মতিঝিল তার ঐতিহ্য হারাচ্ছে

- আপডেট সময় : ০৭:০২:০১ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ ডিসেম্বর ২০২৪
- / ২০৪ বার পড়া হয়েছে
মতিঝিল। লোকমুখে বলাবলি, ঝিল থেকেই নাকি মতিঝিল হয়ে গড়ে উঠা। ইতিহাস বলছে, মোগল সাম্রাজ্যের সময়কাল হতেই মতিঝিল এলাকার নাম শোনা যায়। এই এলাকাটি সেই সময় মির্জা মোহাম্মদের মহল হিসাবে গন্য হতো, যার মধ্যে ছিলো একটি পুকুর। শুরুতে সুকাকু মহলের পুকুর হিসাবে খ্যাত হলেও পরে এই পুকুরটি মতিঝিল নামে পরিচিত হয়ে উঠে, এবং এর নামানুসারেই এলাকাটির নামকরণ করা হয়।
সেই মতিঝিলই এক সময় রুপ নেয় অফিস পাড়ায়। সত্তর,আশি,নব্বই এর মতিঝিল বাংলাদেশের পটপরিবর্তনের অনেক কিছুরই স্বাক্ষী। নানামুখী অফিস এবং আদালতের উপস্থিতিতে মতিঝিল পাড়া হয়ে উঠে ব্যস্ততম শহর, ব্যবসা-বানিজ্যের প্রাণকেন্দ্র।
গত এক দশকে মতিঝিল পাড়ার সে রুপ কিছুটা ম্রিয়মাণ হয়ে পড়ছে। ফাঁকা অফিসের ফ্লোরগুলো যেন সেই সংকটেরই প্রতিচ্ছবি।
অফিস পাড়ার এই প্রাণকেন্দ্রটির বিভিন্ন ভবনে প্রায়শ দেখা যায় টু-লেট ঝুলতে। টিকাটুলির ইত্তেফাকের মোড় থেকে শাপলা চত্তর, দিলুশা,আরামবাগ,ফকিরের পুল ও নয়া পল্টন প্রায় দুই কিলোমিটারের মধ্যে প্রায় ৪০টি বানিজ্যিক ভবন রয়েছে।
এক সময় মতিঝিল এলাকায় একটু স্পেশ পাওয়াটা ছিলো দূর্লভ। সেখানেই ঝুলছে এখন অর্ধশত টু-লেট। একসময়ের জনস্রোত ক্রমান্বয়ে জনশূন্য হয়ে উঠছে।
ফাঁকা হয়ে পড়ছে মতিঝিল অফিস পাড়া। মানুষের গাদাগাদি এখন আর আগের মতো নেই। একসময় রাজধানীর সবচেয়ে প্রাণবন্ত ব্যবসাকেন্দ্র এখন অনেকটাই প্রাণহীন।
ব্যাঙ্ক,বীমাসহ প্রায় সকল ব্যবসায়ীরা অফিস স্থানান্তর করে নিচ্ছেন গুলশান, বনানী ও বারিধারায়। যা কিনা নতুন ঢাকা হিসেবে পরিচিত হয়ে উঠছে। মতিঝিলে এখন শাখা অফিসও রাখতে নারাজ তারা।
এক সময় কর্মচাঞ্চল্য থাকা মতিঝিলের আদমজী কোর্ট এনেক্স বিল্ডিং-২ এর ১২ তলা ভবনটি অনেকটা নিস্তেজ হয়ে পড়ছে।
আদমজী কোর্ট থেকে প্রায় ১৫ মিনিটের হাঁটা পথে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) এনেক্স ভবনেও একই দৃশ্য। সম্প্রতি সেখানে দেখা যায়, ১১ তলা ভবনটি দুপুর ১টায় নিস্তব্ধ। লিফটে দু-তিনজনের দেখা মেলে।
কয়েক বছর আগেও যা ছিল কল্পনার বাইরে।
২০১০ এর দশকে যখন ভবনটিতে স্টক ব্রোকারেজ অফিস অনেক ছিল, তখন লিফটে উঠতে লাইনে দাঁড়াতে হতো। ১৯৫৯ সাল থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত ডিএসইর সব কাজ এখানে হতো।
শেয়ার লেনদেনের সময় ওই ভবনটির সামনে এত জনসমাগম হতো যে ফুটপাত দিয়ে হেঁটে যাওয়ার খালি জায়গা পাওয়া যেতো না। এখন দিনের মাঝামাঝি সময়েও তা প্রায় জনশূন্য।
সময় ভালো যোগাযোগ ব্যবস্থার পাশাপাশি সচিবালয় কাছাকাছি হওয়ায় অধিকাংশ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান মতিঝিলে অফিস নিত।
এখন বদলে গেছে সব কিছু। বড় বড় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, ব্যাংক ও নতুন প্রজন্মের অফিসগুলো এ এলাকায় আসছে না।