ঢাকা ০৮:৫৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৫, ২১ চৈত্র ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी

ভারত নির্ভরতা কমাতেই চিকিৎসায় বিকল্প ভাবনায় চীন

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৭:১১:৪০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ এপ্রিল ২০২৫
  • / ৪২ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ক্যান্সার,লিভারসিরোসিস এবং অন্যন্য অনেক জটিল রোগের চিকিৎসা সেবা নিতে প্রতি বছর প্রায় লক্ষাধিক রোগী ভারত,থাইল্যান্ড ও সিঙ্গাপুরের হাসপাতালগুলোতে যান। কিন্তু পাশবর্তী দেশ ভারত যাতায়াতে সুবিধা ও অপেক্ষাকৃত কম খরচে চিকি]সা সেবা পাওয়া যায় বিধায় বাংলাদেশের রোগীদের ভারত নির্ভরতা বেশি হয়ে ওঠেছে। ভারতে দিল্লি,চেন্নাই এবং কোলকাতার হাসপাতালগুলোতে বাংলাদেশের রোগীদের ভীড় লেগেই থাকে। কিন্তু গত জুলাই থেকে ভারত গমনাগমনে ভিসা জটিলতা চূড়ান্ত পর্যায় পৌছায় বিপাকে পড়ে ভারতগামী বাংলাদেশেীরা রোগীরা।

অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ভারতে সাথে কুটনৈতিক সম্পর্কটাও খুব একটা ভালো না। বিশেষ করে ৫ আগস্ট পালিয়ে যাওয়া বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ভারতের মোদি সরকার আশ্রয় দেয়। সে থেকেই মুলত দুই দেশের সম্পর্কটা বন্ধু থেকে চরম শত্রুুতায় রুপ নেয়। ফলে চিকিৎসা গ্রহনের জন্য মেডিকেল ভিসা শুন্যের কোটায় চলে যায়। এমন কি দুই দেশের কুটনৈতিক সম্পর্কের টানাপোড়নে ভিজিট ভিসাও ক্রমান্বয়ে সীমিত আকারে নিয়ে আনা হচ্ছে। ফলে নিরুপায় হয়ে অনেকেই থাইল্যান্ড ও সিঙ্গাপুরের হাসপাতালগুলোতে ছুটছেন।  তবে ভারতের তুলনায় এ দুটি দেশে চিকিৎসা খরচ বেশি হওয়ায় রোগীদের স্বজনরা বিপাকে পড়ছেন।

এ অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে স্বল্পমেয়াদি পরিকল্পনায় জটিল রোগে আক্রান্ত বাংলাদেশি রোগীদের চিকিৎসা সেবা পেতে এবং ভারত নির্ভরতা কমাতে বিকল্প হিসেবে চীনের হাসপাতালগুলোকে বেচে নেয়া হয়। এতে  অপেক্ষাকৃত কম খরচে বিদেশের হাসপাতালে সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে অন্তর্বর্তী সরকার চীনের চারটি হাসপাতাল নির্ধারণ করেছে। পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় চীনকে বাংলাদেশে একটি উন্নত মানের বিশেষত হাসপাতাল নির্মাণের অনুরোধ জানিয়েছে সরকার।

প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ দূত ড. খলিলুর রহমান বলেছেন, চীন এরই মধ্যে কুনমিংয়ের চারটি হাসপাতাল বাংলাদেশি রোগীদের জন্য বিশেষভাবে বরাদ্দ করেছে। তাছাড়া সম্প্রতি চীন সরকারের আমন্ত্রণে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের চারদিনের রাষ্ট্রীয় সফরকালে চীন সরকার বাংলাদেশে একটি উন্নতমানের বিশেষায়িত হাসপাতাল নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

চীনে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত নাজমুল ইসলাম বলেছেন, কুনমিং কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশি রোগীদের জন্য হাসপাতালের নির্দিষ্ট তলা বরাদ্দ করেছে। চিকিৎসার খরচও বেশ যুক্তিসঙ্গত। একজন বাংলাদেশি রোগী চীনা নাগরিকদের সমান খরচেই চিকিৎসা গ্রহণ করতে পারবেন বলে জানালেন রাষ্ট্রদূত ইসলাম।

গত ৩০ মার্চ প্রধান উপদেষ্টার ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি আবুল কালাম আজাদ মজুমদার চীনের সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানান, চায়না ইস্টার্ন এয়ারলাইন্স বাংলাদেশের বন্দরনগরী চট্টগ্রাম থেকে চীনের কুনমিং পর্যন্ত ফ্লাইট পরিচালনার পরিকল্পনা করছে। এর ফলে বাংলাদেশের পূর্বাঞ্চলের মানুষ সহজে চীনের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর কুনমিংয়ের হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসা নিতে পারবেন।

