চুরি-ডাকাতির জন্য নয়, ভোটাধিকার ও দেশের মানুষের জন্য আন্দোলন করতে গিয়ে জেলে গেছি। তার জন্য কোনো দুঃখ নাই, কষ্ট নাই। আমাদের যিনি অত্যাচার করতেন তিনি দেশ থেকে পালিয়ে গেছেন। সবাইকে ফেলে তিনি একাই চলে গেছেন নিজের জান নিয়ে। শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) বিকেলে সদর উপজেলার দেবিপুর ইউনিয়নের গুচ্ছগ্রাম ও শোলটহরি বাজারে নির্বাচনী প্রচারণায় তিনি এসব কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, আমি একটা সুযোগ পেয়েছি। এই নির্বাচনে যেন আমরা একটা সঠিক সরকার গঠন করতে পারি। ১৯৭১ সালের কথা নিশ্চয়ই আপনাদের মনে আছে? আমাদের মুক্তিযুদ্ধের কথা, এটা অনেক গর্বের। আমরা সবাই মিলে লড়াই করেছি, একটা বাংলাদেশের জন্য। এটাকে যারা অস্বীকার করেছে, এটার বিরুদ্ধে যারা ছিল, যারা পাকিস্তানি সেনাবাহিনীকে সাহায্য করেছিল তাদেরকে কি আপনারা বাংলাদেশের ক্ষমতায় আনতে চান? তারা ক্ষমতা চায়। একটা কথা মনে রাখবেন- যারা বাংলাদেশের স্বাধীনতা চায়নি, তাদেরকে যদি ক্ষমতায় নিয়ে আসেন এই দেশ টিকবে না।

তিনি আরও বলেন, তারা এখন সুন্দর সুন্দর কথা বলছে। কিন্তু একবার বলে না যে আমরা ৭১ সালে ভুল করেছিলাম। জাষ্ঠিভাঙ্গায় আমার হিন্দু ভাইদেরকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। আমরা কেউ ভুলে যায়নি। হিন্দু-মুসলমান, বৌদ্ধ-খ্রিস্টান আমরা সবাই মিলে দেশটাকে গড়তে চাই।

 জান্নাতের টিকিট দেয়ার মালিক একমাত্র আল্লাহ, কোন প্রতীক বা দল নয় : আমিনুল ইসলাম 

ঢাকা-১৬ আসনের প্রার্থী জাতীয় দলের সাবেক ফুটবলার ও অধিনায়ক আমিনুল ইসলাম। গত পনের বছরে জেল-ঝুলুম ও নানা অত্যাচার সহ্য করেছেন তিনি। সংসদ নির্বাচনে অংশ নেয়া তার জীবনের প্রথম অধ্যায়। আজ শুক্রবার নিজ এলাকায় নির্বাচনী প্রচারণা করতে গিয়ে প্রতিপক্ষ জামায়াতে ইসলাম এর বিপক্ষে অপবাদের আঙুল তুলেছেন। অভিযোগ তুলেছেন ধর্মকে অপব্যবহারের। তাই এই জায়গা থেকে ভোটারদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন,যারা রাজনৈতিক স্বার্থে ধর্মকে পুঁজি করে ভোট আদায়ের চেষ্টা করছে, তারা মূলত ধর্মপ্রাণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করছে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আজ নির্বাচনী প্রচারণার দ্বিতীয় দিনে মিরপুরের ১২ নম্বর পল্লবী স্টেশনের সামনে থেকে গণসংযোগ কর্মসূচি শুরু করেন আমিনুল হক। এ সময় আয়োজিত এক পথসভায় তিনি ভোটারদের উদ্দেশে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন।

তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ‘জান্নাত দেওয়ার মালিক একমাত্র মহান আল্লাহ। কোনো ব্যক্তি বা কোনো নির্বাচনী প্রতীক কাউকে জান্নাত দিতে পারে না। তাই রাজনৈতিক স্বার্থে ধর্মের অপব্যবহার থেকে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।’

আমিনুল হক বলেন, ‘আমরা কখনো ধর্মকে রাজনৈতিক ঢাল হিসেবে ব্যবহার করি না। আমাদের লক্ষ্য একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন, যেখানে জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে একটি গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠিত হবে।’

পুরান ঢাকার সমস্যার স্থায়ী সমাধান করতে চাই
পুরান ঢাকার দীর্ঘদিনের গ্যাস সংকট, জলাবদ্ধতা, ভাঙা রাস্তা, দূষণ ও ট্রাফিক জ্যামের মতো জটিল সমস্যাগুলোর স্থায়ী সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন ঢাকা-৬ আসনের বিএনপির মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন। তিনি বলেন, উন্নয়ন ও গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার মাধ্যমেই পুরান ঢাকাকে বাসযোগ্য নগরীতে রূপান্তর করা হবে। শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) রাজধানী সুরিটোলা স্কুলের সামনে দ্বিতীয় দিনের মতো নির্বাচনী প্রচারণার অংশ নিয়ে তিনি এ সব কথা বলেন।

ইশরাক হোসেন বলেন, জনগণ অত্যন্ত উচ্ছ্বসিত এবং তারা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিয়ে তাদের জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত করার জন্য তারা অপেক্ষা করছেন। আমরাও সবাইকে উদ্বুদ্ধ করেছি, যাতে সবাই ভোটকেন্দ্রে যায় এবং তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করে।

ইশরাক হোসেন বলেন, আমরা আন্দোলন-সংগ্রাম করে এই জায়গায় এসেছি, ভেসে আসিনি। আমাদের দীর্ঘ ১৭ বছরের ত্যাগ রয়েছে। আমাদের বহু ভাইয়ের রক্ত রয়েছে। তারা কোথায় ছিল? তারা তো হঠাৎ করে বের হয়েছে ২৪ এর ৫ আগস্টের এরপরে। এই গুপ্ত বাহিনী হঠাৎ করে উদয় হয়েছে। এর আগে আমরা দেখেছি, তারা ভোর ৬টার সময়, যখন রাস্তাঘাটে জনগণ থাকত না, তখন চুপ করে অন্ধকারে বের হয়ে মিছিল করে চলে যেত এই ছিল তাদের আন্দোলন।

তিনি আরও বলেন, আমরা রাজপথে বুক ফুলিয়ে রক্ত দিয়েছি, গুলির মুখে দাঁড়িয়েছি। আমাদের হত্যা করা হয়েছে, ১৭ বছর ধরে গুম-খুনের শিকার হয়েছি। আমরা কোনো সময় পিছু হটিনি। তাই এখন তারা যা বলছে, তারাও জানে ঢাকা শহরের সবগুলোর জামানত বাজেয়াপ্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে তাদের। এসব কেবল তাদের নেতাকর্মীদের উৎসাহ জাগানোর জন্য বলছে।

