ঢাকা ০৯:০০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৫, ১৪ ভাদ্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी

তিন দফা দাবিতে কমপ্লিট শাটডাউন ঘোষনা প্রকৌশলী অধিকার সংগঠনের, সময় চেয়েছে সরকার

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১০:১৩:৩৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৫
  • / ৪৬ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

রেলপথ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান বলেছেন, বিএসসি ও ডিপ্লোমাধারী প্রকৌশল শিক্ষার্থীদের সমস্যা সমাধানের বিষয়টি সরকার খুবই গুরুত্ব সহকারে নিয়েছে। তবে আমাদের একটু সময় দিতে হবে। আমরা চেষ্টা করব নিরপেক্ষ থেকে বা পক্ষপাতিত্ব না করে সমাধান করার। যাতে উভয় পক্ষ লাভবান হয়। তিনি বলেন, যেহেতু সরকার গুরুত্ব দিয়ে দেখছে তাই, আমি মনে করি, শিক্ষার্থীদের নতুন করে আর কর্মসূচি দেওয়ার প্রয়োজন নেই।

বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) বিকেলে সচিবালয়ে প্রকৌশল শিক্ষার্থীদের দাবিগুলোর যৌক্তিকতা নিরীক্ষাপূর্বক সুপারিশ প্রণয়নের জন্য গঠিত কমিটির প্রথম সভা শেষে তিনি এসব কথা বলেন।

এদিকে তিন দফা দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত দেশের সব প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে ‌‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারদের সংগঠন ‘প্রকৌশলী অধিকার আন্দোলন’। পরবর্তী ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত এ কর্মসূচি চলবে। একই সঙ্গে আগামী সপ্তাহের শুরু থেকে দেশের বিভাগীয় শহরগুলোতে সমাবেশ করার ঘোষণা দিয়েছেন বিএসসি ইঞ্জিনিয়াররা।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর ইনস্টিটিউট অব ইঞ্জিনিয়ারিং (আইইবি) কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ কর্মসূচির ঘোষণা দেন প্রকৌশলী অধিকার আন্দোলনের সভাপতি মোহাম্মদ ওয়ালী উল্লাহ।

ওয়ালী উল্লাহ বলেন, দেশের প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে যে কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচি চলছে, তা অব্যাহত থাকবে। আগামী সপ্তাহের শুরুতে বিভাগীয় সমাবেশ করা হবে। এরপর ঢাকায় একটি জাতীয় সমাবেশ করা হবে।

আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের হামলার বিষয়ে তিনি বলেন, গতকাল পুলিশের ন্যক্কারজনক হামলার পর ডিএমপি কমিশনার ক্ষমা চাইলেও এখন পর্যন্ত ওই ঘটনায় কোনো তদন্ত কমিটি গঠন করেনি। শিক্ষার্থী আহতের ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে আমরা আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করবো।

সংবাদ সম্মেলনে ওয়ালী উল্লাহ আরও বলেন, আমাদের দাবিগুলোর যৌক্তিকতা বিবেচনায় যে কমিটি গঠন করা হয়েছে, সেখানে ওয়ার্কিং কমিটিতে শিক্ষাবিদদের অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। কারণ উপদেষ্টা ও সচিবরা বিভিন্ন আমলাতান্ত্রিক কাজে ব্যস্তত থাকেন। আমরা ওই কমিটিকে ১৫ দিনের বেশি সময় দিতে চাই না।

প্রকৌশল শিক্ষার্থীদের তিন দফা দাবি হলো-
১. সহকারী প্রকৌশলী (নবম গ্রেড) পদে নিয়োগ: কেবল ন্যূনতম বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রিধারীদের নিয়োগ দিতে হবে। কোনোভাবেই কোটাভিত্তিক বা অন্য নামে নতুন পদ সৃষ্টি করে পদোন্নতির সুযোগ দেওয়া যাবে না।
২. উপ-সহকারী প্রকৌশলী (দশম গ্রেড) পদে নিয়োগ: ন্যূনতম ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার এবং একই ডিসিপ্লিনে উচ্চতর ডিগ্রিধারী বিএসসি গ্র্যাজুয়েটদের জন্য নিয়োগ পরীক্ষার সুযোগ রাখতে হবে।
৩. প্রকৌশলী পদবির সুরক্ষা: বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রি ছাড়া কেউ প্রকৌশলী পদবি ব্যবহার করতে পারবে না—এর জন্য আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে। পাশাপাশি নন-অ্যাক্রিডেটেড বিএসসি কোর্সগুলোকে দ্রুত আইইবি-বিএইটিইর স্বীকৃতির আওতায় আনতে হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

