ঢাকা ১২:২২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬, ২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी

মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন পলাতক ওবায়দুল কাদের

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১২:৫৮:১১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ জানুয়ারী ২০২৬
  • / ৫৫ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

গত ৫ আগস্টের পর ভারতে পলাতক আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরর অবস্থা খুবই সংকটপন্ন। কেউ বলছেন ওবায়দুল কাদের মারা গেছেন, বিষয়টি গোপন রাখা হচ্ছে। এদিকে জানা যায়, দুদিন আগে হঠাৎ অসুস্থ্য হয়ে পড়েন ওবায়দুল কাদের। কলকাতার অ্যাপোলো হাসপাতালের ভেন্টিলেশনে নেয়া হয়েছিলো তাকে। কিন্তু কোন ধরনের চিকিৎসা নিতে পারছেন না তিনি। হাসপাতাল সূত্রে জানানো হয়েছে, এই সংকটাপন্ন অবস্থায় পরিবারের সিদ্ধান্ত তাকে কলকাতার বাড়িতে ফিরিয়ে নেয়া হবে। বাড়িতেই চিকিৎসক ও লাইফ সাপোর্টসহ মেডিকেল ফেসিলিটির মাধ্যমে তাকে রাখা হবে। তবে ডাক্তাররা তার আশা ছেড়ে দেন।

এক সময় বাংলাদেশের দাপুটি মন্ত্রী ও পতিত শেখ হাসিনার অত্যন্ত আস্থাভাজন ছিলেন ওবায়দুল কাদের।  জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর ভারতে পালিয়ে যান। সেখানে গিয়েও তিনি নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন। গত শুক্রবার (২ জানুয়ারি) আচমকাই তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে প্রায় সংজ্ঞাহীন অবস্থায় তাকে কলকাতার বাইপাসের কাছে অ্যাপোলো হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

বার্ধক্যজনিত একাধিক অসুস্থতার কারণে বেশ কিছুদিন যাবত শয্যাশায়ী ছিলেন ওবায়দুল কাদের। বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, কলকাতার নিউ টাউনের বাড়িতেই চলছিল অক্সিজেন। হাসপাতালে ভর্তির পরেই তাকে দেয়া হয় ভেন্টিলেশনে। তখন হাসপাতাল সূত্র জানায় চিকিৎসায় সাড়া দিচ্ছেন তিনি, তবে অবস্থা বেশ সংকটজনক।

গত জুনে সংবাদমাধ্যমকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ওবায়দুল কাদের জানান, তিনি এখনো কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। তিনি ভারতের কলকাতায় অবস্থান করছেন বলেও সে সময় উল্লেখ করেন। তিনি জানান, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগের পতনের পর তিন মাস বাসা বদল করে আত্নগোপনে ছিলেন; শেষ পর্যন্ত তিন মাস পর ২০২৪ সালের নভেম্বরে তিনি দেশ ছেড়েছেন।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগের দমননীতির জন্য ক্ষমা চাওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তারা যখন দেশে এসে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালানোর পরিবেশ পাবেন, তখন ক্ষমা চাওয়া, ভুল স্বীকার করা বা অনুশোচনার বিষয় আসবে।

২০১৬ সালের অক্টোবর থেকে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন ওবায়দুল কাদের। ২০১১ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৪-এর আগস্ট পর্যন্ত আওয়ামী লীগ সরকারের সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন তিনি। আওয়ামী লীগের এই প্রভাবশালী নেতা নোয়াখালী-৫ আসন থেকে টানা চারবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন পলাতক ওবায়দুল কাদের

আপডেট সময় : ১২:৫৮:১১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ জানুয়ারী ২০২৬

গত ৫ আগস্টের পর ভারতে পলাতক আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরর অবস্থা খুবই সংকটপন্ন। কেউ বলছেন ওবায়দুল কাদের মারা গেছেন, বিষয়টি গোপন রাখা হচ্ছে। এদিকে জানা যায়, দুদিন আগে হঠাৎ অসুস্থ্য হয়ে পড়েন ওবায়দুল কাদের। কলকাতার অ্যাপোলো হাসপাতালের ভেন্টিলেশনে নেয়া হয়েছিলো তাকে। কিন্তু কোন ধরনের চিকিৎসা নিতে পারছেন না তিনি। হাসপাতাল সূত্রে জানানো হয়েছে, এই সংকটাপন্ন অবস্থায় পরিবারের সিদ্ধান্ত তাকে কলকাতার বাড়িতে ফিরিয়ে নেয়া হবে। বাড়িতেই চিকিৎসক ও লাইফ সাপোর্টসহ মেডিকেল ফেসিলিটির মাধ্যমে তাকে রাখা হবে। তবে ডাক্তাররা তার আশা ছেড়ে দেন।

এক সময় বাংলাদেশের দাপুটি মন্ত্রী ও পতিত শেখ হাসিনার অত্যন্ত আস্থাভাজন ছিলেন ওবায়দুল কাদের।  জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর ভারতে পালিয়ে যান। সেখানে গিয়েও তিনি নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন। গত শুক্রবার (২ জানুয়ারি) আচমকাই তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে প্রায় সংজ্ঞাহীন অবস্থায় তাকে কলকাতার বাইপাসের কাছে অ্যাপোলো হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

বার্ধক্যজনিত একাধিক অসুস্থতার কারণে বেশ কিছুদিন যাবত শয্যাশায়ী ছিলেন ওবায়দুল কাদের। বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, কলকাতার নিউ টাউনের বাড়িতেই চলছিল অক্সিজেন। হাসপাতালে ভর্তির পরেই তাকে দেয়া হয় ভেন্টিলেশনে। তখন হাসপাতাল সূত্র জানায় চিকিৎসায় সাড়া দিচ্ছেন তিনি, তবে অবস্থা বেশ সংকটজনক।

গত জুনে সংবাদমাধ্যমকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ওবায়দুল কাদের জানান, তিনি এখনো কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। তিনি ভারতের কলকাতায় অবস্থান করছেন বলেও সে সময় উল্লেখ করেন। তিনি জানান, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগের পতনের পর তিন মাস বাসা বদল করে আত্নগোপনে ছিলেন; শেষ পর্যন্ত তিন মাস পর ২০২৪ সালের নভেম্বরে তিনি দেশ ছেড়েছেন।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগের দমননীতির জন্য ক্ষমা চাওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তারা যখন দেশে এসে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালানোর পরিবেশ পাবেন, তখন ক্ষমা চাওয়া, ভুল স্বীকার করা বা অনুশোচনার বিষয় আসবে।

২০১৬ সালের অক্টোবর থেকে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন ওবায়দুল কাদের। ২০১১ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৪-এর আগস্ট পর্যন্ত আওয়ামী লীগ সরকারের সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন তিনি। আওয়ামী লীগের এই প্রভাবশালী নেতা নোয়াখালী-৫ আসন থেকে টানা চারবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন।