ঢাকা ১২:২৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬, ২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी

ইরানে ফের হামলার ব্যাপক প্রস্তুতি নিচ্ছে ইসরায়েল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৪:২৬:১৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ জানুয়ারী ২০২৬
  • / ৫৯ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

পরমাণু শক্তিকে কেন্দ্র করেই ইরানের ওপর গত ১৩ জুন ২০২৫ সালে আক্রমন চালায় ইসরায়েল। ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে এই সশস্র সংঘাত চলে ১২দিন। যাকে বারোদিনের যুদ্ধও বলা হয়। কথিত আছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সহায়তায় ইসরায়েল ইরানের ওপর হামলা চালায়। ইরান কতৃক যথার্থ মোকাবেলায় আবার ট্রাম্পের সহায়তায় এই যুদ্ধ বন্ধ হয়ে যায়। কিন্তু  থেমে যায়নি এর প্রতিহিংসা পরায়ণতা।

ভিতরে ভিতরে পুনরায় সশস্র সংঘাতে জড়িয়ে পড়ার ব্যাপক প্রস্তুতি যে চলছে তার প্রমান মিলেছে তেল আবিবের এক ঘোষণায়। ইসরায়েলের সম্প্রচার সংবাদমাধ্যম চ্যানেল ১২-এর বরাতে জানা গেছে ইরান, লেবানন এবং ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীরের সঙ্গে ‘যুগপৎ’ যুদ্ধের জন্য ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)-কে নির্দেশ দিয়েছে তেল আবিব। ।

আজ সোমবার এক প্রতিবেদনে চ্যানেল ১২ জানিয়েছে, আইডিএফের চিফ অব স্টাফ লেফটেন্যান্ট জেনারেল ইয়া’য়াল জামির আইডিএফ নিয়ে ৪ বছর মেয়াদি একটি পরিকল্পনা নিয়েছেন। সেই পরিকল্পনারই একটি অংশ এই প্রস্তুতি। যুদ্ধের প্রস্তুতি হিসেবে স্যাটেলাইটে হামলা এবং মহাকাশ থেকে ভূপৃষ্ঠের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করার মতো বিষয়বস্তুও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

চ্যানেল ১২-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিন দেশ ও ভূখণ্ডের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে ইরানকে। ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের আশঙ্কা, অতিমাত্রায় মূল্যস্ফীতি, বেকারত্ব ও জীবনযাত্রার ব্যায় বৃদ্ধির প্রতিবাদে ইরানে যে বিক্ষোভ শুরু হয়েছে— সাধারণ জনগণের মনোযোগ সেখান থেকে সরাতে ইসরায়েলে হামলা চালাতে পারে ইরান।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, সম্ভাব্য সামরিক প্রতিক্রিয়ার কথা ভেবে দাপ্তরিকভাবে ইরানের বিক্ষোভ সম্পর্কে মন্তব্য করা থেকে বিরত থেকেছে ইসরায়েলের সরকার। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে খোলাখুলিভাবে ইরানে চলমান বিক্ষোভকে সমর্থন করেছে ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ। সেই সঙ্গে মোসাদ দাবি করেছে যে ইরানে বিক্ষোভ সংগঠিত করতে তাদের হাত ছিল।

গত ডিসেম্বর থেকে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভ সামলাতে গিয়ে আক্ষরিক অর্থেই হিমসিম খাচ্ছে ইরানের ইসলামি সরকার। এর মধ্যে বেশ কয়েকজন নিহত এবং আহত হয়েছেন। বিক্ষোভকারীদের অনেকেই এই সরকারের অবসান চেয়ে রাজতন্ত্র পুনর্বহালের দাবি জানিয়েছেন।

১৯৭৯ সালে ইসলামি বিপ্লবের মাধ্যমে পতন ঘটে ইরানের রাজতন্ত্রের এবং ক্ষমতায় আসে ইসলামপন্থি সরকার।
এদিকে সম্প্রতি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও ইরানকে হুমকি দিয়েছেন। শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পোস্ট করা এক বার্তায় তিনি বলেছেন, “ইরানের সরকার যদি শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের প্রতি কঠোর হয়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র ইরানে সামরিক অভিযান চালাবে। এজন্য যাবতীয় প্রস্তুতি ইতোমধ্যে নেওয়া হয়ে গেছে।”
সূত্র : আরটি

