ঢাকা ০৭:৩৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी

গণভোটে ‘হাঁ’ এর পক্ষে সবার রায় চায় সরকার

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ০৭:৪৭:৩৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬
  • / ৭৬ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

সরকারের পক্ষ থেকে গণভোটে জোর দেয়া হচ্ছে। বিভিন্ন সভা-সেমিনারে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টারে গণভোটের পক্ষে সাধারণ জনগণকে সচেতন করার চেষ্টা করে যাচ্ছেন। সেখানে উপদেষ্টারা সবাইকে অনুরোধ জানাচ্ছেন যেন জনগণ ‘হাঁ’ ভোটের পক্ষে ভোট দেন। এতে দেশের রাজনীতির দীর্ঘদিনের সমস্যা সমাধানের পথ দেখছেন তারা। শিল্প, গৃহায়ন ও গণপূর্ত এবং স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান বলেছেন, গণভোট নিয়ে যারা প্রশ্ন তুলছে, তারা মূলত পলাতক ও পরাজিত শক্তি।

তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে যারা আত্মহুতি দিয়েছেন, তাদের সহযোদ্ধাদের উদ্যোগেই জুলাই সনদ প্রণয়ন হয়েছে এবং সেই সনদ বাস্তবায়নের লক্ষ্যেই গণভোটের আয়োজন করা হয়েছে।

সোমবার (১৯ জানুয়ারি) সকালে কিশোরগঞ্জ শহরের গুরুদয়াল সরকারি কলেজ মাঠে স্থাপিত জুলাই স্মৃতি স্তম্ভে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন তিনি।

আদিলুর রহমান খান বলেন, যারা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বিপক্ষের শক্তি তারা এটা নিয়ে কিছু ভাবতে পারে, ষড়যন্ত্র করতে পারে। তারাই এখন গণভোট নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। কিন্তু বাংলাদেশের জনগণ জুলাইয়ের কাফেলায়। তাই বাংলাদেশ গণঅভ্যুত্থানের পক্ষ নিয়েছে। গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়েই জনগণ তাদের অবস্থান স্পষ্ট করবে।

তিনি বলেন, বর্তমান সরকার গণঅভ্যুত্থানের সরকার। সংগ্রামী ছাত্র-জনতার অংশগ্রহণেই জুলাই সনদ প্রণয়ন করা হয়েছে এবং এই সনদ বাস্তবায়নেও সরকার ছাত্র-জনতাকে সঙ্গে নিয়েই এগোবে।

গণভোট সম্পর্কে তিনি বলেন, আগামী ১২ তারিখে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের মাধ্যমে জনগণের সমর্থন নিশ্চিত হবে। এরপর স্থানীয় পর্যায় থেকে পছন্দমতো প্রার্থী নির্বাচনের মাধ্যমে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে আসবে।

বাংলাদেশের জনগণকে সচেতন ও বুদ্ধিমান উল্লেখ করে উপদেষ্টা বলেন, এই জাতি আগেও ইতিহাস রচনা করেছে। নির্বাচনী প্রচারণার আর মাত্র দুই দিন বাকি। এরপর সারা দেশে গণভোট, জুলাই সনদ এবং জনগণের অধিকার রক্ষার পক্ষে এক কাতারে দাঁড়াবে।