বিএনপি দুর্নীতি চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে,  এমন মন্তব্য করে তিনি জানান, আমরা কথা দিচ্ছি, যারা অবৈধভাবে বিভিন্ন জায়গায় স্থাপনা নির্মাণ করছে ফুটপাতে, রাস্তায় অবৈধ স্থাপনা গড়ে তুলছে এবং সেখান থেকে চাঁদা তুলছেন, তাদের ব্যাপারে আমরা জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছি। কোনো অবৈধ স্থাপনা ও অবৈধ কর্মকাণ্ড আমাদের দল অনুমোদন করে না। আমরাও এর বিরুদ্ধে জোরালো অবস্থান নিয়েছি।

কর্মসংস্থান ও নারীদের উন্নয়নের বিষয়ে তিনি বলেন, কর্মসংস্থান ও নারীদের উন্নয়নের বিষয়ে আমাদের ৩১ দফার মধ্যে বিস্তারিত বলা আছে। আমরা বলেছি আগামী এক বছরে কতগুলো কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে চাই এবং কীভাবে করতে চাই। ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের ফ্যাসিলিটেট করে তারাও যাতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে পারে, সে উদ্যোগ আমাদের রয়েছে। নারীদের ক্ষমতায়নের ব্যাপারেও আমাদের ব্যাপক পরিকল্পনা রয়েছে ফ্যামিলি কার্ড, নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করা, নারীদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থাপনা, গণপরিবহনসহ বিভিন্ন জায়গায় যাতে তারা স্বস্তিতে চলাফেরা করতে পারে, সে ব্যবস্থাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

রাজনীতির মাঠে জামায়াতে ইসলাম

ক্ষমতায় গেলে ৩ শর্তে সবাইকে নিয়ে দেশ গড়ব: ডা. শফিকুর রহমান

জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে ক্ষমতায় গেলে ৩ শর্তে সবাইকে নিয়ে দেশ গড়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) ঠাকুরগাঁওয়ে ১০ দলীয় জোটের নির্বাচনি জনসভায় বক্তব্যকালে এমন প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

তিনি বলেন, আল্লাহ যদি আপনাদের ভোটে আমাদের নির্বাচিত করে, আপনাদের ভালোবাসা ও সমর্থনে সরকার গঠনের সুযোগ দেন, তাহলে বাংলাদেশের সব জেলায় একটি করে মানসম্মত সরকারি মেডিকেল কলেজ গড়ে তোলা হবে। যারা সব সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছে, তাদের দুয়ারে আগামীর উন্নয়ন সবার আগে চলে যাবে, ইনশাআল্লাহ। আমরা বৈষম্য করব না, আমরা আল্লাহকে ভয় করি। আল্লাহকে ভয় করার কারণেই প্রথমে বঞ্চিত মানুষদের অধিকার তাদের হাতে তুলে দেয়া হবে।

১০ দলীয় জোটের প্রার্থীকে ভোট দেয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এর আগে দফায় দফায় আপনারা অনেককে আপনাদের মূল্যবান ভোট, ভালোবাসা-সমর্থন দিয়েছেন, এবার জামায়াতে ইসলামী নয়; এ দেশের মুক্তিকামী মানুষের ১০ দলের ঠিকানায় আপনারা ভোট দেবেন। আমরা একা বাংলাদেশ গড়তে পারব না, জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করেই নতুন বাংলাদেশ গড়তে হবে। আল্লাহ আমাদের সফলতা দিলে আমরা কাউকে বাদ দেবো না, সবাইকে নিয়ে মিলেমিশেই বাংলাদেশ গড়ে তুলব।

এ ক্ষেত্রে তিনটি শর্ত মেনে নিতে হবে উল্লেখ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এক নম্বর শর্ত হলো- নিজে কোনো দুর্নীতি করবেন না এবং কোনো দুর্নীতিবাজকে আশ্রয় দেবেন না। নম্বর দুই শর্ত- গরিব-দুঃখী, নারী-পুরুষ, সব ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে এবং সেই বিচার হবে সবার জন্য সমান। সেই বিচারে কেউ রাজনীতিবিদ হিসেবে হস্তক্ষেপ করতে পারবেন না। বিচার বিভাগ হবে সম্পূর্ণ স্বাধীন, আর বিচার হবে ন্যায়-ইনসাফের ভিত্তিতে। কোনো বে-ইনসাফি বিচার আর বিকিকিনি হবে না। এটা মেনে নিতে হবে।

জামায়াত আমির বলেন, ৫৪ বছরের বস্তাপচা রাজনীতি, যা দুঃশাসন আর দুর্নীতিতে দেশকে ডুবিয়ে ফেলেছে, চাঁদাবাজদের রমরমা ব্যবসা আর জনগণের জান যাওয়ার উপক্রম- এই সবকিছুই বদলাতে হবে। আমরা সব বৈষম্যের কবর রচনা করতে চাই। এজন্য প্রয়োজনীয় সংস্কারের সব প্রস্তাব গণভোটে দেয়া হয়েছে। তাই গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়ে গণভোটকে পাস করিয়ে দেয়ার আহ্বান জানান তিনি।

জামায়াত ক্ষমতায় গেলে উত্তরবঙ্গে উন্নয়নের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ধুরন্ধররা উত্তরাঞ্চলের মানুষদের গরিব করে রেখেছে। দুর্নীতি ও দুঃশাসন না থাকলে উত্তরাঞ্চল কৃষিভিত্তিক শিল্পের রাজধানী হতো৷ আমরা উত্তরবঙ্গকে বাংলাদেশের গৌরবের কৃষি রাজধানী করবো, ইনশাআল্লাহ। এ সময় দেশ ইনসাফের ভিত্তিতে চললে কৃষক তার পণ্যের ন্যায্যমূল্য পাবে বলেও উল্লেখ করেন জামায়াত আমির।

তিনি আরও বলেন, যেসব ব্যক্তি ও গোষ্ঠীর সঙ্গে দুর্নীতি ও দুঃশাসনের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে, তাদের প্রত্যাখ্যান করা উচিত। রাজনৈতিক দল হিসেবে সবারই ভোট চাওয়ার অধিকার আছে, তবে ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে অতীত নয়, বরং চব্বিশের জুলাইয়ের পর রাজনৈতিক দলগুলোর ভূমিকা ও আচরণ দেখলেই সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

স্ট্যাটাসে জামায়াত আমির বলেন, ভোটাররা অবশ্যই নিজেদের পছন্দের প্রার্থী ও প্রতীক বেছে নেবেন। তবে মনে রাখতে হবে, ভোট শুধু ব্যক্তিগত অধিকার নয়; বরং দেশ ও জাতিকে সঠিক পথে পরিচালনার জন্য এটি একটি পবিত্র দায়িত্ব।