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

ইরানে ফের হামলার ব্যাপক প্রস্তুতি নিচ্ছে ইসরায়েল

আপডেট সময় : ০৪:২৬:১৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ জানুয়ারী ২০২৬

পরমাণু শক্তিকে কেন্দ্র করেই ইরানের ওপর গত ১৩ জুন ২০২৫ সালে আক্রমন চালায় ইসরায়েল। ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে এই সশস্র সংঘাত চলে ১২দিন। যাকে বারোদিনের যুদ্ধও বলা হয়। কথিত আছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সহায়তায় ইসরায়েল ইরানের ওপর হামলা চালায়। ইরান কতৃক যথার্থ মোকাবেলায় আবার ট্রাম্পের সহায়তায় এই যুদ্ধ বন্ধ হয়ে যায়। কিন্তু  থেমে যায়নি এর প্রতিহিংসা পরায়ণতা।

ভিতরে ভিতরে পুনরায় সশস্র সংঘাতে জড়িয়ে পড়ার ব্যাপক প্রস্তুতি যে চলছে তার প্রমান মিলেছে তেল আবিবের এক ঘোষণায়। ইসরায়েলের সম্প্রচার সংবাদমাধ্যম চ্যানেল ১২-এর বরাতে জানা গেছে ইরান, লেবানন এবং ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীরের সঙ্গে ‘যুগপৎ’ যুদ্ধের জন্য ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)-কে নির্দেশ দিয়েছে তেল আবিব। ।

আজ সোমবার এক প্রতিবেদনে চ্যানেল ১২ জানিয়েছে, আইডিএফের চিফ অব স্টাফ লেফটেন্যান্ট জেনারেল ইয়া’য়াল জামির আইডিএফ নিয়ে ৪ বছর মেয়াদি একটি পরিকল্পনা নিয়েছেন। সেই পরিকল্পনারই একটি অংশ এই প্রস্তুতি। যুদ্ধের প্রস্তুতি হিসেবে স্যাটেলাইটে হামলা এবং মহাকাশ থেকে ভূপৃষ্ঠের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করার মতো বিষয়বস্তুও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

চ্যানেল ১২-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিন দেশ ও ভূখণ্ডের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে ইরানকে। ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের আশঙ্কা, অতিমাত্রায় মূল্যস্ফীতি, বেকারত্ব ও জীবনযাত্রার ব্যায় বৃদ্ধির প্রতিবাদে ইরানে যে বিক্ষোভ শুরু হয়েছে— সাধারণ জনগণের মনোযোগ সেখান থেকে সরাতে ইসরায়েলে হামলা চালাতে পারে ইরান।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, সম্ভাব্য সামরিক প্রতিক্রিয়ার কথা ভেবে দাপ্তরিকভাবে ইরানের বিক্ষোভ সম্পর্কে মন্তব্য করা থেকে বিরত থেকেছে ইসরায়েলের সরকার। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে খোলাখুলিভাবে ইরানে চলমান বিক্ষোভকে সমর্থন করেছে ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ। সেই সঙ্গে মোসাদ দাবি করেছে যে ইরানে বিক্ষোভ সংগঠিত করতে তাদের হাত ছিল।

গত ডিসেম্বর থেকে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভ সামলাতে গিয়ে আক্ষরিক অর্থেই হিমসিম খাচ্ছে ইরানের ইসলামি সরকার। এর মধ্যে বেশ কয়েকজন নিহত এবং আহত হয়েছেন। বিক্ষোভকারীদের অনেকেই এই সরকারের অবসান চেয়ে রাজতন্ত্র পুনর্বহালের দাবি জানিয়েছেন।

১৯৭৯ সালে ইসলামি বিপ্লবের মাধ্যমে পতন ঘটে ইরানের রাজতন্ত্রের এবং ক্ষমতায় আসে ইসলামপন্থি সরকার।
এদিকে সম্প্রতি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও ইরানকে হুমকি দিয়েছেন। শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পোস্ট করা এক বার্তায় তিনি বলেছেন, “ইরানের সরকার যদি শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের প্রতি কঠোর হয়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র ইরানে সামরিক অভিযান চালাবে। এজন্য যাবতীয় প্রস্তুতি ইতোমধ্যে নেওয়া হয়ে গেছে।”
সূত্র : আরটি