এই রুট দিয়ে চলাচল করে ২০ জোড়া (৪০টি) ট্রেন। কিন্তু বিশাল এই স্টেশনে স্টপেজ মাত্র দুটি লোকাল ট্রেনের। এগুলোর একটি টাঙ্গাইল কমিউটার, অপরটি সিরাজগঞ্জ এক্সপ্রেস যা বর্তমানে বন্ধ রয়েছে। এই স্টেশনে কর্মরত আছে মাত্র দু’জন। নেই রেলওয়ে পুলিশসহ অন্য কোনো লোকবল। তাই সন্ধ্যা হলে পুরো ষ্টেশানজুড়ে নিরাপত্তাহীন পড়ে।
ভুতুড়ে বাড়িতে পরিনত বঙ্গবন্ধু হাইটেক সিটি রেলষ্টেশন

- আপডেট সময় : ০৭:২৭:৪৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ নভেম্বর ২০২৪
- / ৩৩৪ বার পড়া হয়েছে
শেখ হাসিনা সরকারের সময় গড়া প্রায় ষাট কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত বঙ্গবন্ধু হাইটেক সিটি রেলস্টেশনটি এখন ভুতুড়ে বাড়িতে রুপ নিয়েছে। নির্মাণের আগে প্রত্যাশা ছিলো প্রতিদিন গাজীপুর শিল্পাঞ্চল, ঢাকা ও উত্তরবঙ্গের ১২ হাজারের বেশি যাত্রী যাতায়াত করবে। কিন্তু বাস্তব রুপ তার ভিন্ন। কমলাপুর ষ্টেশানের আদলে গড়ে উঠা বঙ্গবন্ধু হাইটেক সিটি রেলষ্টেশানটি শুনশান নিরব ভুতুড়ে বাড়িতে পরিনত হয়েছে।
জানা যায়, ট্রেন না থামায়, যাত্রীদের যাতায়াত না থাকায় ষ্টেশানটিতে অপরাধ চক্র বাসা বেধেছে। মাদক ব্যবসায়ীসহ নানা অপরাধ চক্রের ভয়ে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে ষ্টেশানটির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
বঙ্গবন্ধু হাইটেক সিটি থেকে মাত্র ১০০ গজ দূরে নির্মিত। এতে রয়েছে একক প্ল্যাটফর্ম, একটি লুপ লাইন ও আধুনিক সিগন্যাল ব্যবস্থার মতো সুবিধাসমূহ। ২০১৮ সালে উদ্বোধনের পর এখান থেকে মাত্র একটি ডেমু ট্রেন চলাচল করতো। সে ট্রেনও করোনাকালে বন্ধ হয়ে যায়। এছাড়াও বিভিন্ন সময় এ স্টেশনে ট্রেন থামানোর দাবিতে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেন এলাকাবাসী। তাদের দাবিতে এ স্টেশনে থামানো হতো টাঙ্গাইল কমিউটার ও সিরাজগঞ্জ এক্সপ্রেস। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনের পর নানা কারণে এখন সে দুটি ট্রেনও বন্ধ। অথচ এই স্টেশন হয়ে ঢাকা থেকে টাঙ্গাইল ও উত্তরবঙ্গের পথে ৪০টি ট্রেন চলাচল করে। মূলত যাত্রী না পাওয়ায় এসব ট্রেন এই স্টেশনে থামানো হয় না। ফলে বঙ্গবন্ধু হাইটেক সিটি রেলওয়ে স্টেশনটি এখন অনেকটা অকেজোই পড়ে আছে।
নান্দনিক ষ্টেশানটি অপরাধ চক্রের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদেরও বিনোদনের স্থান ও টিকটক ভিডিওকারদের স্থান হয়ে উঠেছে।
স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বর্তমানে বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তি পোশাক শিল্পের পেশাজীবীদের বৃহৎ অংশই উত্তরবঙ্গ থেকে আসে। রাজধানীর হেমায়েতপুর, সাভার, নবীনগর, ধামরাই, কালামপুর, পল্লীবিদ্যুৎ, বাইপাইল (পশ্চিম আশুলিয়া), রফতানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা, জিরানী, কবিরপুর, গাজীপুরের টঙ্গী থেকে শুরু করে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের দুই পাশের ভোগড়া, কোনাবাড়ী, কাশিমপুর, সফিপুর, চন্দ্রা এলাকায় বাস করছেন লাখ লাখ শ্রমিক। উত্তরবঙ্গের ২৩ জেলার ৬ কোটি মানুষের প্রায় প্রতিটি পরিবারের অন্তত একজন করে কর্মসূত্রে এসব এলাকায় বাস করেন।
এসব এলাকার বাসিন্দাদের যাতায়াতের একমাত্র পথ ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক। সকলেই জানান, কালিয়াকৈরের চন্দ্রা হলো একমাত্র প্রবেশ পথ। এ পথ ধরেই উত্তরবঙ্গের ২৩ জেলার মানুষ রাজধানীতে নানান প্রয়োজনে আসা-যাওয়া করেন। অন্য এলাকার মানুষ এ পথ দিয়েই উত্তরবঙ্গে যাতায়াত করেন।
স্থানীয় এলাকাবাসীর অভিযোগ, এই স্টেশনে কোনো ট্রেন না থামায় সুবিধাবঞ্চিত ঢাকা, গাজীপুর, কালিয়াকৈর, সাভারসহ উত্তবঙ্গের মানুষ। ফলে স্টেশনটি তাদের কোনো কাজে আসছে না। ট্রেনের অভাবে স্টেশন থেকে ফিরে যাচ্ছেন যাত্রীরা। এতে তাদের দুর্ভোগ বাড়ছে। দুর্ভোগ লাঘবে এখানে নিয়মিত ট্রেন থামানোর দাবি জানিয়েছেন তারা।
এদিকে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার না থাকায় এখানে চুরি, ছিনতাই, মাদকের আখড়াসহ বিভিন্ন অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে। চুরি হয়ে যাচ্ছে স্টেশনটির বিভিন্ন মালামাল।
এব্যাপারে বঙ্গবন্ধু হাইটেক সিটি রেলস্টেশনের স্টেশন মাস্টার মো.খায়রুল ইসলাম জানান, এই রুট দিয়ে চলাচল করে ২০ জোড়া (৪০টি) ট্রেন। কিন্তু বিশাল এই স্টেশনে স্টপেজ মাত্র দুটি লোকাল ট্রেনের। এগুলোর একটি টাঙ্গাইল কমিউটার, অপরটি সিরাজগঞ্জ এক্সপ্রেস যা বর্তমানে বন্ধ রয়েছে। এই স্টেশনে কর্মরত আছে মাত্র দু’জন। নেই রেলওয়ে পুলিশসহ অন্য কোনো লোকবল। তাই সন্ধ্যা হলে পুরো ষ্টেশানজুড়ে নিরাপত্তাহীন পড়ে।
রেলওয়ে সূত্রে জানা যায়, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন ভাতা, রক্ষণাবেক্ষণসহ এই স্টেশনের পিছনে বছরে ব্যয় হচ্ছে ৩০ লাখ টাকার বেশি। তার বিপরীতে বছরে গড় আয় হচ্ছে সোয়া ৯ লাখ টাকা।