এদিকে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খানও গণভোটে ‘হাঁ’ ভোটের পক্ষে রায় দেয়ার অনুরোধ জানিয়ে বলেছেন, আপনারা যদি সংস্কার চান, পরিবর্তন চান, আপনি যদি বিচার ব্যবস্থা ভালো দেখতে চান তাহলে অবশ্যই ‘হ্যাঁ’ ভোট দেবেন। সোমবার (১৯ জানুয়ারি) সকালে টাঙ্গাইলের শহীদ স্মৃতি পৌর উদ্যানে প্রচারণার ভোটের গাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান বলেন, আপনি যদি বাংলাদেশের মঙ্গল চান, রাজপথের সহিংসতা দেখতে না চান, আপনি যদি মানুষের খুন দেখতে না চান। তাহলে অবশ্যই ‘হ্যাঁ’ ভোট দেবেন। দেশের চাবি আপনার হাতে। এই জন্যই আমাদের গণভোটের প্রচারণায় ভোটের গাড়ি। আবার একটা হানাহানি, আবার একটা পাঁচ আগস্ট হোক, লাখ লাখ লোক রাস্তায় নেমে আসুক। লোকজনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটুক। এ ধরনের পুনরাবৃত্তি আমরা চাই না। এ ধরনের পুনরাবৃত্তি আর যেন না হয় তার জন্য ‘হ্যা’ ভোট। জনগণ যদি এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না চায় তার জন্য সংস্কার কমিশন রিপোর্ট দিয়েছে। এই সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়নের জন্য ‘হ্যা’ ভোট।

তিনি বলেন, বিশ্বের অন্যান্য দেশে বারবার গণঅভ্যুত্থানের মতো এ রকম ঘটনা ঘটে না। কিন্তু আমাদের দেশে কেন এটা হয়-এজন্যই আমরা রাষ্ট্র ব্যবস্থার সংস্কার চাই। আপনারা যদি মনে করেন আগের সরকারই ঠিক ছিল। গুম, খুন ঠিক ছিল, বিরোধী দলের লোক বাড়িতে থাকতে পারবে না সেটাই ভালো ছিল, তাহলে গণভোটে ‘না’ ভোট দেবেন।

এ সময় টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক শরীফা হক, পুলিশ সুপার মুহাম্মদ শামসুল আলম সরকার, জেলা সিনিয়র নির্বাচন কর্মকর্তা তাজুল ইসলাম, জেলা সিনিয়র তথ্য অফিসার তাহলিমা জান্নাতসহ জেলার বিভিন্ন দপ্তর ও বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

গণভোটে ‘হাঁ’ এর পক্ষে সবার রায় চায় সরকার

আপডেট সময় : ০৭:৪৭:৩৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬

সরকারের পক্ষ থেকে গণভোটে জোর দেয়া হচ্ছে। বিভিন্ন সভা-সেমিনারে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টারে গণভোটের পক্ষে সাধারণ জনগণকে সচেতন করার চেষ্টা করে যাচ্ছেন। সেখানে উপদেষ্টারা সবাইকে অনুরোধ জানাচ্ছেন যেন জনগণ ‘হাঁ’ ভোটের পক্ষে ভোট দেন। এতে দেশের রাজনীতির দীর্ঘদিনের সমস্যা সমাধানের পথ দেখছেন তারা। শিল্প, গৃহায়ন ও গণপূর্ত এবং স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান বলেছেন, গণভোট নিয়ে যারা প্রশ্ন তুলছে, তারা মূলত পলাতক ও পরাজিত শক্তি।

তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে যারা আত্মহুতি দিয়েছেন, তাদের সহযোদ্ধাদের উদ্যোগেই জুলাই সনদ প্রণয়ন হয়েছে এবং সেই সনদ বাস্তবায়নের লক্ষ্যেই গণভোটের আয়োজন করা হয়েছে।

সোমবার (১৯ জানুয়ারি) সকালে কিশোরগঞ্জ শহরের গুরুদয়াল সরকারি কলেজ মাঠে স্থাপিত জুলাই স্মৃতি স্তম্ভে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন তিনি।

আদিলুর রহমান খান বলেন, যারা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বিপক্ষের শক্তি তারা এটা নিয়ে কিছু ভাবতে পারে, ষড়যন্ত্র করতে পারে। তারাই এখন গণভোট নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। কিন্তু বাংলাদেশের জনগণ জুলাইয়ের কাফেলায়। তাই বাংলাদেশ গণঅভ্যুত্থানের পক্ষ নিয়েছে। গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়েই জনগণ তাদের অবস্থান স্পষ্ট করবে।

