মুস্তাফিজকে কলকাতার ছেড়ে দেয়া নিয়ে উপমহাদেশে চলছে ক্রিকেট ঝড়
- আপডেট সময় : ০৮:২৭:১০ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩ জানুয়ারী ২০২৬
- / ৫৯ বার পড়া হয়েছে
গত এক বছর ধরে বাংলাদেশ-ভারতের রাজনৈতিক সম্পর্কে চিড় ধরেছে। তার প্রভাব পড়েছে ক্রিকেটাঙ্গনেও। ভারতীয় ক্রিকেট লীগে (আইপিএলে) কলকাতায় খেলার সুযোগ পাওয়া বাংলাদেশের মুস্তাফিজুর রহমানের সঙ্গে চুক্তি বাতিল করেছে কলকাতা নাইট রাইডার্স। ভারতজুড়ে কট্টর হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলোর টানা বিক্ষোভ ও চাপের মুখে বিসিসিআই-এর নির্দেশনায় আজ শনিবার(৩ জানুয়ারি) মুস্তাফিজকে আনুষ্ঠানিকভাবে ছেড়ে দিয়েছে কেকেআর। বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গনে এটি একটি নজিরবিহীন ঘটনা।
এবারের নিলামে ৯ কোটি ২০ লাখ রুপিতে মুস্তাফিজকে দলে ভিড়িয়েছিল কলকাতা নাইট রাইডার্স। তবে ভারত সরকারের নিরাপত্তা শঙ্কার অজুহাতে বিসিসিআই এই বাংলাদেশি পেসারকে স্কোয়াড থেকে বাদ দেয়ার নির্দেশ দেয়। কেকেআর কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, বিসিসিআই-এর নির্দেশনা ও অভ্যন্তরীণ আলোচনার পর মুস্তাফিজকে দল থেকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে এবং নীতিমালার আলোকে তারা বদলি ক্রিকেটার নেয়ার অনুমতি পেয়েছে।
মুস্তাফিজের বাদ পড়াটা যদি নিরাপত্তা ইস্যু হয়ে দাড়ায় তাহলে বিশ্বকাপ ক্রিকেটের নিরাপত্তা নিয়েও থাকছে সংশয়। যেহেতু ভারতেই হতে যাচ্ছে আগামী টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপ। সেখানে পুরো বাংলাদেশ দলের নিরাপত্তা নিয়ে বড় প্রশ্ন উঠাই স্বাভাবিক।
বিষয়টি নিয়ে শনিবার সন্ধ্যায় গণমাধ্যমের মুখোমুখিতে বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল জানান, বিষয়টি নিয়ে তারা এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো নথিপত্র হাতে পাইনি। তিনি বলেন,‘আমাদের কাছে যতটুকু তথ্য আছে, আমাদের কাউন্টার পার্ট হচ্ছে বিসিসিআই। আমরা আইসিসির অধীনে ইভেন্ট খেলি, আর মুস্তাফিজের বিষয়টি ছিল ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট সংক্রান্ত। আমরা এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি পাইনি।
তবে বিষয়টি নিয়ে আইসিসি’র সাথে বসতে যাচ্ছে বলে জানান বিসিবি প্রধান। সেখানে আগামী মাসে ভারতে হতে যাওয়া টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশ খেলবে কি খেলবে না, এ নিয়েও শুরু হয়েছে আলোচনা। এ বিষয়ে বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইসিসির সঙ্গে বসবে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।
সভায় প্রশ্ন উঠেছে, ভারত আইপিএলে বাংলাদেশের একজন ক্রিকেটারের নিরাপত্তা দিতে পারছে না, বিশ্বকাপে ১৫ জনের নিরাপত্তা দেবে কীভাবে?
এদিকে বাংলাদেশি পেসার মুস্তাফিজুর রহমানকে ছেড়ে দেয়ার পর ক্রিকেট মহলে বিতর্কের ঝড় উঠেছে। এই সিদ্ধান্তকে ‘খেলার ওপর রাজনীতির প্রভাব’ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। এবার সেই বিতর্কে যোগ দিয়ে বিসিসিআই-এর কঠোর সমালোচনা করেছেন ভারতের সাবেক বিশ্বকাপজয়ী পেসার মদন লাল।
অন্যদিকে মদন লাল ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ‘ইন্ডিয়া টুডে’-কে দেয়া এক প্রতিক্রিয়ায় মদন লাল বলেন, খেলাধুলার ভেতরে রাজনীতির প্রভাব দিন দিন ভয়াবহভাবে বাড়ছে। বিসিসিআই-এর এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে তিনি বলেন,‘আমার মনে হয়, বিসিসিআই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে কারণ তাদের প্রশ্ন করার কেউ নেই। কেউই বোর্ডকে চ্যালেঞ্জ করতে পারে না। আমি বুঝতে পারছি না, কেন খেলাধুলার মধ্যে এত রাজনীতি ঢুকে পড়ছে। ক্রিকেট কোন দিকে যাচ্ছে এবং খেলাধুলার ভবিষ্যৎই বা কী, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।’
তিনি আরও যোগ করেন যে, বেশির ভাগ সংস্থাই এ ধরনের ঘটনায় খেলোয়াড়দের সামনে ঠেলে দেয়, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। তার মতে, খেলোয়াড়দের এভাবে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা বন্ধ হওয়া উচিত।
এই সিদ্ধান্তকে ইতিবাচকভাবে বিসিসিআইয়ের ‘ক্ষমতা প্রদর্শন’ বলে উল্লেখ করেছেন আকাশ চোপড়া। একই সঙ্গে তিনি মুস্তাফিজুর রহমানকে বা পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার শিকার বলেও মন্তব্য করেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক ভিডিওতে চোপড়া বলেন, ‘বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের ওপর সহিংসতার খবরের কারণেই বিসিসিআই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আমার মতে, এটা সঠিক সিদ্ধান্ত। হ্যাঁ, কলকাতা কিছুটা সমস্যায় পড়বে, আর নিলামের আগেই যদি এমনটা হতো, তাহলে ভালো হতো। কিন্তু এটা চলমান পরিস্থিতির ফল। কেউ যদি প্রশ্ন তোলে, এতে ফিজের দোষ কী? সে তো এসব করছে না। একই কথা পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের ক্ষেত্রেও বলা যায়। ব্যক্তিগতভাবে তারা কিছু করছে না। কিন্তু যখন একটি দেশ কিছু করে, তখন তার প্রভাব সে দেশের নাগরিকদের ওপর পড়ে। এটিই পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া। আমি এই সিদ্ধান্তের পক্ষে আছি। এটা সফট পাওয়ার, আর সেটা প্রদর্শন করা উচিত।’




















