তারেক রহমানের দেশে না ফেরা নিয়ে যতকথা
- আপডেট সময় : ০৭:৪০:২১ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ নভেম্বর ২০২৫
- / ৪৩ বার পড়া হয়েছে
বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া গত বেশ কিছুদিন ধরে অসুস্থ্য। জীবন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন তিনি। কিন্তু তার এর মৃত্যুসন্ধিক্ষণে পাশে নেই বড় ছেলে তারেক রহমান। এমন কি এই সময়ে তারা দেশে না ফেরা নিয়ে চলছে রাজ্যের আলোচনা। এমন কি শনিবার (২৯ নভেম্বর) নিজের ফেসবুক পেজে দেওয়া তারেক রহমানের এই পোস্টের পর রাজনৈতিক মহলসহ বিভিন্ন পর্যায়েও উঠেছে নানা প্রশ্ন, কী কারণে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নিজে দেশে ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নিতে পারছেন না?
এর মধ্যেই অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে একটি ব্যাখ্যা এসেছে। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম তার ফেসবুক অ্যাকাউন্টে এক পোস্টে লেখেন, তারেক রহমানের দেশে ফিরে আসায় সরকারের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের বাধা বা আপত্তি নেই।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান ঢাকা পোস্টকে বলেন, ‘উনি (তারেক রহমান) এই বক্তব্য দিয়েছেন। এখানে অনেক রকম বাধা আসতে পারে, সেটা আপনারাও বোঝেন। কাজেই সেই বিবেচনায় উনি এই কথা বলেছেন। খোলাসা করে কিছু বলেননি।’ তিনি বলেন, ‘আমাদের তো উনি (তারেক রহমান) একমাত্র ভরসা, দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার পরে।’
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য ঢাকা পোস্টকে বলেন, ‘দেশে বিভিন্ন রকমের ঘটনা ঘটছে। নানা ধরনের উগ্রবাদী সংগঠন দেখা যাচ্ছে। বিভিন্ন ধরনের মবের ঘটনাও নিয়মিত ঘটছে। এগুলো সামাল দেবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, কিন্তু সেই বাহিনীর এখন কী অবস্থা? এ অবস্থায় তিনি (তারেক রহমান) কীভাবে আসবেন? মাঠ দেখার আগে যদি কিছু হয়ে যায়? তখন আমাদের (বিএনপির) কী হবে? বাংলাদেশের কী হবে? বাংলাদেশর হাল ধরার মতো লোক তো এখন উনি (তারেক রহমান) একজনই। আমাদের তো হিসাবি হতে হবে। শুধু আবেগ দিয়ে চিন্তা করলে তো হবে না।’
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর তার নামে থাকা সব মামলা থেকে আইনি প্রক্রিয়ায় অব্যাহতি পেয়েছেন তারেক রহমান। এই সময়ের মধ্যে একবার দেশে এসেছিলেন তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান। বিএনপির পক্ষ থেকে বারবার বলা হয়েছিল, আগামী সংসদ নির্বাচনের আগে দেশে ফিরবেন তারেক রহমান।
বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমের খবর অনুযায়ী, খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের নিরাপত্তা নিশ্চিতে দুটি বুলেটপ্রুফ গাড়ি কেনা এবং অস্ত্রের লাইসেন্সের জন্য আবেদন করেছে বিএনপি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তারেক রহমানের দেশে ফেরা কেবল মানবিক বা ব্যক্তিগত বিষয় নয়, দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং আঞ্চলিক ভূরাজনৈতিক বাস্তবতাও বিবেচ্য এখানে। আন্তর্জাতিক শক্তিগুলোর অবস্থানও এখানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। সবমিলিয়ে বলা যায়, তারেক রহমানের দেশে ফেরা নির্ধারিত হবে ব্যক্তিগত বিবেচনা, দলীয় কৌশল এবং আন্তর্জাতিক শক্তির নীতিগত অবস্থানের ভারসাম্য রক্ষা করে।
জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক কাজী মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান ঢাকা পোস্টকে বলেন, ‘তারেক রহমানের দেশে ফেরার বিষয়টি ব্যক্তিগত বা পারিবারিক বিষয় নয় বরং রাজনৈতিক বিষয়। এই অতি সংবেদনশীল একটি বিষয়। বিষয়টি নিয়ে বিএনপি বা তারেক রহমানের ওপর কোনো রকম চাপ প্রয়োগের সুযোগ নেই। এ অবস্থায় একজন সন্তানের কী ধরনের মানসিক পরিস্থিতি তৈরি হয় সেটা আমরা সবাই জানি।’
তারেক রহমান অত্যন্ত কষ্টে আছেন উল্লেখ করে এই রাজনৈতিক বিশ্লেষক বলেন, ‘কিন্তু এখনই দেশে ফেরার বিষয়ে তার একক সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ নেই। এটি দলের এবং বাংলাদেশ ও আঞ্চলিক রাজনৈতিক পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘জাতীয় ও আঞ্চলিক এবং বৈশ্বিক রাজনীতির সঙ্গে বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশের নেতৃত্বের একটা বোঝাপড়া থাকে। এই বোঝাপড়া দেশে নেতৃত্বের সংকট তৈরি করে, একইসঙ্গে ভবিষ্যৎ নির্মাণ করে।’