কোনো মুসলমানকে কাফের বলার অধিকার কারও নেই: গোলাম পরওয়ার

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও খুলনা-৫ (ডুমুরিয়া-ফুলতলা) সংসদীয় আসনে দল মনোনীত প্রার্থী মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, কোনো মুসলমানকে কাফের বলার অধিকার কারও নেই। তিনি আরও বলেন, ‘এটি শুধু রাজনৈতিক শিষ্টাচার লঙ্ঘন নয়, বরং ইসলামের মৌলিক শিক্ষার সরাসরি অবমাননা।’ আজ শুক্রবার সকালে তার নির্বাচনী এলাকায় গণসংযোগ ও পথসভায় বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বক্তব্যের সমালোচনা করে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, আমরা ভেবেছিলাম উনি বিদেশে গিয়েছেন, লেখা-পড়া করেছেন, কিছুটা পলিটিক্যাল ম্যাচুরেটি হয়তো আছে। কিন্তু দেখি উনিতো এখন বড় মুফতি হয়ে গেছেন। বিলেত থেকে ফতোয়া দিয়ে দিচ্ছেন কে মুশরিক, কে কাফের। এটা তার অধিকার নেই। এ ধরনের বক্তব্যের তীব্র নিন্দা জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, দেশের স্বাধীনতার স্থপতি শেখ মুজিবুর রহমান যে বিষয়গুলো মীমাংসা করে গেছেন, এখন সেই বিষয়গুলো সামনে এনে নতুন করে ন্যারেটিভ তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে।

মিয়া গোলাম পরওয়ার আরও বলেন, তারা দাবি করে আমরা নাকি জান্নাতের টিকিট বিক্রি করি। এটা মিথ্যা প্রচারণা। তারা বলে, আমরা নাকি ধর্ম নিয়ে রাজনীতি করি। তিনি বলেন, ধর্ম নিয়ে রাজনীতি জামায়াত করে না, ধর্ম মেনে চলে। যারা ১২ মাস ধর্ম মানে না, ভোটের সময় মাথায় টুপি পরে, ধর্মীয় লেবাস পরে, তারাই ধর্ম নিয়ে রাজনীতি করে।পরওয়ার বলেন, ‘জামায়াতে ইসলামী কোনো হত্যা, গণহত্যা বা ফৌজদারি অপরাধের সঙ্গে জড়িত নয়। স্বাধীনতার পর দীর্ঘ দশক পার হলেও এসব অভিযোগের ভিত্তিতে একটি মামলা বা জিডিও হয়নি। এটাই প্রমাণ করে অভিযোগগুলো রাজনৈতিকভাবে সাজানো।’

তিনি বলেন, ‘শেখ মুজিবুর রহমান ও জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর তাদের রাজনৈতিক উত্তরসূরিরা দলীয় স্বার্থে মিথ্যা ন্যারেটিভ তৈরি করে রাজনীতিকে যুক্তি, নৈতিকতা ও আদর্শশূন্য করে ফেলেছে এবং জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধে এসব ভোঁতা অস্ত্র ব্যবহার করছে।

তিনি আরও বলেন, শেখ মুজিবুর রহমান জীবিত অবস্থায় একাত্তরের বিষয়ে সমাধান করে গেছেন। তিনি সব ভেদাভেদ ভুলে, অনৈক্য যেন দেশে না থাকে তার চেষ্টা করেছেন। তিনি কলাবরেটর অ্যাক্ট [বাংলাদেশ কলাবরেটরস (স্পেশাল ট্রাইব্যুনালস) অর্ডার, ১৯৭২) তুলে নিয়ে ব্যাপারটাকে সমাধান করে গেছেন।

দুঃশাসন, দুর্নীতি ও রাজনৈতিক নিপীড়নের অন্ধকার অধ্যায় শেষ করতে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দেওয়ার কোনো বিকল্প নেই বলেও উল্লেখ করেন এই জামায়াত নেতা।

‘ফ্যামিলি কার্ড’ ভুয়া : ডা. তাহের

তথাকথিত ‘ফ্যামিলি কার্ড’ সম্পূর্ণ ভুয়া এবং এটি ব্যবহার করা বেআইনি বলে মন্তব্য করেছেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের। শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) বিকেলে কুমিল্লা-১১ আসনের চৌদ্দগ্রাম উপজেলার চিওড়া স্কুল মাঠে জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন ডা. তাহের।

জামায়াতের নায়েবে আমির বলেন, চিফ ইলেকশন কমিশনারও বিষয়টিকে অবৈধ ঘোষণা করেছেন। যারা এই কার্ড বহন করবে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের আটক করবে। এসব কার্যক্রম নির্বাচনের আচরণবিধির স্পষ্ট লঙ্ঘন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি বলেন, একটি রাজনৈতিক দল নতুন করে ভারতের সঙ্গে আপস করে আবারও দেশ শাসনের জন্য বাংলাদেশকে ভারতের কাছে বিক্রি করে দিতে চায়। এ দেশের মানুষ, বিশেষ করে চার কোটি যুবসমাজ, কখনোই তা হতে দেবে না।

ভয় পেয়ে একটি বড় দল আতঙ্ক ছড়াচ্ছে : নাহিদ ইসলাম
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে ১০ দলীয় জোটের গণজোয়ার দেখে একটি বড় দল ভয় পেয়েছে। তারা জনগণের মধ্যে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াচ্ছে, আতঙ্ক ছড়াচ্ছে। শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) রাজধানীর ভাটারার বাঁশতলায় নির্বাচনী প্রচারণার অংশ হিসেবে আয়োজিত গণমিছিলের আগে আয়োজিত সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।
এনসিপি আহ্বায়ক বলেন, আগামী নির্বাচনে চাঁদাবাজ, ভূমিদস্যুদের প্রতিহত করতে হবে। ঢাকা ১১ আসনে কোনও চাঁদবাজ, ভূমিদস্যুর স্থান হবে না।

নাহিদ ইসলাম বলেন, যারা ভোটকেন্দ্র দখলের পাঁয়তারা করছেন, তারা যেন সেই স্বপ্ন ভুলেও না দেখেন। আমরা প্রতিটি ভোটকেন্দ্র পাহারা দেব। বিজয় ছিনিয়ে নিয়ে বাড়ি ফিরব। আমরা বন্দুকের গুলি খেয়েও পিছু হটিনি, কেন্দ্র থেকেও পিছু হটব না।

তিনি বলেন, আমরা গণঅভ্যুত্থান করেছি এক ফ্যাসিবাদকে তাড়িয়ে অন্য ফ্যাসিবাদকে ফিরিয়ে আনার জন্য নয়। ইনসাফের বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করার জন্যই এত এত মানুষ জীবন দিয়েছেন।

এনসিপি আহ্বায়ক বলেন, ঢাকা-১১ আসন নানা সমস্যায় জর্জরিত। এ এলাকার ট্রাফিক সমস্যা, চাঁদাবাজ ও ভূমিদস্যু রয়েছে। আমরা সরকার গঠন করে এগুলো মুক্ত করব।

