ঢাকা ০২:১২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬, ২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০১:১২:২৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ ডিসেম্বর ২০২৫
  • / ৭৯ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ভারতে বাংলাদেশের মিশনগুলোতে নিরাপত্তাহীনতার কারণে নয়াদিল্লি, আগরতলা ও শিলিগুড়িতে বাংলাদেশের ভিসা ও কনস্যুলার সেবা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে।

বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতনের অভিযোগ তুলে তার প্রতিবাদে ভারতে হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলোর উগ্র বিক্ষোভ, হামলা, ভাঙচুর এবং দিল্লিতে বাংলাদেশের হাই কমিশনারকে প্রাণনাশের হুমকির পরিপ্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত এই পরিষেবা বন্ধ থাকবে।

এ বিষয়ে আগরতলায় অবস্থিত বাংলাদেশ সহকারী মিশনের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে- সকলের অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে যে, অনিবার্য কারণবশত পরবর্তী নির্দেশনা না দেয়া পর্যন্ত আগামীকাল ২৩ ডিসেম্বর থেকে বাংলাদেশ সহকারী হাই কমিশন, আগরতলাতে সকল প্রকার ভিসা ও কনস্যুলার সেবা কার্যক্রম বন্ধ থাকবে।

শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর বাংলাদেশের সাথে পাশবর্তী ভারতের সম্পর্কের টানা পোড়ন চলছে। দিনদিন এই টানাপোড়ন তীব্র হয়ে উঠছে। বিশেষ করে ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান বিন হাদির হত্যার প্রতিবাদে ক্ষোভ বিক্ষোভের মধ্যে গত ১৮ ডিসেম্বর রাতে ঢাকায় দুটি পত্রিকা অফিস এবং ছায়ানট ভবনে হামলা হয়। সেই রাতে চট্টগ্রামে ভারতীয় সহকারী হাই কমিশন কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিয়ে একদল মানুষ বিক্ষোভ দেখায়, সেসময় মিশনে ঢিলও ছোড়া হয়।

এরপর চট্টগ্রামে ভারতীয় ভিসা আবেদন কেন্দ্রের (আইভ্যাক) কার্যক্রম রবিবার থেকে পরবর্তী ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত স্থগিত করা হয়। ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে গত ১৮ ডিসেম্বর রাতে ভালুকার একটি কারখানার শ্রমিক দীপু চন্দ্র দাসকে (২৮) পিটিয়ে হত্যার পর তার লাশ গাছের ডালের সঙ্গে বেঁধে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।

এ ঘটনার পর ২০ ডিসেম্বর রাতে দিল্লিতে ‘অখণ্ড হিন্দু রাষ্ট্রসেনা’ নামের এক সংগঠনের ২০-২৫ জন সদস্য বাংলাদেশ হাই কমিশনের সামনে বিক্ষোভ করে। তারা সেখানে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে স্লোগান দেয় এবং বাংলাদেশের হাই কমিশনার এম রিয়াজ হামিদুল্লাহকে হুমকি দেওয়ার খবর জানা যায়।

দিল্লিতে বাংলাদেশ হাই কমিশনের প্রেস মিনিস্টার মো. ফয়সাল মাহমুদকে উদ্ধৃত করে রবিবার বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়, “বাংলা ও হিন্দি মিলিয়ে কিছু কথাবার্তা (তারা) বলছে- হিন্দুদের নিরাপত্তা দিতে হবে; হাই কমিশনারকে ধর। পরে তারা মেইন গেটের সামনে এসে কিছুক্ষণ চিৎকার করে। ওরা চিৎকার করে চলে গেছে- এতটুকুই আমি জানি।”

সেই খবরের প্রতিক্রিয়ায় ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রাণধীর জয়সওয়াল রবিবার এক বিবৃতিতে বলেন, “বাংলাদেশের কিছু গণমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর প্রচারণা আমরা দেখেছি। সত্যটা হচ্ছে, ২০ ডিসেম্বর ২০-২৫ জন যুবক নয়া দিল্লিতে বাংলাদেশ হাই কমিশনের সামনে জড়ো হয়ে ময়মনসিংহে দীপু চন্দ্র দাসের নৃশংস হত্যার প্রতিবাদে স্লোগান দিয়েছে এবং বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তার আহ্বান জানিয়েছে। নিরাপত্তা বেষ্টনী লঙ্ঘন কিংবা নিরাপত্তা পরিস্থিতি তৈরির মত কোনো প্রচেষ্টা সেখানে ছিল না।”

