জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচনী রোড ম্যাপ প্রকাশ, ডিসেম্বরে তফসিল ঘোষনা করবে ইসি

- আপডেট সময় : ০৯:৩৪:২১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৫
- / ৪৫ বার পড়া হয়েছে
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে সংসদীয় আসনের সীমানা নির্ধারণ, ভোটার তালিকা চূড়ান্তকরণ, রাজনৈতিক দল নিবন্ধন ও দেশীয় পর্যবেক্ষক সংস্থার নিবন্ধন চূড়ান্ত করাসহ ২৪টি গুরুত্বপূর্ণ কার্যাবলীকে প্রাধান্য দিয়ে রোডম্যাপ ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
আজ বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ এ রোডম্যাপ ঘোষণ করেন।
ঘোষিত রোডম্যাপ অনুযায়ী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথমার্ধে এবং তফসিল ঘোষণা করা হবে চলতি বছরের ডিসেম্বরের প্রথমার্ধে।
সচিব বলেন, ভোট গ্রহণের ৬০ দিন আগে তফসিল দেব। আমাদেরকে প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর বলেছে, আগামী রমজানের আগে ভোট করার জন্য। আমার যদি ভুল না হয়ে থাকে, তাহলে ১৭ বা ১৮ ফেব্রুয়ারি রমজান শুরু। আবার রমজান তো চাঁদ দেখার উপর নির্ভরশীল। এভাবে আপনি নির্বাচনের তারিখ বের করতে পারেন। তাতে ধারনা করা হচ্ছে, রমযানের সাতদিন আগেই জাতীয় নির্বাচন হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।
তবে নির্বাচন সামনে রেখে সংসদীয় সীমানা পুনর্নির্ধারণের কাজ সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সম্পন্ন করার লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে কাজ করছে ইসি। এ লক্ষ্যে সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহে অংশীজনের সঙ্গে সংলাপে করবে ইসি। সংলাপে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, সুশীল সমাজের সদস্য, নারী প্রতিনিধি, পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিকরা অংশ নেবেন।
রোডম্যাপ অনুযায়ী আগামী ৩০ নভেম্বরের মধ্যে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করবে ইসি। এর আগে ১ নভেম্বর প্রকাশ করা হতে পারে চূড়ান্ত সম্পূরক ভোটার তালিকা।
নির্বাচন কমিশন ( ইসি) যে বিষয়গুলোর উপর গুরুত্বারোপ করছে তা ডেইলি ঢাকা মেট্রো‘র পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো…
নির্বাচনী আইন ও বিধি সংস্কার
গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও), অন্যান্য আইন বিধি ৩১ আগস্টের মধ্যে সংশোধনের প্রস্তাব ও প্রণয়ন। এছাড়া সংসদীয় আসনের সীমানা নির্ধারণ আইন সংশোধন, ভোটার তালিকা আইন সংশোধন, সংসদ নির্বাচনের ভোটকেন্দ্র নীতিমালা ও ব্যবস্থাপনা চূড়ান্ত, দেশি-বিদেশি পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিক নীতিমালা চূড়ান্ত, নির্বাচন পরিচালনা (সংশোধন) ২০২৫ প্রতীকসহ, নির্বাচন কর্মকর্তা (বিশেষ বিধান) আইন ১৯৯১, নির্বাচন কমিশন সচিবালয় আইন ২০০৯ এগুলো আইন মন্ত্রণালয়ে প্রক্রিয়াধীন আছে, যা ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে শেষ করার আশা।
নতুন রাজনৈতিক দল নিবন্ধন
আগামী ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে নতুন রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন কার্যক্রম সম্পন্ন হবে। এরপর অক্টোবরের প্রথমার্ধে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপ শেষ করা হবে।