কুনমিং ভ্রমণ সহজ করতে ঢাকা ও কুনমিং রুটে বিমান টিকিটের দাম কমানোর উদ্যোগও নিয়েছে বাংলাদেশের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ। চীনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা বাংলাদেশিদের জন্য আরও স্বাস্থ্যসেবা সুবিধা উন্মুক্ত করবে।

প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ দূত, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) এবং বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) নির্বাহী পরিচালক আশিক চৌধুরী বলেন, জটিল রোগে আক্রান্ত রোগীরা বাংলাদেশ থেকে প্রধানত ভারত, থাইল্যান্ড ও সিঙ্গাপুরে যান। এ দেশগুলোর তুলনায় অপেক্ষাকৃত কম খরচে বাংলাদেশি রোগীদের চিকিৎসা গ্রহণের সুযোগ করে দিতে বিকল্প হিসেবে চীনকে ভাবা হচ্ছে। বাংলাদেশের রোগীরা চীনের হাসপাতালে চিকিৎসা গ্রহণ শুরু করলে প্রতিযোগিতার কারণে অন্য তিনটি দেশেরও খরচ কমবে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ থেকে বিদেশে চিকিৎসার জন্য গেলে টাকা চলে যায়। এ কারণে চীনকে বাংলাদেশের একটি বিশেষায়িত হাসপাতাল নির্মাণের প্রস্তাব দেওয়া হয়। হাসপাতাল নির্মাণের পাশাপাশি কিছুদিন তাদের চিকিৎসক, নার্স ও টেকনিশিয়ানের মাধ্যমে হাসপাতালটি পরিচালনার দায়িত্ব পালন করতে অনুরোধ করা হয়। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের চিকিৎসক, নার্স ও টেকনিশিয়ানরা প্রযুক্তির ব্যবহার শিখতে পারবেন। এরপর একইভাবে বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে বিশেষায়িত হাসপাতাল নির্মাণসহ প্রশিক্ষিত জনবল দ্বারা রোগীদের উন্নতমানের চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হবে। তিনি বলেন, চীনের সঙ্গে বর্তমানে বাংলাদেশে বিনিয়োগ নিয়ে আলোচনা চলছে। মেডিকেল ইকুইপমেন্ট ও হেলথকেয়ার এই বিনিয়োগ আলোচনায় থাকবে বলে তিনি জানান।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

ভারত নির্ভরতা কমাতেই চিকিৎসায় বিকল্প ভাবনায় চীন

আপডেট সময় : ০৭:১১:৪০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ এপ্রিল ২০২৫

ক্যান্সার,লিভারসিরোসিস এবং অন্যন্য অনেক জটিল রোগের চিকিৎসা সেবা নিতে প্রতি বছর প্রায় লক্ষাধিক রোগী ভারত,থাইল্যান্ড ও সিঙ্গাপুরের হাসপাতালগুলোতে যান। কিন্তু পাশবর্তী দেশ ভারত যাতায়াতে সুবিধা ও অপেক্ষাকৃত কম খরচে চিকি]সা সেবা পাওয়া যায় বিধায় বাংলাদেশের রোগীদের ভারত নির্ভরতা বেশি হয়ে ওঠেছে। ভারতে দিল্লি,চেন্নাই এবং কোলকাতার হাসপাতালগুলোতে বাংলাদেশের রোগীদের ভীড় লেগেই থাকে। কিন্তু গত জুলাই থেকে ভারত গমনাগমনে ভিসা জটিলতা চূড়ান্ত পর্যায় পৌছায় বিপাকে পড়ে ভারতগামী বাংলাদেশেীরা রোগীরা।

অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ভারতে সাথে কুটনৈতিক সম্পর্কটাও খুব একটা ভালো না। বিশেষ করে ৫ আগস্ট পালিয়ে যাওয়া বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ভারতের মোদি সরকার আশ্রয় দেয়। সে থেকেই মুলত দুই দেশের সম্পর্কটা বন্ধু থেকে চরম শত্রুুতায় রুপ নেয়। ফলে চিকিৎসা গ্রহনের জন্য মেডিকেল ভিসা শুন্যের কোটায় চলে যায়। এমন কি দুই দেশের কুটনৈতিক সম্পর্কের টানাপোড়নে ভিজিট ভিসাও ক্রমান্বয়ে সীমিত আকারে নিয়ে আনা হচ্ছে। ফলে নিরুপায় হয়ে অনেকেই থাইল্যান্ড ও সিঙ্গাপুরের হাসপাতালগুলোতে ছুটছেন।  তবে ভারতের তুলনায় এ দুটি দেশে চিকিৎসা খরচ বেশি হওয়ায় রোগীদের স্বজনরা বিপাকে পড়ছেন।

