নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হলেই জাকাত ফরজ

- আপডেট সময় : ১২:২৯:০৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৫
- / ৯৮ বার পড়া হয়েছে
জাকাত ফরজ ইবাদত। সম্পদের মালিকের ওপরই জাকাত ফরজ হয়। মালিক যদি স্ত্রী হয়, স্ত্রীর ওপরই জাকাত ফরজ। ‘সুস্থমস্তিষ্ক, আজাদ, বালেগ মুসলমান পুরুষ হোক বা নারী, নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হলে জাকাত আদায় করা তার ওপর ফরজ হয়ে যায়। (আদ্দুররুল মুখতার: ২/২৫৯ বাদায়েউস সানায়ে: ২/৭৯,৮২)
সোনা ও রুপা হলো জাকাতের নিসাবের পরিমাপক। স্বর্ণের নিসাব হলো ৭.৫ তোলা বা ৯৫.৭৪৮ গ্রাম (প্রায়) আর রুপার নিসাব ৫২.৫ তোলা বা ৬৭০.২৪ গ্রাম (প্রায়)। কারো কাছে যদি শুধু রুপা থাকে এবং যদি রুপার নেসাব পূর্ণ না হয়, তাহলে তার ওপর জাকাত আবশ্যক হবে না। একইভাবে কারো কাছে শুধু স্বর্ণ থাকলে স্বর্ণের নিসাব পূর্ণ হলেই জাকাত ফরজ হবে। (হেদায়া: ১/১৭৯; তাতারখানিয়া: ২/২৩৭; মাসবুত: ২/১৯১; বাদায়েয়ুস সানায়ে: ২/১৮)
দেশি-বিদেশি মুদ্রা ও ব্যবসায়িক পণ্যের নিসাব নির্ধারণে ফকির-মিসকিনদের জন্য যেটি বেশি লাভজনক হবে, সেটিকে পরিমাপক হিসেবে গ্রহণ করাই (অর্থাৎ বর্তমানে রুপাকে পরিমাপক হিসেবে গ্রহণ করাই) শরিয়তের নির্দেশ। (আহসানুল ফতোয়া: ৪/৩৯৪, আল ফিকহুল ইসলামি: ২/৬৬৯)
যে সম্পদের ওপর জাকাত ফরজ, তার ৪০ ভাগের একভাগ (২.৫০%) জাকাত দেওয়া জরুরি। সম্পদের মূল্য নির্ধারণ করে শতকরা আড়াই টাকা বা হাজারে ২৫ টাকা হারে নগদ অর্থ কিংবা ওই পরিমাণ টাকার কাপড়চোপড় বা অন্য কোনো প্রয়োজনীয় সামগ্রী কিনে দিলেও জাকাত আদায় হবে। (আবু দাউদ: ১৫৭২; সুনানে তিরমিজি: ৬২৩)
তবে হ্যাঁ, স্বামী যদি স্ত্রীর অনুরোধে বা অনুমতিক্রমে খুশি মনে স্ত্রীর জাকাত আদায় করে দেয় তবে তা আদায় হয়ে যাবে এবং স্বামী সওয়াবের ভাগী হবেন। বরং সামর্থ্যবান স্বামীর জন্য অর্থের সাথে জড়িত ফরজগুলো আদায়ের ক্ষেত্রে স্ত্রীকে সহযোগিতা করাই বাঞ্ছনীয়। (মুসান্নাফ ইবনে আবি শাইবা: ৬/৪৭০, ৮/২৩০; আহকামুল কুরআন জাসসাস: ৩/১০৭; আদ্দুররুল মুখতার: ২/২৯৮; সুনানে আবু দাউদ: ১৫৬০)
জাকাত আদায় না করা কঠিন গুনাহের কাজ। কোরআন ও হাদিসে জাকাত আদায় না করার কঠিন শাস্তির কথা এসেছে। মহান আল্লাহ বলেন, ‘এবং যারা সোনা ও রুপা জমা করে রাখে, তা আল্লাহর পথে খরচ করে না, আপনি তাদের বেদনাদায়ক আজাবের সুসংবাদ দিন। যেদিন জাহান্নামের আগুনে তা উত্তপ্ত করা হবে, অতঃপর তা দিয়ে তাদের কপালে, পার্শ্বদেশে ও পিঠে সেঁক দেওয়া হবে, (বলা হবে) এটা তা-ই যা তোমরা নিজেদের জন্য জমা রাখতে, অতএব তোমরা যা জমা করেছিলে তার স্বাদ উপভোগ করো। ’ (সুরা তাওবা: ৩৪-৩৫)
অন্য আয়াতে বলা হয়েছে, ‘আল্লাহর অনুগ্রহে প্রদত্ত সম্পদ নিয়ে যারা কৃপণতা করে তারা যেন এটাকে কিছুতেই কল্যাণকর মনে না করে, তারা যা নিয়ে কৃপণতা করে কেয়ামতের দিন তাই তাদের গলায় বেড়ি হবে, আসমান ও জমিনের স্বত্বাধিকার একমাত্র আল্লাহর, তোমরা যা কিছু করো আল্লাহ তা বিশেষভাবে অবহিত।’ (সুরা আলে ইমরান: ১৮০)
রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, ‘আল্লাহ যাকে সম্পদ দিয়েছেন, কিন্তু সে এর জাকাত আদায় করেনি, কেয়ামতের দিন তার সম্পদকে টাক (বিষের তীব্রতার কারণে) মাথাবিশিষ্ট বিষধর সাপের আকৃতি দিয়ে তার গলায় ঝুলিয়ে দেওয়া হবে। সাপটি তার মুখের দুই পাশ কামড়ে ধরে বলবে, আমি তোমার সম্পদ, আমি তোমার জমাকৃত সম্পদ।’ অতঃপর রাসুল (স.) ওপরে উল্লিখিত সুরা আলে ইমরানের আয়াতটি পাঠ করেন। (বুখারি: ১৪০৩)
অন্যদিকে, জাকাত আদায়কারীর জন্য মহাপুরস্কার ঘোষণা করে পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, ‘আর যারা সালাত আদায় করে, জাকাত দেয় এবং আল্লাহ ও পরকালে ঈমান রাখে আমি তাদেরকে মহাপুরস্কার দিব।’ (সুরা নিসা: ১৬২)