আমাদের ধোঁকা দিয়ে ক্ষমতায় যাওয়ার স্বপ্ন পূরণ হবে না : চরমোনাই

একটি দলকে উদ্দেশ করে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির (চরমোনাই পীর) মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম বলেছেন, ইসলামী আন্দোলন এমপি-মন্ত্রিত্বের জন্য রাজনীতি করে না। আমরা রাজনীতি করি এদেশ ও মানুষের কল্যাণ ও ইনসাফের জন্য। কিন্তু তারা আমাদেরকে ধোঁকা দিয়ে প্রতারিত করে ক্ষমতায় যাওয়ার যে স্বপ্ন দেখেছে, আমার মন বলছে সেই রঙিন স্বপ্ন পূরণ হবে না। শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) বিকেল ৪টায় সোনারগাঁয়ে নির্বাচনি জনসভায় তিনি এসব কথা বলে।

মুফতি রেজাউল করীম বলেন, ‌‘আমাদের ইসলামি ঐক্য গড়ার এই উদ্যোগকে সারাদেশের মানুষ আগ্রহ সহকারে গ্রহণ করে। একপর্যায়ে সবাই আমাদের উদ্যোগের প্রতি ঝুঁকেও পড়েছে। আমরা যখন ভালোভাবে এগোচ্ছিলাম, হঠাৎই স্বার্থান্বেষী কিছু দল ইসলামের এক বাক্সকে ব্ল্যাকমেইল করে, আমাদের ধোঁকা দিয়ে, প্রতারণার মাধ্যমে এটাকে ছিনিয়ে নিয়ে ক্ষমতায় যাবার স্বপ্ন দেখে। এই ক্ষমতায় যাওয়ার রঙিন স্বপ্ন নিয়ে তারা বিভিন্ন জায়গা তাদেরকে বলতে শুনেছি যে, শরিয়াহ আইন বাস্তবায়ন করবে না। তারা প্রচলিত নিয়মনীতিতেই দেশ পরিচালনা করবে। যা আমাদের জন্য সম্ভব না।’

তিনি বলেন, ‘আমরা যে নামাজ পড়ি, হজ করি, ন্যায়ের কথা বলি—এটাই তো শরিয়াহ। কিন্তু তারা শরিয়াহ বাঁধ দিয়ে প্রচলিত আইনের পক্ষে থাকায় আমাদের সন্দেহ জেগেছে যে, আমরা যে ঐক্যের স্বপ্নকে দেখেছি সেটা রেখে যারা রঙিন স্বপ্ন দেখেছে, তাদের মাধ্যমে জাতি প্রতারিত হবে। দেশ আবার অনিশ্চয়তার দিকে চলে যাবে। আমরা যে লক্ষ্য-উদ্দেশ্য নিয়ে চলছিলাম, সেটি আর বাস্তবায়ন হবে না। এজন্যই আমরা বেরিয়ে যাই।’

 

 

 

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

প্রচারণায় চলছে পরস্পর বিরোধী সমালোচনা আর প্রতিশ্রুতি, ‘হাঁ‘ ভোট ভাবনায় সরকার

আপডেট সময় : ০৯:২৫:২৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২৬

আগামী ১২ ফ্রেব্রুয়ারীতে ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন। একই দিনে গণভোটেরও আয়োজন করা হয়েছে। একদিকে সরকার নেমেছে হাঁ ভোটের পক্ষে জনসমর্থণ আদায়ের, অন্যদিকে পরস্পর বিরোধী সমালোচনা ও দেশ গড়ার নানা প্রতিশ্রুতি দিয়ে টেকনাফ থেকে তেতুলিয়ায় চষে বেড়াচ্ছেন রাজনৈতিক দলগুলোর নেতারা।

বৃহস্পতিবার বিএনপি নির্বাচনী প্রচারণা শুরু হয় সিলেট হযরত শাহাজালালের মাজার জেয়ারতের মধ্যদিয়ে। সিলেট বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের শ্বশুর বাড়ি। বাইশ বছর পর তিনি সেই বাড়িতেও যান। তারেক রহমানকে পেয়ে সিলেটের জনগন দুলাভাই দুলাভাই স্লোগানে মুখরিত করে রাখেন। সিলেট থেকে যাত্রা শুরু করে ইতিমধ্যে সাতটি জেলায় তিনি নির্বাচনী প্রচারণা শেষ করেন।  এসব সমাবেশে ধানের শীষের পাশাপাশি বিএনপির সঙ্গে আসন সমঝোতা হওয়া প্রার্থীদের পক্ষেও ভোট চান তিনি।

একইসঙ্গে এসব নির্বাচনী সমাবেশে আগামী দিনে বিএনপি সরকার গঠন করতে পারলে সারাদেশে খাল খনন, ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, বেকারদের প্রশিক্ষণ দিয়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং ইমাম-মুয়াজ্জিনদের সম্মানী ভাতা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন তারেক রহমান।

এই দিকে ঢাকার মিরপুর থেকে একই দিন নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেছে জামায়াতে ইসলাম। বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টায় মিরপুর আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে পবিত্র কোরআন থেকে তিলাওয়াতের মাধ্যমে সমাবেশটি শুরু হয়। সমাবেশে প্রধান অতিথি জামায়াত আমির শফিকুর রহমান। এছাড়া, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামসহ জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১০ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের নেতারা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

যদিও জামায়াতের ইসলামের বিরুদ্ধে স্বাধীনতা বিরোধীতার স্বচ্ছ গল্প রয়েছে। তবে সে জায়গা থেকে তারা সরে এসেছে বলে দাবি তুলছেন দলটির এ প্রজন্মের নেতারা। জামায়াতে ইসলামের আমির ড.শফিকুর রহমান প্রকাশ্যে জানিয়েছেন, ১৯৪৭ সাল থেকে এ পর্যন্ত যতগুলো অপরাধ তাদের দল বা দলের লোকজন করেছেন, যা সাধারণ মানুষের মনে দাগ পড়েছে তার জন্য ক্ষমাপ্রর্থী তারা।

জামায়াতে ইসলামী দলটি এখন আর পুরোপুরি কোন ইসলামিক দল নয়। খুলনায় একজন হিন্দু প্রার্থী দেয়ার মধ্য দিয়ে সেখান থেকে তারা সরে এসেছে। তাদের কর্মীদের দাবি বর্তমানে জামায়াতে ইসলাম দলটি হচ্ছে একটি লিবারেল দল। দলটির সাথে যুক্ত হয়েছে নতুন দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করা জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। তারাও ভোটের যুদ্ধে জনগণের উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে বেড়াচ্ছেন।

তবে নির্বাচনী প্রচারণার যাত্রায় রাজনৈতিক দলগুলো আলোচনা-সমালোচনায় পূর্বের জায়গা থেকে সরে আসতে পারেনি। কোন কোন নেতা আকার ইঙ্গিতে সমালোচনা করছেন, আবার কোন কোন নেতা অশোভনীয় ভাষায় প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। নির্বাচনী প্রচারণায় ভোট পাওয়ার প্রত্যাশায় জামায়াতে ইসলামের কিছু কর্মী এবং প্রার্থী বলে জড়াচ্ছেন তাদের ভোট দেয়ার মধ্য দিয়ে জান্নাতের টিকিট পাওয়াার সম্পর্ক রয়েছে। যদিও সোস্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া এই সব বক্তব্যকে অপপ্রচার বলে মনে করছেন দলটির মহাসচিব। অন্যদিকে জামায়াতের ব্যানারে ভোট যুদ্ধে নেমে এনসিপির তরুণ নেতারাও বিএনপির বিরুদ্ধে অপপ্রচারে লিপ্ত হচ্ছেন।