এ অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে স্বল্পমেয়াদি পরিকল্পনায় জটিল রোগে আক্রান্ত বাংলাদেশি রোগীদের চিকিৎসা সেবা পেতে এবং ভারত নির্ভরতা কমাতে বিকল্প হিসেবে চীনের হাসপাতালগুলোকে বেচে নেয়া হয়। এতে  অপেক্ষাকৃত কম খরচে বিদেশের হাসপাতালে সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে অন্তর্বর্তী সরকার চীনের চারটি হাসপাতাল নির্ধারণ করেছে। পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় চীনকে বাংলাদেশে একটি উন্নত মানের বিশেষত হাসপাতাল নির্মাণের অনুরোধ জানিয়েছে সরকার।

প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ দূত ড. খলিলুর রহমান বলেছেন, চীন এরই মধ্যে কুনমিংয়ের চারটি হাসপাতাল বাংলাদেশি রোগীদের জন্য বিশেষভাবে বরাদ্দ করেছে। তাছাড়া সম্প্রতি চীন সরকারের আমন্ত্রণে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের চারদিনের রাষ্ট্রীয় সফরকালে চীন সরকার বাংলাদেশে একটি উন্নতমানের বিশেষায়িত হাসপাতাল নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

চীনে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত নাজমুল ইসলাম বলেছেন, কুনমিং কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশি রোগীদের জন্য হাসপাতালের নির্দিষ্ট তলা বরাদ্দ করেছে। চিকিৎসার খরচও বেশ যুক্তিসঙ্গত। একজন বাংলাদেশি রোগী চীনা নাগরিকদের সমান খরচেই চিকিৎসা গ্রহণ করতে পারবেন বলে জানালেন রাষ্ট্রদূত ইসলাম।

গত ৩০ মার্চ প্রধান উপদেষ্টার ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি আবুল কালাম আজাদ মজুমদার চীনের সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানান, চায়না ইস্টার্ন এয়ারলাইন্স বাংলাদেশের বন্দরনগরী চট্টগ্রাম থেকে চীনের কুনমিং পর্যন্ত ফ্লাইট পরিচালনার পরিকল্পনা করছে। এর ফলে বাংলাদেশের পূর্বাঞ্চলের মানুষ সহজে চীনের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর কুনমিংয়ের হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসা নিতে পারবেন।

কুনমিং ভ্রমণ সহজ করতে ঢাকা ও কুনমিং রুটে বিমান টিকিটের দাম কমানোর উদ্যোগও নিয়েছে বাংলাদেশের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ। চীনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা বাংলাদেশিদের জন্য আরও স্বাস্থ্যসেবা সুবিধা উন্মুক্ত করবে।

প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ দূত, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) এবং বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) নির্বাহী পরিচালক আশিক চৌধুরী বলেন, জটিল রোগে আক্রান্ত রোগীরা বাংলাদেশ থেকে প্রধানত ভারত, থাইল্যান্ড ও সিঙ্গাপুরে যান। এ দেশগুলোর তুলনায় অপেক্ষাকৃত কম খরচে বাংলাদেশি রোগীদের চিকিৎসা গ্রহণের সুযোগ করে দিতে বিকল্প হিসেবে চীনকে ভাবা হচ্ছে। বাংলাদেশের রোগীরা চীনের হাসপাতালে চিকিৎসা গ্রহণ শুরু করলে প্রতিযোগিতার কারণে অন্য তিনটি দেশেরও খরচ কমবে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ থেকে বিদেশে চিকিৎসার জন্য গেলে টাকা চলে যায়। এ কারণে চীনকে বাংলাদেশের একটি বিশেষায়িত হাসপাতাল নির্মাণের প্রস্তাব দেওয়া হয়। হাসপাতাল নির্মাণের পাশাপাশি কিছুদিন তাদের চিকিৎসক, নার্স ও টেকনিশিয়ানের মাধ্যমে হাসপাতালটি পরিচালনার দায়িত্ব পালন করতে অনুরোধ করা হয়। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের চিকিৎসক, নার্স ও টেকনিশিয়ানরা প্রযুক্তির ব্যবহার শিখতে পারবেন। এরপর একইভাবে বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে বিশেষায়িত হাসপাতাল নির্মাণসহ প্রশিক্ষিত জনবল দ্বারা রোগীদের উন্নতমানের চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হবে। তিনি বলেন, চীনের সঙ্গে বর্তমানে বাংলাদেশে বিনিয়োগ নিয়ে আলোচনা চলছে। মেডিকেল ইকুইপমেন্ট ও হেলথকেয়ার এই বিনিয়োগ আলোচনায় থাকবে বলে তিনি জানান।