“কয়েক মিনিট পরই ওই দলটিকে ছত্রভঙ্গ করে দিয়েছে ঘটনাস্থলে থাকা পুলিশ সদস্যরা। এই ঘটনার ভিডিও প্রমাণ প্রকাশিত হয়েছে” বলেন জয়সওয়াল। তিনি দাবি করেন, ভিয়েনা কনভেনশন অনুযায়ী বিদেশ মিশন বা কার্যালয়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভারত অঙ্গীকারাবদ্ধ।

বাংলাদেশের পরিবর্তনশীল পরিস্থিতির ওপর ভারত ‘নজর রাখছে’ মন্তব্য করে তিনি বলেন, “বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে যোগাযোগে রাখছেন আমাদের কর্মকর্তারা। সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার বিষয়ে আমাদের জোরালো উদ্বেগ জানানো হয়েছে। আমরাও দীপু দাসের বর্বর হত্যার ঘটনায় দায়ীদের বিচারের আওতায় আনার আহ্বান জানাচ্ছি।”

ভারতের ওই বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন রবিবার সাংবাদিকদের বলেন, দিল্লিতে কূটনৈতিক এলাকার ভিতরে অবস্থিত বাংলাদেশ মিশনের সামনে ‘হিন্দু চরমপন্থী সংগঠনের বিক্ষোভকারীদের আসার সুযোগ করে করে দেওয়া’ হয়েছে।

তিনি বলেন, “ভারতীয় প্রেসনোটে যে কথা বলা হয়েছে, এটা আমরা সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাখ্যান করছি। আমরা সম্পূর্ণ প্রত্যাখ্যান করি এজন্য যে, বিষয়টি যত সহজভাবে উত্থাপন করা হয়েছে, আসলে অত সহজ না।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

আপডেট সময় : ০১:১২:২৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ ডিসেম্বর ২০২৫

ভারতে বাংলাদেশের মিশনগুলোতে নিরাপত্তাহীনতার কারণে নয়াদিল্লি, আগরতলা ও শিলিগুড়িতে বাংলাদেশের ভিসা ও কনস্যুলার সেবা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে।

বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতনের অভিযোগ তুলে তার প্রতিবাদে ভারতে হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলোর উগ্র বিক্ষোভ, হামলা, ভাঙচুর এবং দিল্লিতে বাংলাদেশের হাই কমিশনারকে প্রাণনাশের হুমকির পরিপ্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত এই পরিষেবা বন্ধ থাকবে।

এ বিষয়ে আগরতলায় অবস্থিত বাংলাদেশ সহকারী মিশনের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে- সকলের অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে যে, অনিবার্য কারণবশত পরবর্তী নির্দেশনা না দেয়া পর্যন্ত আগামীকাল ২৩ ডিসেম্বর থেকে বাংলাদেশ সহকারী হাই কমিশন, আগরতলাতে সকল প্রকার ভিসা ও কনস্যুলার সেবা কার্যক্রম বন্ধ থাকবে।

শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর বাংলাদেশের সাথে পাশবর্তী ভারতের সম্পর্কের টানা পোড়ন চলছে। দিনদিন এই টানাপোড়ন তীব্র হয়ে উঠছে। বিশেষ করে ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান বিন হাদির হত্যার প্রতিবাদে ক্ষোভ বিক্ষোভের মধ্যে গত ১৮ ডিসেম্বর রাতে ঢাকায় দুটি পত্রিকা অফিস এবং ছায়ানট ভবনে হামলা হয়। সেই রাতে চট্টগ্রামে ভারতীয় সহকারী হাই কমিশন কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিয়ে একদল মানুষ বিক্ষোভ দেখায়, সেসময় মিশনে ঢিলও ছোড়া হয়।

