দ্রোহের প্রতীক শহিদ ওসমান হাদির রাজকীয় বিদায়
- আপডেট সময় : ০৬:৪৫:২২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ ডিসেম্বর ২০২৫
- / ১১৪ বার পড়া হয়েছে
৫ আগস্ট ২০২৪ সাল থেকে ১৮ ডিসেম্বর ২০২৫। এই অল্প সময়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে ঝড় তুলে ধুমকেতুর মতো চলে গেলেন দুনিয়া ছেড়ে। ক্ষণজন্মা এই যুবকের মৃত্যু হয়নি, বেঁচে আছেন কোটি কোটি মানুুষের হৃদয়ে। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-০৮ আসনে প্রার্থী হওয়ার প্রত্যাশায় নিজের লিপলেট বিলি করছিলেন। অটোরিকশায় যাতায়াতের সময় ১২ ডিসেম্বর সন্ত্রাসীদের হাতে গুলি বিদ্ধ হন। সেখানেই থেমে যায় বাংলাদেশ প্রেমী এই স্পষ্টবাদী এক কন্ঠস্বর। জীবনের হুমকি জেনেও থেমে ছিলেন না,চালিয়ে গিয়েছিলেন নিজের রাজনৈতিক কর্মকান্ড। দেশের মানুষকে জাগ্রত করতে হয়ে উঠেেছিলেন বিপ্লবী।
কিন্তু তার এই প্রতিবাদী কন্ঠস্বর কারো কারো যে তরুপের তাস হয়ে যাবে সেটা হয়ত বুজতে পারেনি নি হাদি। রাজনীতির মিথ্যাচার মাঠে জর্জরিত দেশের মানুষ হাদির ভিতর লুকিয়ে থাকা প্রতিভা যখন বোঝার চেষ্টা করলেন, তখন তাকে দূর আকাশে পাঠিয়ে দিলো সন্ত্রাসীদের ঘাতক গুলি। অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাড়ানোে একটি কন্ঠস্বর থেমে গেলো নিমিষেই।
তবে দেশের হয়ে জাগ্রত এই কন্ঠস্বরকে মূল্যায়ন করতে ভুল করেন নি দেশের মানুষ। আজ শনিবার ২০ ডিসেম্বর হাদির জানাজায় সেটা প্রমানিত। বেলা আড়াইটায় মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে তার জানাজায় ছিলো মানুষের ঢল। কাউকে কাউকে বলতে দেখা গেছে প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের পর এতো বড় জানাজা আর দেখা যায়নি। তবে প্রার্থক্য হচ্ছে হাদির রাজনীতির ক্যারিয়ার মাত্র পনের মাসের।
জানাজা শেষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রী মসজিদের প্রাঙ্গণে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের পাশেই চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও জুলাই বিপ্লবী শহিদ ওসমান হাদি। এদিন বেলা তিনটার দিকে তার দাফন কাজ সম্পন্ন হয়।

শহিদ ওসমান হাদির নামাজের জানাজায় অংশ নেন উপধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস, উপদেষ্টা পরিষদ, তিন বাহিনীর প্রধানসহ রাজনৈতিক নেতারা।
ওসমান হাদির জানাজার আগে প্রধান উপদেষ্টা তার বক্তব্যে বলেন, ওসমান হাদি তুমি নির্বাচনে অংশ নিতে চেয়েছিলে। নির্বাচন কীভাবে করতে হয় তারও একটা প্রক্রিয়া জানিয়ে গেছ। তিনি বলেন, নির্বাচনের যে পক্রিয়া হাদি শিখিয়ে গেছেন সেই প্রক্রিয়া যেন আমরা সবাই মিলে গ্রহণ করি। কীভাবে প্রচারণা চালাতে হয়, কীভাবে মানুষের কাছে যেতে হয়- তুমি সবকিছুর শিক্ষা দিয়ে গেছ। আমরা এই শিক্ষা গ্রহণ করলাম।’
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘হাদি কোথাও হারিয়ে যাবে না। কোনোদিন তোমাকে কেউ ভুলতে পারবে না। তোমাকে আমাদের সবার পক্ষ থেকে আল্লাহর কাছে আমানত রাখলাম। আমরা সবসময় তোমার কথা রেখে জাতির অগ্রগতির পথে চলতে থাকবো।’
ড. ইউনূস বলেন, ‘আজ লাখ লাখ মানুষ হাজির হয়েছেন। পথে ঢেউয়ের মতো লোক আসছে। এই মুহূর্তে কোটি কেটি মানুষের চোখ এখানে। তারা তাকিয়ে রয়েছে হাদির বিষয়ে জানার জন্য।’
তিনি আরও বলেন, ‘প্রিয় ওসমান হাদি তোমাকে আমরা বিদায় দিতে আসি নাই এখানে। তুমি আমাদের বুকের ভেতরে আছো। বাংলাদেশ যতদিন আছে, ততদিন তুমি সব বাংলাদেশির বুকে থাকবে। এটা কেউ সরাতে পারবে না।’
হাদির কাছে ওয়াদা করতে এসেছেন জানিয়ে ড. ইউনূস বলেন, ‘তুমি যা বলে গেছ, সেটা যেন আমরা পূরণ করতে পারি। সে ওয়াদা করার জন্য আমরা একত্রিত হয়েছে। সেই ওয়াদা শুধু আমরা নয়, পুরুষানুক্রমে দেশের সব মানুষ পূরণ করবে। তোমার যে মানব প্রেম তোমার যে ভঙ্গি, তোমার যে ওঠাবসা এবং রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি, তা নিয়ে সবাই প্রশংসা করছে। সেটা যেন আমাদের মনে সবসময় জাগ্রত থাকে।’
শহিদ হাদি কানে এমন এক মন্ত্র দিয়ে গেছে, সেটা বাংলাদেশের কেউ কোনোদিন ভুলতে পারবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘চিরদিন আমাদের কানের পাশে বাজবে তোমার সেই মন্ত্র। বড় মন্ত্র হয়ে আমাদের জাতির সঙ্গে সংযুক্ত থাকবে। আমরা দুনিয়ায় সবার সামনে মাথা উঁচু করে চলবো, কারো কাছে মাথানত করবো না। সেই মন্ত্র তুমি আমাদের দিয়ে গেছ, আমরা সেটা পূরণ করে যাবো।’


