বৃহৎ এই দলটির বিরুদ্ধে চাঁদিাবাজি থেকে শুরু করে নানা অপকর্মের অপবাদ ছড়াচ্ছেন এনসিপির তরুণ নেতারা। রাজনীতির এই কাদা ছোড়াছুড়ির মধ্যে আবার নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ছে ক্রমাগত বিএনপি’র নেতাদের গুলি করে হত্যার ঘটনাবলী। সব মিলে ১২ ফেব্রুয়ারীর নির্বাচন কতোটা নির্ভেজালযুক্ত হবে এ নিয়ে থেকে যাচ্ছে আশঙ্কা।

তবুও ভোট যুদ্ধে থেমে নেই রাজনৈতিক দলগুলো ছুটে চলা…

রাজনীতির মাঠে বিএনপি 

দেশ গড়তে সঠিক ব্যক্তিকে ভোট প্রদান করুণ : তারেক রহমান

আজ শুক্রবার নির্বাচনী প্রচারণার দ্বিতীয় দিনেও চষে বেড়াচ্ছেন প্রার্থীরা। পাশাপাশি দলীয় প্রধানরাও থেমে নেই। বিএনপি চেয়ারম্যান বৃহস্পতিবার সিলেট থেকে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেন। ঢাকার পথে তিনি সাতটি জেলায় সমাবেশও প্রচারণা করেন। সিলেটে বেলা ১২টা থেকে শুরু হওয়া নির্বাচনী প্রচারণা শেষ হয় ভোর রাত ৪টা ১৬মিনিটে, নারায়নগঞ্জে।

আজ ঢাকার ভাষানটেকে প্রচারণা করেন তারেক রহমান। প্রথম দিনের প্রচারণায় তারেক রহমান অনেক প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, দেশকে নিরাপদ করতে হলে, ভোটের অধিকার ও কথা বলার অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। জনগণের মূল কাজ হচ্ছে সঠিক ব্যক্তিকে নির্বাচন করা।

তিনি বলেন, রাষ্ট্রকে মেরামত করতে হলে আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। এই দেশে মুসলমান, হিন্দু, খ্রিস্টানসহ সব ধর্মের মানুষ শান্তিতে বসবাস করে আসছেন। আগামীতেও আমরা সবাই মিলে শান্তিতে থাকতে চাই। এ জন্য আমাদের ভোটের অধিকার ও কথা বলার অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হবল, মা-বোনদের স্বাবলম্বী করতে হলে এবং কৃষক ভাইদের পাশে দাঁড়াতে হলে ধানের শীষে ভোট দিতে হবে।

আজ দ্বিতীয় দিনে ভাষানটেক, ঢাকা-১৭ আসনের প্রচারণায় তিনি বলেন,  গত ১৫ বছরের দুঃশাসনে দেশ অনেক পিছিয়ে গেছে। আমাদের বাংলাদেশকে পুনর্নির্মাণ করতে হবে। যদি বাংলাদেশকে পুনর্নির্মাণ করতে হয়, তাহলে অবশ্যই আমাদের দেশে গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। কারণ, গণতান্ত্রিকভাবে যদি আপনারা আপনাদের প্রতিনিধি নির্বাচন করতে পারেন, তাহলেই একমাত্র এলাকার সমস্যা নিয়ে তার কাছে যেতে পারবেন।

তারেক রহমান বলেন, শুধু জাতীয় নির্বাচনে নয়, একইসঙ্গে পৌরসভা-উপজেলা-ইউনিয়ন পরিষদ, সব জায়গায় জনপ্রতিনিধি নির্বাচন করতে হবে। অর্থাৎ, সব জায়গায় জবাবদিহিতা থাকতে হবে। আর যারা জনপ্রতিনিধি হবেন, তাদের অবশ্যই জানতে হবে জনগণের সমস্যা কী।

যারা স্বাধীনতা চায়নি, তাদের হাতে ক্ষমতা গেলে দেশ টিকবে না : মির্জা ফখরুল
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আমার বিরুদ্ধে ১১১টা মামলা। এগারো বার জেলে গেছি। চুরি-ডাকাতির জন্য নয়, ভোটাধিকার ও দেশের মানুষের জন্য আন্দোলন করতে গিয়ে জেলে গেছি। তার জন্য কোনো দুঃখ নাই, কষ্ট নাই। আমাদের যিনি অত্যাচার করতেন তিনি দেশ থেকে পালিয়ে গেছেন। সবাইকে ফেলে তিনি একাই চলে গেছেন নিজের জান নিয়ে। শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) বিকেলে সদর উপজেলার দেবিপুর ইউনিয়নের গুচ্ছগ্রাম ও শোলটহরি বাজারে নির্বাচনী প্রচারণায় তিনি এসব কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, আমি একটা সুযোগ পেয়েছি। এই নির্বাচনে যেন আমরা একটা সঠিক সরকার গঠন করতে পারি। ১৯৭১ সালের কথা নিশ্চয়ই আপনাদের মনে আছে? আমাদের মুক্তিযুদ্ধের কথা, এটা অনেক গর্বের। আমরা সবাই মিলে লড়াই করেছি, একটা বাংলাদেশের জন্য। এটাকে যারা অস্বীকার করেছে, এটার বিরুদ্ধে যারা ছিল, যারা পাকিস্তানি সেনাবাহিনীকে সাহায্য করেছিল তাদেরকে কি আপনারা বাংলাদেশের ক্ষমতায় আনতে চান? তারা ক্ষমতা চায়। একটা কথা মনে রাখবেন- যারা বাংলাদেশের স্বাধীনতা চায়নি, তাদেরকে যদি ক্ষমতায় নিয়ে আসেন এই দেশ টিকবে না।

তিনি আরও বলেন, তারা এখন সুন্দর সুন্দর কথা বলছে। কিন্তু একবার বলে না যে আমরা ৭১ সালে ভুল করেছিলাম। জাষ্ঠিভাঙ্গায় আমার হিন্দু ভাইদেরকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। আমরা কেউ ভুলে যায়নি। হিন্দু-মুসলমান, বৌদ্ধ-খ্রিস্টান আমরা সবাই মিলে দেশটাকে গড়তে চাই।