এরপর চট্টগ্রামে ভারতীয় ভিসা আবেদন কেন্দ্রের (আইভ্যাক) কার্যক্রম রবিবার থেকে পরবর্তী ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত স্থগিত করা হয়। ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে গত ১৮ ডিসেম্বর রাতে ভালুকার একটি কারখানার শ্রমিক দীপু চন্দ্র দাসকে (২৮) পিটিয়ে হত্যার পর তার লাশ গাছের ডালের সঙ্গে বেঁধে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।

এ ঘটনার পর ২০ ডিসেম্বর রাতে দিল্লিতে ‘অখণ্ড হিন্দু রাষ্ট্রসেনা’ নামের এক সংগঠনের ২০-২৫ জন সদস্য বাংলাদেশ হাই কমিশনের সামনে বিক্ষোভ করে। তারা সেখানে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে স্লোগান দেয় এবং বাংলাদেশের হাই কমিশনার এম রিয়াজ হামিদুল্লাহকে হুমকি দেওয়ার খবর জানা যায়।

দিল্লিতে বাংলাদেশ হাই কমিশনের প্রেস মিনিস্টার মো. ফয়সাল মাহমুদকে উদ্ধৃত করে রবিবার বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়, “বাংলা ও হিন্দি মিলিয়ে কিছু কথাবার্তা (তারা) বলছে- হিন্দুদের নিরাপত্তা দিতে হবে; হাই কমিশনারকে ধর। পরে তারা মেইন গেটের সামনে এসে কিছুক্ষণ চিৎকার করে। ওরা চিৎকার করে চলে গেছে- এতটুকুই আমি জানি।”

সেই খবরের প্রতিক্রিয়ায় ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রাণধীর জয়সওয়াল রবিবার এক বিবৃতিতে বলেন, “বাংলাদেশের কিছু গণমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর প্রচারণা আমরা দেখেছি। সত্যটা হচ্ছে, ২০ ডিসেম্বর ২০-২৫ জন যুবক নয়া দিল্লিতে বাংলাদেশ হাই কমিশনের সামনে জড়ো হয়ে ময়মনসিংহে দীপু চন্দ্র দাসের নৃশংস হত্যার প্রতিবাদে স্লোগান দিয়েছে এবং বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তার আহ্বান জানিয়েছে। নিরাপত্তা বেষ্টনী লঙ্ঘন কিংবা নিরাপত্তা পরিস্থিতি তৈরির মত কোনো প্রচেষ্টা সেখানে ছিল না।”

“কয়েক মিনিট পরই ওই দলটিকে ছত্রভঙ্গ করে দিয়েছে ঘটনাস্থলে থাকা পুলিশ সদস্যরা। এই ঘটনার ভিডিও প্রমাণ প্রকাশিত হয়েছে” বলেন জয়সওয়াল। তিনি দাবি করেন, ভিয়েনা কনভেনশন অনুযায়ী বিদেশ মিশন বা কার্যালয়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভারত অঙ্গীকারাবদ্ধ।

বাংলাদেশের পরিবর্তনশীল পরিস্থিতির ওপর ভারত ‘নজর রাখছে’ মন্তব্য করে তিনি বলেন, “বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে যোগাযোগে রাখছেন আমাদের কর্মকর্তারা। সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার বিষয়ে আমাদের জোরালো উদ্বেগ জানানো হয়েছে। আমরাও দীপু দাসের বর্বর হত্যার ঘটনায় দায়ীদের বিচারের আওতায় আনার আহ্বান জানাচ্ছি।”

ভারতের ওই বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন রবিবার সাংবাদিকদের বলেন, দিল্লিতে কূটনৈতিক এলাকার ভিতরে অবস্থিত বাংলাদেশ মিশনের সামনে ‘হিন্দু চরমপন্থী সংগঠনের বিক্ষোভকারীদের আসার সুযোগ করে করে দেওয়া’ হয়েছে।

তিনি বলেন, “ভারতীয় প্রেসনোটে যে কথা বলা হয়েছে, এটা আমরা সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাখ্যান করছি। আমরা সম্পূর্ণ প্রত্যাখ্যান করি এজন্য যে, বিষয়টি যত সহজভাবে উত্থাপন করা হয়েছে, আসলে অত সহজ না।