ঢাকা ০৯:০৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৫, ২১ চৈত্র ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी

হামজা চৌধুরী এখন বাংলাদেশে,প্রত্যাশা ভারত বধের

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ০১:১০:৪২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ মার্চ ২০২৫
  • / ১১২ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

চারিদিকে ক্যামেরা। মানুষ আর মিডিয়া কর্মীতে ঠাসাঠাসি। লন্ডন থেকে আগত হামজা চৌধুরীকে বরণ করতে সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এই ছিলো পরিস্থিতি। সকল ভীড় ঠেলে বাইরে এলেন হামজা। তাকে স্বাগত জানাতে তুমুল করোতালিতে মুখরিত ছিলো বিমান বন্দর। আসলেন মিডিয়ার সামনে হালকা সিলেটি ভাষা আর ইংরেজী মিশ্রনে কথা বলেছেন। জানিয়েছেন বাবার দেশ,মাতৃভূমিতে ফুটবলা খেলার পিছনের গল্প। পাশে থাকা বাবার যেন গর্বে বুক ভরে গেছে। এর আগে বহুবার সিলেটে এসেছিলেন। কিন্তু কখনোই জানতেও পারেনি হামজার বাবাকে। এবার বুঝিয়ে দিলেন না, তিনি সাধারণ কোন লোক নন, ইংলিশ লিগে বাজিমাত করা হামজা চৌধুরীর বাবা। 

সোমবার সকালে সিলেট বিমানবন্দরে তিনি হামজা মিডিয়ার অনেক কথার উত্তর দিয়েছেন। কোন বাড়তি কথা বলতে শোনা যায়নি সর্বক্ষনিক হাশিখুশিতে থাকা শেফিল্ড ইউনাইটেড এর হয়ে খেলুড়ে হামজা। প্রত্যেক কথার উত্তর দিয়েছেন হাসতে হাসতে। যে বাংলা বুজতে অসুবিধা হয়েছে পাশা থাকা বাবার কাছ থেকে বুজে নিয়ে দিয়েছেন উত্তর।

প্রত্যাশা জাগিয়েছেন ভারত বধের। বলেছেন, ইনশাআল্লাহ আমরা উইন খরমু। আবার এও বলেছেন, আমি খুব ভালোভাবে শুদ্ধ বাংলা বলতে পারিনা।
হামজার আসাটা যেন  বাংলাদেশের ফুটবল ভক্তদের কাছে অবিশ্বাস্য, স্বেপ্নের মতো। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের খেলোয়াড় খেলবেন বাংলাদেশের হয়ে! বাবার ইচ্ছায় তার দেশের হয়ে খেলার ইচ্ছা জাগে। বাবার স্বপ্ন বাস্তবায়নেই তাই বাংলাদেশের জার্সিতে খেলার ঘোষানা দিয়ে ছুটে আসেন। বাংলাদেশকে এশিয়ান লেবেলে উঠানোর স্বপ্ন দেখালেন। বিশ্বকাপ খেলার প্রসঙ্গ উঠতেই বললেন, ইনশাআল্লাহ সব কিছু আস্তে আস্তে হবে। দেশের মানুষের ভালোবাসা দেখে আপ্লত তিনি। স্মৃতির প্রেমে বন্দি থাকবে তার অনেক দিন।

দীর্ঘ দিনের প্রক্রিয়া শেষে গত বছর বাংলাদেশের হয়ে খেলার অনুমোদন পান হামজা।  আগামী ২৫ মার্চ শিলংয়ে এশিয়ান কাপ বাছাইতে ভারতের বিপক্ষে বাংলাদেশের হয়ে অভিষেক হবে এই তারকার। এই ম্যাচটি খেলতেই তিনি দেশে এসেছেন।

তার কাছে শুরুতে ইংরেজিতে প্রত্যাশার কথা জানতে চান এক সাংবাদিক। হামজার উত্তরের পর দাবি উঠে বাংলায় কথা বলার। তিনি পরে স্থানীয় সিলেটীতে দেন উত্তর, ‘ইনশাল্লাহ আমরা উইন খরমু। আমি কোচ হ্যাভিয়ের কাভরেরার লগে মাতছি  বহুত্তা।  আমরা উইন খরিয়া প্রগ্রেস করতাম ফারমু।’ (ইনশাল্লাহ আমরা জিতব। আমি কোচ হ্যাভিয়ের কাবরেরার সঙ্গে অনেক কিছু আলাপ করেছি। আমরা জিতে পরের ধাপে যেতে পারব)।

সিলেট বিমানবন্দর থেকে গাড়ি যোগে হামজা যাবেন হবিগঞ্জের বাহুবলে স্নানঘাট গ্রামে। সেখানে তার বাবার বাড়ি। পরিবারের সবাইকে নিয়ে গ্রামে কাটাবেন এক রাত। তার আগমণ উপলক্ষে ওই এলাকা পুরো সেজে উঠেছে। স্থানীয় এলাকায় এতিমদের নিয়ে ইফতার মাহফিল করার পর মঙ্গলবার ঢাকায় আসবেন হামজা। একদিন অনুশীলনের পর বাংলাদেশ দলের সঙ্গে শেফিল্ড ইউনাইটেড তারকা যাবেন শিলং।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