 জান্নাতের টিকিট দেয়ার মালিক একমাত্র আল্লাহ, কোন প্রতীক বা দল নয় : আমিনুল ইসলাম 

ঢাকা-১৬ আসনের প্রার্থী জাতীয় দলের সাবেক ফুটবলার ও অধিনায়ক আমিনুল ইসলাম। গত পনের বছরে জেল-ঝুলুম ও নানা অত্যাচার সহ্য করেছেন তিনি। সংসদ নির্বাচনে অংশ নেয়া তার জীবনের প্রথম অধ্যায়। আজ শুক্রবার নিজ এলাকায় নির্বাচনী প্রচারণা করতে গিয়ে প্রতিপক্ষ জামায়াতে ইসলাম এর বিপক্ষে অপবাদের আঙুল তুলেছেন। অভিযোগ তুলেছেন ধর্মকে অপব্যবহারের। তাই এই জায়গা থেকে ভোটারদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন,যারা রাজনৈতিক স্বার্থে ধর্মকে পুঁজি করে ভোট আদায়ের চেষ্টা করছে, তারা মূলত ধর্মপ্রাণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করছে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আজ নির্বাচনী প্রচারণার দ্বিতীয় দিনে মিরপুরের ১২ নম্বর পল্লবী স্টেশনের সামনে থেকে গণসংযোগ কর্মসূচি শুরু করেন আমিনুল হক। এ সময় আয়োজিত এক পথসভায় তিনি ভোটারদের উদ্দেশে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন।

তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ‘জান্নাত দেওয়ার মালিক একমাত্র মহান আল্লাহ। কোনো ব্যক্তি বা কোনো নির্বাচনী প্রতীক কাউকে জান্নাত দিতে পারে না। তাই রাজনৈতিক স্বার্থে ধর্মের অপব্যবহার থেকে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।’

আমিনুল হক বলেন, ‘আমরা কখনো ধর্মকে রাজনৈতিক ঢাল হিসেবে ব্যবহার করি না। আমাদের লক্ষ্য একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন, যেখানে জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে একটি গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠিত হবে।’

পুরান ঢাকার সমস্যার স্থায়ী সমাধান করতে চাই
পুরান ঢাকার দীর্ঘদিনের গ্যাস সংকট, জলাবদ্ধতা, ভাঙা রাস্তা, দূষণ ও ট্রাফিক জ্যামের মতো জটিল সমস্যাগুলোর স্থায়ী সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন ঢাকা-৬ আসনের বিএনপির মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন। তিনি বলেন, উন্নয়ন ও গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার মাধ্যমেই পুরান ঢাকাকে বাসযোগ্য নগরীতে রূপান্তর করা হবে। শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) রাজধানী সুরিটোলা স্কুলের সামনে দ্বিতীয় দিনের মতো নির্বাচনী প্রচারণার অংশ নিয়ে তিনি এ সব কথা বলেন।

ইশরাক হোসেন বলেন, জনগণ অত্যন্ত উচ্ছ্বসিত এবং তারা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিয়ে তাদের জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত করার জন্য তারা অপেক্ষা করছেন। আমরাও সবাইকে উদ্বুদ্ধ করেছি, যাতে সবাই ভোটকেন্দ্রে যায় এবং তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করে।

ইশরাক হোসেন বলেন, আমরা আন্দোলন-সংগ্রাম করে এই জায়গায় এসেছি, ভেসে আসিনি। আমাদের দীর্ঘ ১৭ বছরের ত্যাগ রয়েছে। আমাদের বহু ভাইয়ের রক্ত রয়েছে। তারা কোথায় ছিল? তারা তো হঠাৎ করে বের হয়েছে ২৪ এর ৫ আগস্টের এরপরে। এই গুপ্ত বাহিনী হঠাৎ করে উদয় হয়েছে। এর আগে আমরা দেখেছি, তারা ভোর ৬টার সময়, যখন রাস্তাঘাটে জনগণ থাকত না, তখন চুপ করে অন্ধকারে বের হয়ে মিছিল করে চলে যেত এই ছিল তাদের আন্দোলন।

তিনি আরও বলেন, আমরা রাজপথে বুক ফুলিয়ে রক্ত দিয়েছি, গুলির মুখে দাঁড়িয়েছি। আমাদের হত্যা করা হয়েছে, ১৭ বছর ধরে গুম-খুনের শিকার হয়েছি। আমরা কোনো সময় পিছু হটিনি। তাই এখন তারা যা বলছে, তারাও জানে ঢাকা শহরের সবগুলোর জামানত বাজেয়াপ্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে তাদের। এসব কেবল তাদের নেতাকর্মীদের উৎসাহ জাগানোর জন্য বলছে।

বিএনপি দুর্নীতি চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে,  এমন মন্তব্য করে তিনি জানান, আমরা কথা দিচ্ছি, যারা অবৈধভাবে বিভিন্ন জায়গায় স্থাপনা নির্মাণ করছে ফুটপাতে, রাস্তায় অবৈধ স্থাপনা গড়ে তুলছে এবং সেখান থেকে চাঁদা তুলছেন, তাদের ব্যাপারে আমরা জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছি। কোনো অবৈধ স্থাপনা ও অবৈধ কর্মকাণ্ড আমাদের দল অনুমোদন করে না। আমরাও এর বিরুদ্ধে জোরালো অবস্থান নিয়েছি।

কর্মসংস্থান ও নারীদের উন্নয়নের বিষয়ে তিনি বলেন, কর্মসংস্থান ও নারীদের উন্নয়নের বিষয়ে আমাদের ৩১ দফার মধ্যে বিস্তারিত বলা আছে। আমরা বলেছি আগামী এক বছরে কতগুলো কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে চাই এবং কীভাবে করতে চাই। ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের ফ্যাসিলিটেট করে তারাও যাতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে পারে, সে উদ্যোগ আমাদের রয়েছে। নারীদের ক্ষমতায়নের ব্যাপারেও আমাদের ব্যাপক পরিকল্পনা রয়েছে ফ্যামিলি কার্ড, নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করা, নারীদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থাপনা, গণপরিবহনসহ বিভিন্ন জায়গায় যাতে তারা স্বস্তিতে চলাফেরা করতে পারে, সে ব্যবস্থাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

রাজনীতির মাঠে জামায়াতে ইসলাম

ক্ষমতায় গেলে ৩ শর্তে সবাইকে নিয়ে দেশ গড়ব: ডা. শফিকুর রহমান

জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে ক্ষমতায় গেলে ৩ শর্তে সবাইকে নিয়ে দেশ গড়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) ঠাকুরগাঁওয়ে ১০ দলীয় জোটের নির্বাচনি জনসভায় বক্তব্যকালে এমন প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

তিনি বলেন, আল্লাহ যদি আপনাদের ভোটে আমাদের নির্বাচিত করে, আপনাদের ভালোবাসা ও সমর্থনে সরকার গঠনের সুযোগ দেন, তাহলে বাংলাদেশের সব জেলায় একটি করে মানসম্মত সরকারি মেডিকেল কলেজ গড়ে তোলা হবে। যারা সব সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছে, তাদের দুয়ারে আগামীর উন্নয়ন সবার আগে চলে যাবে, ইনশাআল্লাহ। আমরা বৈষম্য করব না, আমরা আল্লাহকে ভয় করি। আল্লাহকে ভয় করার কারণেই প্রথমে বঞ্চিত মানুষদের অধিকার তাদের হাতে তুলে দেয়া হবে।

