মঙ্গলবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) শফিকুল কবির মিলনায়তনে “বৈষম্যমূলক ভ্যাট ও কর বৃদ্ধি প্রতিরোধ কমিটি” দ্বারা ২.৫ শতাংশ বর্ধিত ভ্যাট প্রত্যাহারের দাবিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব বলা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে সংশ্লিষ্টরা বলেন, অর্থ বছরের মাঝপথে এসে কৃষিজাত পণ্য উৎপাদনের জন্য ব্যবহৃত ডিজেল ইঞ্জিন মটরপাম্প, অগভীর ও গভীর
পাম্প (সাবমারসিবল পাম্প) শিল্প-কলকারখানার ব্যবহৃত মেশিনারিজ ও যন্ত্রাংশের ওপর ৫ গুণ কর ও ভ্যাট বৃদ্ধি করায় আমরা ব্যবসায়ীরা এবং কৃষক সমাজ হতাশ ও উদ্বিগ্ন। সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডারদের সাথে কোনো
আলাপ-আলোচনা ছাড়াই গত ৯ জানুয়ারি এই কর বৃদ্ধিসংক্রান্ত গেজেট ঘোষণা করা হয়েছে।
তারা বলেন, বর্তমানে দেশ একটি ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে। ব্যাংক ঋণের সুদের হার বৃদ্ধি পাওয়ায় আমরা ব্যবসায়ীরা এমনিতেই ব্যবসা-বাণিজ্য পরিচালনায় হিমশিম খাচ্ছি। এমন অবস্থায় সরকার কর ও ভ্যাট ব্যাপক হারে বৃদ্ধি করায় ব্যবসা-বাণিজ্য স্থবির হয়ে পড়েছে।
বৈষম্যমূলক করবৃদ্ধি প্রতিরোধ কমিটির আহ্বায়ক সহিদুল হক মোল্লা বলেন, ‘যারা কৃষিপণ্য আমদানি করেন এবং যেসব কৃষিপণ্য ভ্যাট-মুক্ত ছিল, সেসব পণ্যের বিক্রয়ের ক্ষেত্রে ৭.৫ শতাংশ ভ্যাট পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে আমদানির ক্ষেত্রে অগ্রিম কর ৫ শতাংশ থাকার ফলে ব্যবসায়ীদের প্রায় ৪৮৫ শতাংশ অতিরিক্ত ট্রেজারি পেমেন্ট করতে হচ্ছে। যা ভোক্তাদের কাছ থেকে আদায় করা এক প্রকার অসম্ভব ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘সরকার সবসময় কৃষিখাতে ভর্তুকি দিয়ে থাকে যাতে কৃষকরা উৎপাদনে আগ্রহী হয় এবং কৃষিপণ্যের বাজারমূল্য ক্রেতাদের নাগালের মধ্যে থাকে। আমাদের আমদানি করা সকল পণ্যের গ্রাহক কৃষক তথা গরিব ও খেটে খাওয়া মানুষ। কিন্তু সরকারের এই সিদ্ধান্তের ফলে এসব মানুষের ব্যবহৃত পণ্যের মূল্য অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাবে।’
দাবি না মানলে কঠোর কর্মসূচির ঘোষণা দিয়ে সংগঠনটির সদস্য সচিব শহীদুল হক শহীদ বলেন, ‘সরকার এরই মধ্যে কিছু ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ১৫ শতাংশ পর্যন্ত ভ্যাট প্রত্যাহার করেছে। আমরা আশা করি, আমাদের যৌক্তিক দাবি আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে বাস্তবায়ন করা হবে। যদি তা না হয়, তবে আগামী বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা থেকে ২টা পর্যন্ত মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হবে। এরপরও দাবি মানা না হলে, আমরা আরও কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবো।’