হামজা চৌধুরী এখন বাংলাদেশে,প্রত্যাশা ভারত বধের

আপডেট সময় : ০১:১০:৪২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ মার্চ ২০২৫

চারিদিকে ক্যামেরা। মানুষ আর মিডিয়া কর্মীতে ঠাসাঠাসি। লন্ডন থেকে আগত হামজা চৌধুরীকে বরণ করতে সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এই ছিলো পরিস্থিতি। সকল ভীড় ঠেলে বাইরে এলেন হামজা। তাকে স্বাগত জানাতে তুমুল করোতালিতে মুখরিত ছিলো বিমান বন্দর। আসলেন মিডিয়ার সামনে হালকা সিলেটি ভাষা আর ইংরেজী মিশ্রনে কথা বলেছেন। জানিয়েছেন বাবার দেশ,মাতৃভূমিতে ফুটবলা খেলার পিছনের গল্প। পাশে থাকা বাবার যেন গর্বে বুক ভরে গেছে। এর আগে বহুবার সিলেটে এসেছিলেন। কিন্তু কখনোই জানতেও পারেনি হামজার বাবাকে। এবার বুঝিয়ে দিলেন না, তিনি সাধারণ কোন লোক নন, ইংলিশ লিগে বাজিমাত করা হামজা চৌধুরীর বাবা। 

সোমবার সকালে সিলেট বিমানবন্দরে তিনি হামজা মিডিয়ার অনেক কথার উত্তর দিয়েছেন। কোন বাড়তি কথা বলতে শোনা যায়নি সর্বক্ষনিক হাশিখুশিতে থাকা শেফিল্ড ইউনাইটেড এর হয়ে খেলুড়ে হামজা। প্রত্যেক কথার উত্তর দিয়েছেন হাসতে হাসতে। যে বাংলা বুজতে অসুবিধা হয়েছে পাশা থাকা বাবার কাছ থেকে বুজে নিয়ে দিয়েছেন উত্তর।

প্রত্যাশা জাগিয়েছেন ভারত বধের। বলেছেন, ইনশাআল্লাহ আমরা উইন খরমু। আবার এও বলেছেন, আমি খুব ভালোভাবে শুদ্ধ বাংলা বলতে পারিনা।
হামজার আসাটা যেন  বাংলাদেশের ফুটবল ভক্তদের কাছে অবিশ্বাস্য, স্বেপ্নের মতো। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের খেলোয়াড় খেলবেন বাংলাদেশের হয়ে! বাবার ইচ্ছায় তার দেশের হয়ে খেলার ইচ্ছা জাগে। বাবার স্বপ্ন বাস্তবায়নেই তাই বাংলাদেশের জার্সিতে খেলার ঘোষানা দিয়ে ছুটে আসেন। বাংলাদেশকে এশিয়ান লেবেলে উঠানোর স্বপ্ন দেখালেন। বিশ্বকাপ খেলার প্রসঙ্গ উঠতেই বললেন, ইনশাআল্লাহ সব কিছু আস্তে আস্তে হবে। দেশের মানুষের ভালোবাসা দেখে আপ্লত তিনি। স্মৃতির প্রেমে বন্দি থাকবে তার অনেক দিন।

দীর্ঘ দিনের প্রক্রিয়া শেষে গত বছর বাংলাদেশের হয়ে খেলার অনুমোদন পান হামজা।  আগামী ২৫ মার্চ শিলংয়ে এশিয়ান কাপ বাছাইতে ভারতের বিপক্ষে বাংলাদেশের হয়ে অভিষেক হবে এই তারকার। এই ম্যাচটি খেলতেই তিনি দেশে এসেছেন।

তার কাছে শুরুতে ইংরেজিতে প্রত্যাশার কথা জানতে চান এক সাংবাদিক। হামজার উত্তরের পর দাবি উঠে বাংলায় কথা বলার। তিনি পরে স্থানীয় সিলেটীতে দেন উত্তর, ‘ইনশাল্লাহ আমরা উইন খরমু। আমি কোচ হ্যাভিয়ের কাভরেরার লগে মাতছি  বহুত্তা।  আমরা উইন খরিয়া প্রগ্রেস করতাম ফারমু।’ (ইনশাল্লাহ আমরা জিতব। আমি কোচ হ্যাভিয়ের কাবরেরার সঙ্গে অনেক কিছু আলাপ করেছি। আমরা জিতে পরের ধাপে যেতে পারব)।

সিলেট বিমানবন্দর থেকে গাড়ি যোগে হামজা যাবেন হবিগঞ্জের বাহুবলে স্নানঘাট গ্রামে। সেখানে তার বাবার বাড়ি। পরিবারের সবাইকে নিয়ে গ্রামে কাটাবেন এক রাত। তার আগমণ উপলক্ষে ওই এলাকা পুরো সেজে উঠেছে। স্থানীয় এলাকায় এতিমদের নিয়ে ইফতার মাহফিল করার পর মঙ্গলবার ঢাকায় আসবেন হামজা। একদিন অনুশীলনের পর বাংলাদেশ দলের সঙ্গে শেফিল্ড ইউনাইটেড তারকা যাবেন শিলং।