১০ দলীয় জোটের প্রার্থীকে ভোট দেয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এর আগে দফায় দফায় আপনারা অনেককে আপনাদের মূল্যবান ভোট, ভালোবাসা-সমর্থন দিয়েছেন, এবার জামায়াতে ইসলামী নয়; এ দেশের মুক্তিকামী মানুষের ১০ দলের ঠিকানায় আপনারা ভোট দেবেন। আমরা একা বাংলাদেশ গড়তে পারব না, জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করেই নতুন বাংলাদেশ গড়তে হবে। আল্লাহ আমাদের সফলতা দিলে আমরা কাউকে বাদ দেবো না, সবাইকে নিয়ে মিলেমিশেই বাংলাদেশ গড়ে তুলব।

এ ক্ষেত্রে তিনটি শর্ত মেনে নিতে হবে উল্লেখ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এক নম্বর শর্ত হলো- নিজে কোনো দুর্নীতি করবেন না এবং কোনো দুর্নীতিবাজকে আশ্রয় দেবেন না। নম্বর দুই শর্ত- গরিব-দুঃখী, নারী-পুরুষ, সব ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে এবং সেই বিচার হবে সবার জন্য সমান। সেই বিচারে কেউ রাজনীতিবিদ হিসেবে হস্তক্ষেপ করতে পারবেন না। বিচার বিভাগ হবে সম্পূর্ণ স্বাধীন, আর বিচার হবে ন্যায়-ইনসাফের ভিত্তিতে। কোনো বে-ইনসাফি বিচার আর বিকিকিনি হবে না। এটা মেনে নিতে হবে।

জামায়াত আমির বলেন, ৫৪ বছরের বস্তাপচা রাজনীতি, যা দুঃশাসন আর দুর্নীতিতে দেশকে ডুবিয়ে ফেলেছে, চাঁদাবাজদের রমরমা ব্যবসা আর জনগণের জান যাওয়ার উপক্রম- এই সবকিছুই বদলাতে হবে। আমরা সব বৈষম্যের কবর রচনা করতে চাই। এজন্য প্রয়োজনীয় সংস্কারের সব প্রস্তাব গণভোটে দেয়া হয়েছে। তাই গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়ে গণভোটকে পাস করিয়ে দেয়ার আহ্বান জানান তিনি।

জামায়াত ক্ষমতায় গেলে উত্তরবঙ্গে উন্নয়নের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ধুরন্ধররা উত্তরাঞ্চলের মানুষদের গরিব করে রেখেছে। দুর্নীতি ও দুঃশাসন না থাকলে উত্তরাঞ্চল কৃষিভিত্তিক শিল্পের রাজধানী হতো৷ আমরা উত্তরবঙ্গকে বাংলাদেশের গৌরবের কৃষি রাজধানী করবো, ইনশাআল্লাহ। এ সময় দেশ ইনসাফের ভিত্তিতে চললে কৃষক তার পণ্যের ন্যায্যমূল্য পাবে বলেও উল্লেখ করেন জামায়াত আমির।

তিনি আরও বলেন, যেসব ব্যক্তি ও গোষ্ঠীর সঙ্গে দুর্নীতি ও দুঃশাসনের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে, তাদের প্রত্যাখ্যান করা উচিত। রাজনৈতিক দল হিসেবে সবারই ভোট চাওয়ার অধিকার আছে, তবে ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে অতীত নয়, বরং চব্বিশের জুলাইয়ের পর রাজনৈতিক দলগুলোর ভূমিকা ও আচরণ দেখলেই সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

স্ট্যাটাসে জামায়াত আমির বলেন, ভোটাররা অবশ্যই নিজেদের পছন্দের প্রার্থী ও প্রতীক বেছে নেবেন। তবে মনে রাখতে হবে, ভোট শুধু ব্যক্তিগত অধিকার নয়; বরং দেশ ও জাতিকে সঠিক পথে পরিচালনার জন্য এটি একটি পবিত্র দায়িত্ব।

কোনো মুসলমানকে কাফের বলার অধিকার কারও নেই: গোলাম পরওয়ার

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও খুলনা-৫ (ডুমুরিয়া-ফুলতলা) সংসদীয় আসনে দল মনোনীত প্রার্থী মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, কোনো মুসলমানকে কাফের বলার অধিকার কারও নেই। তিনি আরও বলেন, ‘এটি শুধু রাজনৈতিক শিষ্টাচার লঙ্ঘন নয়, বরং ইসলামের মৌলিক শিক্ষার সরাসরি অবমাননা।’ আজ শুক্রবার সকালে তার নির্বাচনী এলাকায় গণসংযোগ ও পথসভায় বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বক্তব্যের সমালোচনা করে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, আমরা ভেবেছিলাম উনি বিদেশে গিয়েছেন, লেখা-পড়া করেছেন, কিছুটা পলিটিক্যাল ম্যাচুরেটি হয়তো আছে। কিন্তু দেখি উনিতো এখন বড় মুফতি হয়ে গেছেন। বিলেত থেকে ফতোয়া দিয়ে দিচ্ছেন কে মুশরিক, কে কাফের। এটা তার অধিকার নেই। এ ধরনের বক্তব্যের তীব্র নিন্দা জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, দেশের স্বাধীনতার স্থপতি শেখ মুজিবুর রহমান যে বিষয়গুলো মীমাংসা করে গেছেন, এখন সেই বিষয়গুলো সামনে এনে নতুন করে ন্যারেটিভ তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে।

মিয়া গোলাম পরওয়ার আরও বলেন, তারা দাবি করে আমরা নাকি জান্নাতের টিকিট বিক্রি করি। এটা মিথ্যা প্রচারণা। তারা বলে, আমরা নাকি ধর্ম নিয়ে রাজনীতি করি। তিনি বলেন, ধর্ম নিয়ে রাজনীতি জামায়াত করে না, ধর্ম মেনে চলে। যারা ১২ মাস ধর্ম মানে না, ভোটের সময় মাথায় টুপি পরে, ধর্মীয় লেবাস পরে, তারাই ধর্ম নিয়ে রাজনীতি করে।পরওয়ার বলেন, ‘জামায়াতে ইসলামী কোনো হত্যা, গণহত্যা বা ফৌজদারি অপরাধের সঙ্গে জড়িত নয়। স্বাধীনতার পর দীর্ঘ দশক পার হলেও এসব অভিযোগের ভিত্তিতে একটি মামলা বা জিডিও হয়নি। এটাই প্রমাণ করে অভিযোগগুলো রাজনৈতিকভাবে সাজানো।’

তিনি বলেন, ‘শেখ মুজিবুর রহমান ও জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর তাদের রাজনৈতিক উত্তরসূরিরা দলীয় স্বার্থে মিথ্যা ন্যারেটিভ তৈরি করে রাজনীতিকে যুক্তি, নৈতিকতা ও আদর্শশূন্য করে ফেলেছে এবং জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধে এসব ভোঁতা অস্ত্র ব্যবহার করছে।