সংসদীয় আসনের সীমানা চূড়ান্ত করে গেজেট প্রকাশ
সংসদীয় ৩০০ আসনের সীমানা চূড়ান্ত করে আগামী ১৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে গেজেট প্রকাশ করবে ইসি। আর ৩০ সেপ্টেম্বর প্রকাশ করা হবে জিআইএস বা ভৌগোলিক ম্যাপ।
রোডম্যাপ অনুযায়ী মোট ২৪টি বিষয় ২০৭ ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে। এর মধ্যে রয়েছে নির্বাচনি আইন সংস্কার, সংসদীয় আসনের সীমানা চূড়ান্তকরণ এবং প্রবাসী ও কারাবন্দিদের ভোটদানের মতো গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম।
এছাড়া এবার প্রবাসী বাংলাদেশি এবং কারাবন্দিদের পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। প্রবাসীদের নিবন্ধন ৩০ নভেম্বরের মধ্যে সম্পন্ন করা হবে। তাদের কাছে ব্যালট পেপার ৫ জানুয়ারির মধ্যে পৌঁছানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে এবং নির্বাচনের এক সপ্তাহ আগে তা দেশে ফেরত আনার ব্যবস্থা করা হবে। কারাবন্দিদের কাছে ভোটের দুই সপ্তাহ আগে পোস্টাল ব্যালট পৌঁছানো হবে।
আইনশৃঙ্খলা ও প্রশাসনিক প্রস্তুতি
ভোটকেন্দ্র চূড়ান্তকরণ ও প্যানেল প্রস্তুতি অক্টোবরের শেষের মধ্যে সম্পন্ন হবে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে প্রথম সভা ২৫ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনসংক্রান্ত সফটওয়্যার ৩১ অক্টোবরের মধ্যে প্রস্তুত রাখা হবে এবং এআই কার্যক্রম নির্বাচন শেষ না হওয়া পর্যন্ত চলবে।
তফসিল ও নির্বাচনের সময়সূচি
চলতি বছরের ডিসেম্বরের প্রথমার্ধে তফসিল এবং ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
দেশি পর্যবেক্ষক সংস্থার নিবন্ধন ও সার্টিফিকেট
আগামী ১৫ নভেম্বরের মধ্যে দেশি পর্যবেক্ষক সংস্থার নিবন্ধন ও চূড়ান্ত সার্টিফিকেট দেওয়া হবে। নির্বাচন আইনবিধি একীভূতকরণ এবং নির্বাচনি ম্যানুয়েল, নির্দেশিকা, পোস্টার ও পরিচয়পত্র ১৫ নভেম্বরের মধ্যে প্রস্তুত হবে। নির্বাচনী মালামাল ১ ডিসেম্বরের মধ্যে বিতরণ করা হবে।
আরও যা গুরুত্বপূর্ণ
১. স্বচ্ছ ব্যালট বাক্স ও নির্বাচনী দ্রব্যাদি ব্যবহার উপযোগী করা: ৩০ নভেম্বরের মধ্যে
২. নির্বাচন ভবনে বেসরকারি ফলাফল প্রদর্শনের জন্য ডিজিটাল মনিটর স্থাপন ও যন্ত্রপাতি সংযোজন: ডিসেম্বরের মধ্যে
৩. ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের খাত ও দফাওয়ারি অর্থ বরাদ্দের হার নির্ধারণ করে প্রস্তাবনা প্রণয়ন: ১৫ নভেম্বরের মধ্যে
৪. পোস্টাল ব্যালট প্রবাসীদের কাছে পাঠানো ও ভোটারদের কাছে পৌঁছানো: ২০২৬ সারের ৫ জানুয়ারির মধ্যে
৫. সচিবালয়, ইটিআই ও এনআইডির ৭৫ জন কর্মকর্তাকে দুইদিন প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।
৬. ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার জন্য নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের ৪৫ থেকে ৪৬ দিনের জন্য নিয়োগ দেওয়া হবে।
৭. ২৫ দিন আগে প্রকাশ করা হবে চূড়ান্ত ভোটকেন্দ্রের তালিকা।
৮. নির্বাচন শেষ হওয়ার আগ পর্যন্ত আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্সের (এআই) বিষয়ে সজাগ থাকবে ইসি। সব ধরনের অপপ্রচার প্রতিরোধ করা হবে।