তিনি বলেন, বর্তমান সরকার গণঅভ্যুত্থানের সরকার। সংগ্রামী ছাত্র-জনতার অংশগ্রহণেই জুলাই সনদ প্রণয়ন করা হয়েছে এবং এই সনদ বাস্তবায়নেও সরকার ছাত্র-জনতাকে সঙ্গে নিয়েই এগোবে।

গণভোট সম্পর্কে তিনি বলেন, আগামী ১২ তারিখে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের মাধ্যমে জনগণের সমর্থন নিশ্চিত হবে। এরপর স্থানীয় পর্যায় থেকে পছন্দমতো প্রার্থী নির্বাচনের মাধ্যমে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে আসবে।

বাংলাদেশের জনগণকে সচেতন ও বুদ্ধিমান উল্লেখ করে উপদেষ্টা বলেন, এই জাতি আগেও ইতিহাস রচনা করেছে। নির্বাচনী প্রচারণার আর মাত্র দুই দিন বাকি। এরপর সারা দেশে গণভোট, জুলাই সনদ এবং জনগণের অধিকার রক্ষার পক্ষে এক কাতারে দাঁড়াবে।

এদিকে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খানও গণভোটে ‘হাঁ’ ভোটের পক্ষে রায় দেয়ার অনুরোধ জানিয়ে বলেছেন, আপনারা যদি সংস্কার চান, পরিবর্তন চান, আপনি যদি বিচার ব্যবস্থা ভালো দেখতে চান তাহলে অবশ্যই ‘হ্যাঁ’ ভোট দেবেন। সোমবার (১৯ জানুয়ারি) সকালে টাঙ্গাইলের শহীদ স্মৃতি পৌর উদ্যানে প্রচারণার ভোটের গাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান বলেন, আপনি যদি বাংলাদেশের মঙ্গল চান, রাজপথের সহিংসতা দেখতে না চান, আপনি যদি মানুষের খুন দেখতে না চান। তাহলে অবশ্যই ‘হ্যাঁ’ ভোট দেবেন। দেশের চাবি আপনার হাতে। এই জন্যই আমাদের গণভোটের প্রচারণায় ভোটের গাড়ি। আবার একটা হানাহানি, আবার একটা পাঁচ আগস্ট হোক, লাখ লাখ লোক রাস্তায় নেমে আসুক। লোকজনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটুক। এ ধরনের পুনরাবৃত্তি আমরা চাই না। এ ধরনের পুনরাবৃত্তি আর যেন না হয় তার জন্য ‘হ্যা’ ভোট। জনগণ যদি এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না চায় তার জন্য সংস্কার কমিশন রিপোর্ট দিয়েছে। এই সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়নের জন্য ‘হ্যা’ ভোট।

তিনি বলেন, বিশ্বের অন্যান্য দেশে বারবার গণঅভ্যুত্থানের মতো এ রকম ঘটনা ঘটে না। কিন্তু আমাদের দেশে কেন এটা হয়-এজন্যই আমরা রাষ্ট্র ব্যবস্থার সংস্কার চাই। আপনারা যদি মনে করেন আগের সরকারই ঠিক ছিল। গুম, খুন ঠিক ছিল, বিরোধী দলের লোক বাড়িতে থাকতে পারবে না সেটাই ভালো ছিল, তাহলে গণভোটে ‘না’ ভোট দেবেন।

এ সময় টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক শরীফা হক, পুলিশ সুপার মুহাম্মদ শামসুল আলম সরকার, জেলা সিনিয়র নির্বাচন কর্মকর্তা তাজুল ইসলাম, জেলা সিনিয়র তথ্য অফিসার তাহলিমা জান্নাতসহ জেলার বিভিন্ন দপ্তর ও বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।