তিনি আরও বলেন, শেখ মুজিবুর রহমান জীবিত অবস্থায় একাত্তরের বিষয়ে সমাধান করে গেছেন। তিনি সব ভেদাভেদ ভুলে, অনৈক্য যেন দেশে না থাকে তার চেষ্টা করেছেন। তিনি কলাবরেটর অ্যাক্ট [বাংলাদেশ কলাবরেটরস (স্পেশাল ট্রাইব্যুনালস) অর্ডার, ১৯৭২) তুলে নিয়ে ব্যাপারটাকে সমাধান করে গেছেন।

দুঃশাসন, দুর্নীতি ও রাজনৈতিক নিপীড়নের অন্ধকার অধ্যায় শেষ করতে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দেওয়ার কোনো বিকল্প নেই বলেও উল্লেখ করেন এই জামায়াত নেতা।

‘ফ্যামিলি কার্ড’ ভুয়া : ডা. তাহের

তথাকথিত ‘ফ্যামিলি কার্ড’ সম্পূর্ণ ভুয়া এবং এটি ব্যবহার করা বেআইনি বলে মন্তব্য করেছেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের। শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) বিকেলে কুমিল্লা-১১ আসনের চৌদ্দগ্রাম উপজেলার চিওড়া স্কুল মাঠে জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন ডা. তাহের।

জামায়াতের নায়েবে আমির বলেন, চিফ ইলেকশন কমিশনারও বিষয়টিকে অবৈধ ঘোষণা করেছেন। যারা এই কার্ড বহন করবে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের আটক করবে। এসব কার্যক্রম নির্বাচনের আচরণবিধির স্পষ্ট লঙ্ঘন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি বলেন, একটি রাজনৈতিক দল নতুন করে ভারতের সঙ্গে আপস করে আবারও দেশ শাসনের জন্য বাংলাদেশকে ভারতের কাছে বিক্রি করে দিতে চায়। এ দেশের মানুষ, বিশেষ করে চার কোটি যুবসমাজ, কখনোই তা হতে দেবে না।

ভয় পেয়ে একটি বড় দল আতঙ্ক ছড়াচ্ছে : নাহিদ ইসলাম
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে ১০ দলীয় জোটের গণজোয়ার দেখে একটি বড় দল ভয় পেয়েছে। তারা জনগণের মধ্যে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াচ্ছে, আতঙ্ক ছড়াচ্ছে। শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) রাজধানীর ভাটারার বাঁশতলায় নির্বাচনী প্রচারণার অংশ হিসেবে আয়োজিত গণমিছিলের আগে আয়োজিত সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।
এনসিপি আহ্বায়ক বলেন, আগামী নির্বাচনে চাঁদাবাজ, ভূমিদস্যুদের প্রতিহত করতে হবে। ঢাকা ১১ আসনে কোনও চাঁদবাজ, ভূমিদস্যুর স্থান হবে না।

নাহিদ ইসলাম বলেন, যারা ভোটকেন্দ্র দখলের পাঁয়তারা করছেন, তারা যেন সেই স্বপ্ন ভুলেও না দেখেন। আমরা প্রতিটি ভোটকেন্দ্র পাহারা দেব। বিজয় ছিনিয়ে নিয়ে বাড়ি ফিরব। আমরা বন্দুকের গুলি খেয়েও পিছু হটিনি, কেন্দ্র থেকেও পিছু হটব না।

তিনি বলেন, আমরা গণঅভ্যুত্থান করেছি এক ফ্যাসিবাদকে তাড়িয়ে অন্য ফ্যাসিবাদকে ফিরিয়ে আনার জন্য নয়। ইনসাফের বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করার জন্যই এত এত মানুষ জীবন দিয়েছেন।

এনসিপি আহ্বায়ক বলেন, ঢাকা-১১ আসন নানা সমস্যায় জর্জরিত। এ এলাকার ট্রাফিক সমস্যা, চাঁদাবাজ ও ভূমিদস্যু রয়েছে। আমরা সরকার গঠন করে এগুলো মুক্ত করব।

আমাদের ধোঁকা দিয়ে ক্ষমতায় যাওয়ার স্বপ্ন পূরণ হবে না : চরমোনাই

একটি দলকে উদ্দেশ করে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির (চরমোনাই পীর) মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম বলেছেন, ইসলামী আন্দোলন এমপি-মন্ত্রিত্বের জন্য রাজনীতি করে না। আমরা রাজনীতি করি এদেশ ও মানুষের কল্যাণ ও ইনসাফের জন্য। কিন্তু তারা আমাদেরকে ধোঁকা দিয়ে প্রতারিত করে ক্ষমতায় যাওয়ার যে স্বপ্ন দেখেছে, আমার মন বলছে সেই রঙিন স্বপ্ন পূরণ হবে না। শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) বিকেল ৪টায় সোনারগাঁয়ে নির্বাচনি জনসভায় তিনি এসব কথা বলে।

মুফতি রেজাউল করীম বলেন, ‌‘আমাদের ইসলামি ঐক্য গড়ার এই উদ্যোগকে সারাদেশের মানুষ আগ্রহ সহকারে গ্রহণ করে। একপর্যায়ে সবাই আমাদের উদ্যোগের প্রতি ঝুঁকেও পড়েছে। আমরা যখন ভালোভাবে এগোচ্ছিলাম, হঠাৎই স্বার্থান্বেষী কিছু দল ইসলামের এক বাক্সকে ব্ল্যাকমেইল করে, আমাদের ধোঁকা দিয়ে, প্রতারণার মাধ্যমে এটাকে ছিনিয়ে নিয়ে ক্ষমতায় যাবার স্বপ্ন দেখে। এই ক্ষমতায় যাওয়ার রঙিন স্বপ্ন নিয়ে তারা বিভিন্ন জায়গা তাদেরকে বলতে শুনেছি যে, শরিয়াহ আইন বাস্তবায়ন করবে না। তারা প্রচলিত নিয়মনীতিতেই দেশ পরিচালনা করবে। যা আমাদের জন্য সম্ভব না।’

তিনি বলেন, ‘আমরা যে নামাজ পড়ি, হজ করি, ন্যায়ের কথা বলি—এটাই তো শরিয়াহ। কিন্তু তারা শরিয়াহ বাঁধ দিয়ে প্রচলিত আইনের পক্ষে থাকায় আমাদের সন্দেহ জেগেছে যে, আমরা যে ঐক্যের স্বপ্নকে দেখেছি সেটা রেখে যারা রঙিন স্বপ্ন দেখেছে, তাদের মাধ্যমে জাতি প্রতারিত হবে। দেশ আবার অনিশ্চয়তার দিকে চলে যাবে। আমরা যে লক্ষ্য-উদ্দেশ্য নিয়ে চলছিলাম, সেটি আর বাস্তবায়ন হবে না। এজন্যই আমরা বেরিয়ে যাই।’