তিন দফা দাবিতে কমপ্লিট শাটডাউন ঘোষনা প্রকৌশলী অধিকার সংগঠনের, সময় চেয়েছে সরকার

আপডেট সময় : ১০:১৩:৩৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৫

রেলপথ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান বলেছেন, বিএসসি ও ডিপ্লোমাধারী প্রকৌশল শিক্ষার্থীদের সমস্যা সমাধানের বিষয়টি সরকার খুবই গুরুত্ব সহকারে নিয়েছে। তবে আমাদের একটু সময় দিতে হবে। আমরা চেষ্টা করব নিরপেক্ষ থেকে বা পক্ষপাতিত্ব না করে সমাধান করার। যাতে উভয় পক্ষ লাভবান হয়। তিনি বলেন, যেহেতু সরকার গুরুত্ব দিয়ে দেখছে তাই, আমি মনে করি, শিক্ষার্থীদের নতুন করে আর কর্মসূচি দেওয়ার প্রয়োজন নেই।

বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) বিকেলে সচিবালয়ে প্রকৌশল শিক্ষার্থীদের দাবিগুলোর যৌক্তিকতা নিরীক্ষাপূর্বক সুপারিশ প্রণয়নের জন্য গঠিত কমিটির প্রথম সভা শেষে তিনি এসব কথা বলেন।

এদিকে তিন দফা দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত দেশের সব প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে ‌‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারদের সংগঠন ‘প্রকৌশলী অধিকার আন্দোলন’। পরবর্তী ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত এ কর্মসূচি চলবে। একই সঙ্গে আগামী সপ্তাহের শুরু থেকে দেশের বিভাগীয় শহরগুলোতে সমাবেশ করার ঘোষণা দিয়েছেন বিএসসি ইঞ্জিনিয়াররা।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর ইনস্টিটিউট অব ইঞ্জিনিয়ারিং (আইইবি) কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ কর্মসূচির ঘোষণা দেন প্রকৌশলী অধিকার আন্দোলনের সভাপতি মোহাম্মদ ওয়ালী উল্লাহ।

ওয়ালী উল্লাহ বলেন, দেশের প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে যে কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচি চলছে, তা অব্যাহত থাকবে। আগামী সপ্তাহের শুরুতে বিভাগীয় সমাবেশ করা হবে। এরপর ঢাকায় একটি জাতীয় সমাবেশ করা হবে।

আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের হামলার বিষয়ে তিনি বলেন, গতকাল পুলিশের ন্যক্কারজনক হামলার পর ডিএমপি কমিশনার ক্ষমা চাইলেও এখন পর্যন্ত ওই ঘটনায় কোনো তদন্ত কমিটি গঠন করেনি। শিক্ষার্থী আহতের ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে আমরা আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করবো।

সংবাদ সম্মেলনে ওয়ালী উল্লাহ আরও বলেন, আমাদের দাবিগুলোর যৌক্তিকতা বিবেচনায় যে কমিটি গঠন করা হয়েছে, সেখানে ওয়ার্কিং কমিটিতে শিক্ষাবিদদের অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। কারণ উপদেষ্টা ও সচিবরা বিভিন্ন আমলাতান্ত্রিক কাজে ব্যস্তত থাকেন। আমরা ওই কমিটিকে ১৫ দিনের বেশি সময় দিতে চাই না।

প্রকৌশল শিক্ষার্থীদের তিন দফা দাবি হলো-
১. সহকারী প্রকৌশলী (নবম গ্রেড) পদে নিয়োগ: কেবল ন্যূনতম বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রিধারীদের নিয়োগ দিতে হবে। কোনোভাবেই কোটাভিত্তিক বা অন্য নামে নতুন পদ সৃষ্টি করে পদোন্নতির সুযোগ দেওয়া যাবে না।
২. উপ-সহকারী প্রকৌশলী (দশম গ্রেড) পদে নিয়োগ: ন্যূনতম ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার এবং একই ডিসিপ্লিনে উচ্চতর ডিগ্রিধারী বিএসসি গ্র্যাজুয়েটদের জন্য নিয়োগ পরীক্ষার সুযোগ রাখতে হবে।
৩. প্রকৌশলী পদবির সুরক্ষা: বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রি ছাড়া কেউ প্রকৌশলী পদবি ব্যবহার করতে পারবে না—এর জন্য আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে। পাশাপাশি নন-অ্যাক্রিডেটেড বিএসসি কোর্সগুলোকে দ্রুত আইইবি-বিএইটিইর স্বীকৃতির আওতায় আনতে হবে।